আমার লেখার শিরোনাম দেখে অনেকেই আঁতকে উঠেছেন হয়তোবা। গতকাল ইউটিউব এ একটা ভিডিও দেখলাম আর তাতে এক বোন ১৪ই এপ্রিলের লজ্জাজনক ঘটনার প্রতিবাদ স্বরূপ কিছু কথা বলেছেন, যেমন উনি নারীদেরকে ব্যাগে কনডম রাখার এবং নিজেদেরকে জেগে উঠার জন্য উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন।আর উনি সমগ্র পুরুষ জাতিকে নারীদেরকে পর্দা করার আগে তাদেরকে সংযত হবার কথাও বলেছেন।
আমি এখন উনার কথার সাথে একমত এবং ভিন্নমত হয়ে বিষয়টা দেখতে চাই। আমি একজন মুসলিম তাই পবিত্র কোরআন এর একটা উদ্ধৃতি দিয়ে শুরু করতেছি সূরা নূরের ৩০ নং আয়াতে বলা হয়েছে “মুমিনদেরকে বলো তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে হেফাযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানকে হেফাযত করে” এখানে নারী এবং পুরুষ উভায়ের পর্দা করার কথা বলা হয়েছে। পৃথিবীর প্রতিটা প্রধান ধর্ম গ্রন্থে মেয়ে এবং পুরুষ উভায়ের পর্দার কথা বলা হয়েছে। কুরআন,বেদ,গীতা,রামায়ণ,বাইবেল সব গ্রন্থেই আমাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখার কথা বলা হয়েছে।
কিন্তু বোন আমার কাছে কেন যেন পর্দা করাটাই অধিক জরুরী মনে হয় সে প্রসঙ্গে আল্লহতালা সূরা আহজাবের ৫৯ নং আয়াতে বলেছেন “ হে নবী!তুমি তোমার স্ত্রীগণকে ও মুমিন নারীগণকে বলো,তারা যেন নিজেদের উপর চাদরের আঁচল ঝুলিয়ে দেয়। ফলে তাদেরকে চিনতে পারা যাবে এবং উত্যক্ত করা হবে না।” ধরুন ঢাকার কনো এক রাস্তাদিয়ে দুই সহোদর বোন হেঁটে যাচ্ছে তাদের একজনের ইসলামিক হিজাব পরা,আর অন্য জনের আধুনিক মিনি স্কাট পরা। আর কিছু খারাপ ছেলেরা মেয়েদেরকে উত্যক্ত করার জন্য পথে দাঁড়িয়ে আছে। এখন আপনি বলুন ছেলে গুলা কাকে উত্যক্ত করবে?এটাই স্বাভাবিক মিনি স্কাট পরা বোনটাকেই উত্যক্ত করবে।
যারা কঠোর যুক্তিবাদী তাদের জন্য বলি কিছু দিন আগে যুক্তরাজ্যর Pet People ম্যাগাজিনে ২০১৪ সালের এক জরিপে বলা হয়েছিলো যে South Africa: প্রতি ১০ লক্ষ নারীতে ১২৯০ জন ধর্ষিত হয়। হয়। U.S.A: প্রতি ১০ লক্ষ নারীতে ১২০০ জন নারী ধর্ষিত হয়। Australia: প্রতি ১০ লক্ষ নারীতে ৯১৩ জন ধর্ষিত হয়।Canada: প্রতি ১০ লক্ষ নারীতে ৮৮৭ জন নারী ধর্ষিত হয়।Zimbabwe: প্রতি ১০ লক্ষ নারীতে ৬৫৭ জন নারী ধর্ষিত হয়। অন্যদিকে বিশ্বের যে সকল দেশে ধর্ষণের ঘটনা অপেক্ষাকৃত কম ঘটে তার একটা তালিকা প্রকাশ করেছিলো তারা,ঐ তালিকার তথ্য মতে Saudi Arabia: এখানে প্রতি ১০লক্ষ নারীতে ২ জন ধর্ষিত হয়। এখানে ইসলামিক শরিয়া আইন মেনে চলে। মেয়েদের পর্দা না করে বের হওয়া মানা। Azerbaijan: প্রতি ১০ লক্ষ নারীতে ৩ জন ধর্ষিত হয়। মেয়েদের পর্দা আবশ্যক।Yemen: প্রতি ১০ লক্ষ নারীতে ৪ জন ধর্ষিত হয়। মেয়েদের পর্দা আবশ্যক। Indonesia: প্রতি ১০লক্ষ নারীতে ৫ জন ধর্ষিত হয়। মেয়েদের পর্দা আবশ্যক । Oman: প্রতি ১০ লক্ষ নারীতে ১৮ জন ধর্ষিত হয়। মেয়েদের পর্দা আবশ্যক। আমি অস্বীকার করতেছিনা যে পর্দা করার পরও আমাদের বোনরা লাঞ্ছিত হচ্ছে আর ঐ সকল পুরুষ নামের পশুদের কাছে নরমাংসের গন্ধই যথেষ্ট। তাদের নিয়ে কিছু বলার নাই।
বিশ্ব খ্যাত সাগা ম্যাগাজিনের একদল সাংবাদিক ২০১৪ সালের এপ্রিলে বিশ্বের ৫৭টা দেশের প্রায় ১১ লক্ষ নারীদের কাছে প্রস্ন করেছিলো ধর্ষণের প্রধান কারন কি হতে পারে, সেখানে প্রায় ৫৯ শতাংশ নারীই মেয়েদের পর্দা না করাকে দায়ী করেছিলো। ২০১৩ এফবিআই এর রিপোর্ট অনুযায়ী আমেরিকাতে প্রতি ১.৩ মিনিটে একটা ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।তার মানে আমি এই আরটিকেলটা লেখা কালিন সময়ে শুধু আমেরিকাতেই ৮৯ জন নারী ধর্ষিত হয়েছেন। আমেরিকার এক সমাজ কর্মী অ্যালেন লজয় যিনি নিজেই ধর্ষিত হয়েছিলেন তার প্রেমিকের বন্ধুদের দ্বারা,তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যদি প্রতিটা নারী পর্দা করে তাহলে ধর্ষণের ঘটনা ৯৫ শতাংশ কমে যাবে। আজকাল মেয়েরা মনে করে যে পর্দা করা মানেই হচ্ছে তাদের স্বাধীনতাকে হরণ করা। তাঁদেরকে বলি আজকের এই স্বাধীনচেতা পশ্চিমারা মেয়েদেরকে স্বাধীনতা দেবার নামে তাদের সম্ভ্রম কেড়ে নেয়। আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট Bill Clinton ১৯৯৭ সালে ৯০ জন নারীকে প্রথমবারের মতো সেই দেশের সেনাবাহিনীর চাকরি দিয়েছিলো। আর ১৯৯৯ সালের জানুয়ারি মাসে Women’s Day ম্যাগাজিনে একটা সংবাদে বলা হয়েছিলো ঐ ৯০ জন নারীর ৮৬ জনই তাদের বসের কাছে ধর্ষিত হয়েছিলো ।
কিছুদিন Protest against rape in Argentina শিরোনামে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এক ভদ্র মহিলা প্ল্যাকার্ড হাতে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন,আর ঐ প্ল্যাকার্ডে এবং তার বুকে লাল কালি দিয়ে লেখাছিল, It’s my hot body,I do what I want!!!! ঠিক যেমনটা বাংলাদেশের একজন মহিলা রাজনীতিবিদ সিগমা হুদা প্রেস ক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন “আমার শরীর আমি দিব যাকে খুশি তাকে দিব” আমি তাদের এই বাকস্বাধীনতার প্রতি পূর্ণ সন্মান করার পরও বলতে চাই বোন বাকস্বাধীনতা মানে এই না যে আপনি সামাজিক অবস্থানকে উপেক্ষা করে উস্কানি মূলক কথার মাধ্যমে অন্যর মধ্য অপরাধ প্রবণতাকে জাগিয়ে তুলবেন।তাই আমি আমার বোনদেরকে এবং ভাইদেরকে বলতে চাই কনডম না পর্দাই আমাদেরকে শান্তির পৃথিবী দিতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১৫ রাত ১:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




