somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কনডম না পর্দা

১২ ই জুন, ২০১৫ রাত ১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার লেখার শিরোনাম দেখে অনেকেই আঁতকে উঠেছেন হয়তোবা। গতকাল ইউটিউব এ একটা ভিডিও দেখলাম আর তাতে এক বোন ১৪ই এপ্রিলের লজ্জাজনক ঘটনার প্রতিবাদ স্বরূপ কিছু কথা বলেছেন, যেমন উনি নারীদেরকে ব্যাগে কনডম রাখার এবং নিজেদেরকে জেগে উঠার জন্য উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন।আর উনি সমগ্র পুরুষ জাতিকে নারীদেরকে পর্দা করার আগে তাদেরকে সংযত হবার কথাও বলেছেন।
আমি এখন উনার কথার সাথে একমত এবং ভিন্নমত হয়ে বিষয়টা দেখতে চাই। আমি একজন মুসলিম তাই পবিত্র কোরআন এর একটা উদ্ধৃতি দিয়ে শুরু করতেছি সূরা নূরের ৩০ নং আয়াতে বলা হয়েছে “মুমিনদেরকে বলো তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে হেফাযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানকে হেফাযত করে” এখানে নারী এবং পুরুষ উভায়ের পর্দা করার কথা বলা হয়েছে। পৃথিবীর প্রতিটা প্রধান ধর্ম গ্রন্থে মেয়ে এবং পুরুষ উভায়ের পর্দার কথা বলা হয়েছে। কুরআন,বেদ,গীতা,রামায়ণ,বাইবেল সব গ্রন্থেই আমাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখার কথা বলা হয়েছে।
কিন্তু বোন আমার কাছে কেন যেন পর্দা করাটাই অধিক জরুরী মনে হয় সে প্রসঙ্গে আল্লহতালা সূরা আহজাবের ৫৯ নং আয়াতে বলেছেন “ হে নবী!তুমি তোমার স্ত্রীগণকে ও মুমিন নারীগণকে বলো,তারা যেন নিজেদের উপর চাদরের আঁচল ঝুলিয়ে দেয়। ফলে তাদেরকে চিনতে পারা যাবে এবং উত্যক্ত করা হবে না।” ধরুন ঢাকার কনো এক রাস্তাদিয়ে দুই সহোদর বোন হেঁটে যাচ্ছে তাদের একজনের ইসলামিক হিজাব পরা,আর অন্য জনের আধুনিক মিনি স্কাট পরা। আর কিছু খারাপ ছেলেরা মেয়েদেরকে উত্যক্ত করার জন্য পথে দাঁড়িয়ে আছে। এখন আপনি বলুন ছেলে গুলা কাকে উত্যক্ত করবে?এটাই স্বাভাবিক মিনি স্কাট পরা বোনটাকেই উত্যক্ত করবে।
যারা কঠোর যুক্তিবাদী তাদের জন্য বলি কিছু দিন আগে যুক্তরাজ্যর Pet People ম্যাগাজিনে ২০১৪ সালের এক জরিপে বলা হয়েছিলো যে South Africa: প্রতি ১০ লক্ষ নারীতে ১২৯০ জন ধর্ষিত হয়। হয়। U.S.A: প্রতি ১০ লক্ষ নারীতে ১২০০ জন নারী ধর্ষিত হয়। Australia: প্রতি ১০ লক্ষ নারীতে ৯১৩ জন ধর্ষিত হয়।Canada: প্রতি ১০ লক্ষ নারীতে ৮৮৭ জন নারী ধর্ষিত হয়।Zimbabwe: প্রতি ১০ লক্ষ নারীতে ৬৫৭ জন নারী ধর্ষিত হয়। অন্যদিকে বিশ্বের যে সকল দেশে ধর্ষণের ঘটনা অপেক্ষাকৃত কম ঘটে তার একটা তালিকা প্রকাশ করেছিলো তারা,ঐ তালিকার তথ্য মতে Saudi Arabia: এখানে প্রতি ১০লক্ষ নারীতে ২ জন ধর্ষিত হয়। এখানে ইসলামিক শরিয়া আইন মেনে চলে। মেয়েদের পর্দা না করে বের হওয়া মানা। Azerbaijan: প্রতি ১০ লক্ষ নারীতে ৩ জন ধর্ষিত হয়। মেয়েদের পর্দা আবশ্যক।Yemen: প্রতি ১০ লক্ষ নারীতে ৪ জন ধর্ষিত হয়। মেয়েদের পর্দা আবশ্যক। Indonesia: প্রতি ১০লক্ষ নারীতে ৫ জন ধর্ষিত হয়। মেয়েদের পর্দা আবশ্যক । Oman: প্রতি ১০ লক্ষ নারীতে ১৮ জন ধর্ষিত হয়। মেয়েদের পর্দা আবশ্যক। আমি অস্বীকার করতেছিনা যে পর্দা করার পরও আমাদের বোনরা লাঞ্ছিত হচ্ছে আর ঐ সকল পুরুষ নামের পশুদের কাছে নরমাংসের গন্ধই যথেষ্ট। তাদের নিয়ে কিছু বলার নাই।
বিশ্ব খ্যাত সাগা ম্যাগাজিনের একদল সাংবাদিক ২০১৪ সালের এপ্রিলে বিশ্বের ৫৭টা দেশের প্রায় ১১ লক্ষ নারীদের কাছে প্রস্ন করেছিলো ধর্ষণের প্রধান কারন কি হতে পারে, সেখানে প্রায় ৫৯ শতাংশ নারীই মেয়েদের পর্দা না করাকে দায়ী করেছিলো। ২০১৩ এফবিআই এর রিপোর্ট অনুযায়ী আমেরিকাতে প্রতি ১.৩ মিনিটে একটা ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।তার মানে আমি এই আরটিকেলটা লেখা কালিন সময়ে শুধু আমেরিকাতেই ৮৯ জন নারী ধর্ষিত হয়েছেন। আমেরিকার এক সমাজ কর্মী অ্যালেন লজয় যিনি নিজেই ধর্ষিত হয়েছিলেন তার প্রেমিকের বন্ধুদের দ্বারা,তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যদি প্রতিটা নারী পর্দা করে তাহলে ধর্ষণের ঘটনা ৯৫ শতাংশ কমে যাবে। আজকাল মেয়েরা মনে করে যে পর্দা করা মানেই হচ্ছে তাদের স্বাধীনতাকে হরণ করা। তাঁদেরকে বলি আজকের এই স্বাধীনচেতা পশ্চিমারা মেয়েদেরকে স্বাধীনতা দেবার নামে তাদের সম্ভ্রম কেড়ে নেয়। আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট Bill Clinton ১৯৯৭ সালে ৯০ জন নারীকে প্রথমবারের মতো সেই দেশের সেনাবাহিনীর চাকরি দিয়েছিলো। আর ১৯৯৯ সালের জানুয়ারি মাসে Women’s Day ম্যাগাজিনে একটা সংবাদে বলা হয়েছিলো ঐ ৯০ জন নারীর ৮৬ জনই তাদের বসের কাছে ধর্ষিত হয়েছিলো ।
কিছুদিন Protest against rape in Argentina শিরোনামে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এক ভদ্র মহিলা প্ল্যাকার্ড হাতে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন,আর ঐ প্ল্যাকার্ডে এবং তার বুকে লাল কালি দিয়ে লেখাছিল, It’s my hot body,I do what I want!!!! ঠিক যেমনটা বাংলাদেশের একজন মহিলা রাজনীতিবিদ সিগমা হুদা প্রেস ক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন “আমার শরীর আমি দিব যাকে খুশি তাকে দিব” আমি তাদের এই বাকস্বাধীনতার প্রতি পূর্ণ সন্মান করার পরও বলতে চাই বোন বাকস্বাধীনতা মানে এই না যে আপনি সামাজিক অবস্থানকে উপেক্ষা করে উস্কানি মূলক কথার মাধ্যমে অন্যর মধ্য অপরাধ প্রবণতাকে জাগিয়ে তুলবেন।তাই আমি আমার বোনদেরকে এবং ভাইদেরকে বলতে চাই কনডম না পর্দাই আমাদেরকে শান্তির পৃথিবী দিতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১৫ রাত ১:১৬
৮টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোর্টাল – ২ গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৭


তখন বেশ ঠান্ডা পড়ে গেছে। সেপ্টেম্বরের রাত।
বরফ পড়া শুরু হয়নি। মন্ট্রিয়লের রাস্তা জনাকীর্ণ। বাড়ি থেকে বের হলে কো-দ্যেনিশ রাস্তার শেষ প্রান্তে একটা লাইব্রেরি আছে। তার পরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×