somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসার বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণঃ ভালোবাসা বলতে কিছু নেই, সবই হরমোনের খেলা

২০ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৯:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা অনুভূতির কথা বলি, যে অনুভূতি সবাইকে প্রায় সমান ভাবে নাড়া দেয়। এড়িয়ে যাবার উপায় নেই কারও। নাম তার ভালোবাসা। কেউ বৃক্ষ ভালোবাসে,কেউ জীব-জন্তু,কেউবা প্রকৃতি। জাগতিক সব ভালোবাসার উর্দ্ধে মা বাবার প্রতি ভালোবাসা। ভালোবাসার ব্যাপ্তি এতই বিশাল যে সারা জীবন ব্যয় করেও এর সীমা পরিসীমা নির্ধারণ করা কঠিন। তাই আমার লেখাতে মানব- মানবীর ভালবাসাকেই প্রাধন্য দিলাম।
ভালোবাসার সংজ্ঞা কি?এটা এক একজনের কাছে এক এক রকম। কেউবা এটাকে একজনের সাথে অন্য জনের মনের মিল বা টান বা অনুভূতি তেই সীমাবদ্ধ করেছে, কেউবা আবার এটাকে এক কাপ চায়ের সাথে তুলনা করেছে। কেউবা এটাকে গিভ অর টেকেন হিসাবে নিয়েছে। কেউবা এটাকে আত্মার টান বলে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করেছেন। পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে আজ পর্যন্ত কেউ ভালোবাসার চিরন্তন সংজ্ঞা দাড় করাতে পারেননি। কিন্তু বিজ্ঞান ? না বিজ্ঞানও ভালোবাসার কনো সংজ্ঞা দাড় করাতে পারেনি, কিন্তু দেখিয়েছে আসলে এটা একটা হরমোনের খেলা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইন্সিটিউট অফ হার্টম্যাথ টানা ২০ বছর ধরে গবেষণা করে দেখিয়েছে যে মানুষের হৃদয় থেকে একধরনের ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক ফিল্ড নিগৃত হয়। কখনো কখনো মানুষের শরীরের চতুর্দিকে কয়েক ফুট পর্যন্ত এই তড়িৎ চিহ্নের রেশ পাওয়া যায়। এর সীমানা নির্ভর করে আবেগের ধরনের উপর। স্বাভাবিক ভাবে দেখা যায় যে প্রেমে পড়লে মানুষের গাল লাল হয়ে যায়,হাতের তালু ঘামতে থাকে,হৃদ পন্দনের গতি বেড়ে যায় এইসব দৃশ্যমান লক্ষণ।কিন্তু বিজ্ঞানীদের নজর আরও গভীরে। তাতে দেখা গেছে এমন অবস্তাতে মানুষের শরীরের গভীরে বেশ কিছু রাসায়নিক পরিবর্তন আসে । আর এতে কলকাঠি নাড়ে কয়েক ধরনের হরমোন।
প্রেমের প্রথম ধাপ হচ্ছে লালসা । প্রেমে পড়ার সাথে সাথে টেক্সঅরেন আর অক্সসফরেন নামের দুইটি হরমোন সামনা সামনি চলে আসে।আর এই দুইটি হরমোন মানুষকে এমন ভাবে তাড়িত করে যাকে এক কথায় লালসা বলা যায়। এর প্রভাবে মানুষ মরিয়া আচারন করতে পারে। এটা মহানুভাবিতা হতে পারে আবার হিংস্রতাও হতে পারে।
প্রেমের দ্বিতীয় ধাপ হচ্ছে আকর্ষণ। এ পর্যায়ে সামনে চলে আসে মনোমায়িন নামের একগুচ্ছ স্নায়ু কোষ। এর একটি ডপামিয়ন। অবাক ব্যাপার হলো কোকেন বা নিকোটিন নিলে এই হরমোন যেমন সাড়া দেয় তেমন প্রেমে পরলেও একই ভাবে সাড়া দেয়। এরপর বলায় যেতে পারে যে প্রেমে পড়াটা একধরণের নেশায় আসক্ত হয়ে যাবার মতো। এডরানালিনেরও ভূমিকা আছে তবে সেরটারিনেরও কথা বলতে হবে। এই হরমোনের প্রভাবে মানুষ সাময়িক ভাবে প্রকৃত অর্থে পাগলও হয়ে যেতে পারে।
প্রেমের তৃতীয় ধাপ সম্পৃক্ততা। বিশেষজ্ঞরা বলেন যে,মানুষ কখনো আকর্ষণ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না । এই ধাপে এসে মানুষ বিয়ে থেকে সংসার পর্যন্ত স্বপ্ন দেখে। তবে এই স্বপ্নের স্থায়িত্ব হবার জন্য দুটি হরমোনের কৃতিত্ব দিতেই হয়। এর একটা হপক্সিডিন আর অন্যটি অক্সডিটিন। যার ফলে মায়ের সাথে সন্তানের সম্পর্ক বা বাঁধন তৈরি হয়। প্রেমের ক্ষেত্রে মানুষ জীন ধারাও প্রভাবিত হয় । তবে একটা কথা না বললেই নয় ,এক গবেষণায় দেখা গেছে যে অসুস্থতায় মানুষের ব্রেন যেমন কাজ করে,প্রেমে পড়ার ফলে মানুষের ব্রেন একই ভাবে কাজ করে।
বিজ্ঞান উৎকর্ষতার এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে জীনের তথ্য বিশ্লেষণ করে নাকি বলা যায় করোর সাথে কারোর সম্পর্ক স্থায়ী হবে কি হবে না। প্রেমের ফলে ট্রয় নগরী ধ্বংস থেকে শুরু করে মানব সভ্যতা সৃষ্টির নিদর্শনও কম নয়। পরিশেষে বলতে চাই হরমোনের এই খেলায় বোধ করি মানুষের আনন্দটুকুও কম নয়। তাই বেঁচে থাক প্রেম বেঁচে থাক ভালোবাসা।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৯:৪২
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭ নভেম্বরঃ যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা সেতু চালুই কি বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের একমাত্র কারণ? নাকি প্রশাসনিক স্থবিরতার মাশুল?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেই দিনের কথা ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিশুদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল, দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×