somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুরুষ নামক সার্টিফিকেট

১৯ শে নভেম্বর, ২০১৬ রাত ২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই ধরণীতে পুরুষ হয়ে জন্ম নিলেই একটা লটারি জিতে গেলেন। লটারি জিতে তারপর আসলেন এই ধরাধামে।বেশ কিছু সার্টিফিকেট পেয়ে যাবেন জন্মের পরপরেই।যেগুলা সারা জীবন ধরে ব্যাবহার করে যেতে পারবেন।নেহায়েত কোন প্রবল বাতিক গ্রস্থ পরিবার না হলে আপনার আগমন হবে পুরো পরিবারের জন্য আনন্দের চরম এক উপলক্ষ।সামর্থ্য অনুযায়ী চলবে উৎযাপন। বছর বছর আপনার আগমন দিন কে করা হবে নানা ভাবে রঙ্গিন।ধীরে ধীরে আপনাকে এই সমাজ জানিয়ে দিবে কত সৌভাগ্যবান আপনি যে আপনি পুরুষ হয়ে জন্ম নিয়েছেন। তোয়াজে তোয়াজে আস্তে আস্তে আপনি একদিন পরিপুর্ন পুরুষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন। আর তখনই যে সার্টিফিকেট গুলা আপনি পুরুষ হিসেবে পেয়েছেন তার ব্যাবহার শুরু করবেন।আপনার এক নাম্বার সার্টিফিকেট হচ্ছে আপনার অবাদ বিচরণ ক্ষমতা। যেথা খুশি সেথা যা, সমাজ তাকিয়েও দেখবে না। অজায়গা কুজায়গা থেকে ঘুরে এসেছেন, কুছ পরোয়া নেহি, আপনি পুরুষ পোলা, লাক্স সাবান দিয়ে গোসল করে ফেলেন, আপনি পরিষ্কার।
আপনার আরেকটা সার্টিফিকেট হচ্ছে যত রাতই হোক ঘরে ফেরার অথবা ঘর থেকে বের হওয়ার স্বাধীনতার সার্টিফিকেট।আপনি পুরুষ, কাজেই রাত দুইটার সময়েও বের হতে পারবেন ঘর থেকে, ফিরতে পারবেন যখন ইচ্ছা। সমাজ আপনাকে বলবে না এত রাত করে ফিরছেন কেন? নষ্ট হয়ে গেছেন নাকি?
হরেক রকম সার্টিফিকেট পাবেন আপনি।অশ্লিল ইঙ্গিত না পাওয়ার সার্টিফিকেট পাবেন আপনি। কেউ কোন দিন আপনাকে কু প্রস্তাব দিবে না, রাত করে বাড়ি ফিরছেন কেউ বলবে না ‘ওই যাবি?’ বমি করে দেওয়ার মত এমন কথা আপনাকে শুনতে হবে না। অশ্লীল ইঙ্গিত না পাওয়ার সার্টিফিকেট যেমন আপনি পাবেন তেমনই এর উল্টো সার্টিফিকেটও দেওয়া আছে আপনার নামে। যখন যাকে ইচ্ছা তাকে যা ইচ্ছা তা বলার সার্টিফিকেট আছে আপনার। বিল্ট ইন দিয়ে দেওয়া হয় এ সমাজে।মুখে আসছে বলে ফেলুন একটা মন্তব্য। পাসে আপনার বন্ধুই দাঁত বের করে হাসবে আপনার কথা শুনে। যাকে বললেন তারা আপনা মত সৌভাগ্যবান না, মাথা নিচু করে চলে যাবে সে। যদি মুখে বলেও শান্তি না পান, যদি কিছু করেই ফেলেন তাহলেও সমস্যা নাই। এর থেকে বাঁচার সার্টিফিকেটও সমাজ আপনাকে দিয়ে রেখেছে। সরকারি আইন হয়ত ঝামেলা করবে কিন্তু সমাজ করবে না। সমাজ আপনাকে রক্ষা করার জন্য বলবে, দোষ কি করছে, এমন সব কাপড় পরে এরা, আজ হোক কাল হোক এমন তো হইতই!। কোন ভাবে সরকারি আইন থেকে বাঁচতে পারলে সমাজ আপনাকে ফুলের মালা দিয়ে বরন করে নিবে। পরের দিন আরেক জনের দিকেও মুখে রস আনা একটা মন্তব্য করে দিতে পারবেন,সেই সার্টিফিকেট আপনার আছে।
সার্টিফিকেটের শেষ নাই। মনে করলেন আপনি বিয়ে করবেন। ব্যাস, বিয়ে করবেন ইচ্ছা পোষণ করছেন এ টুকুই যথেষ্ট। সমাজ বাকি সব দেখবে। আপনি আল বাল কিছুই না শুধু মাত্র পুরুষ, চলবে কোন সমস্যা নাই। ঘটকের লাইন লেগে যাবে। একটা মন মত দেখে বিয়ে করে ফেলবেন। দেখবেন যে সেখানেও আপনার আছে দারুন সব সার্টিফিকেট।গরুর মত করে হাঁটিয়ে নাচিয়ে, মেজে ঘসে ইচ্ছা মত দেখে শুনে পছন্দ করতে পারবেন, এই চমৎকার সার্টিফিকেট আপনি পুরুষ হয়ে জন্মেই পেয়ে গেছেন।
বিয়ে করেছেন কিন্তু দুই দিনের মাথায় বা বিয়ের দিনই আপনার মনে হলো ঠিক পছন্দ হচ্ছে না,চাল চলন জানি কেমন!বাতিল করে দিন। কোন সমস্যা নাই। আপনার চিন্তা কি? আপনার সার্টিফিকেট তো আছেই।সার্টিফিকেটের জোরে যখন ইচ্ছা বলে দিন, ইউ আউট!!। একে বাদ দিয়ে আরেকটা বিয়ে করে ফেলবেন।দোষ আপনার ছিল বলে ছেড়ে চলে গেছে? ধুর মশাই, কোন দিনই আপনার দোষ হবে না। আপনার কোন দোষ নাই এই সার্টিফিকেটও তো আপনার আছেই, চিন্তা কি আপনার। যে ছেড়ে চলে গেছে তার জন্য দেখেন কি কি বোম শেল অপেক্ষা করছে!আপনার সমস্ত দোষ নিজের ঘাড়ে নিয়ে বাকি জীবন কাটাবে, আপনি মশাই নিশ্চিন্তে থাকুন।
আপনি পুরুষ শুধু এই সার্টিফিকেটের জোরে আপনি সমাজের গার্জিয়ান হয়ে যেতে পারবেন। কি বলতে চান বলে ফেলুন, কোন সমস্যা নেই। বলে দিন অমুকের চলন বলন ঠিক নাই, অমুক পর্দা করে না, তমুক হাঁটলে শরির বেশি দুলে!! বলে ফেলুন, সমাজ আপনাকে তো সার্টিফিকেট দিয়েই রেখেছে।
সমাজের মাথা আপনি।দেশ চালাচ্ছে অন্য কেউ কিন্তু সমাজ চালাচ্ছেন আপনি।দেশের মাথা হলেই কি আর সমাজের মাথা হওয়া যায়?
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে নভেম্বর, ২০১৬ রাত ২:০৪
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বঙ্গভঙ্গ থেকে চব্বিশ, পূর্ব বাংলার ইতিহাস ও বাংলাদেশের আত্মপরিচয়

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বর্তমান সময়ে একটি বিরাট পরিবর্তনের ধাক্কা লেগেছে যা এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর এবং আত্মোপলব্ধির ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘ পনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানল পত্রিকা পড়ে: তাহলে দূতাবাসের কাজটা কী?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:১১

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানল পত্রিকা পড়ে: তাহলে দূতাবাসের কাজটা কী?

১৪ অক্টোবর মক্কায় দুজন বাংলাদেশি নাগরিকের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। তাঁদের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×