somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবন রহস্য - শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

১২ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পাঠ প্রতিক্রিয়া লেখা আগে বই থেকে কয়েকটা লাইন বর্ণনা করি। কি জিনিস নিয়ে কথা বলছি বুঝতে সহজ হবে।
শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়দের বাড়িতে বঙ্গোপসাগরের উপকূল থেকে দুইজন লোক এসেছে। তারা এবং তৎকালীন গ্রামিন সমাজ কোথায় ছিল তার নমুনা লেখক দিয়েছেন এভাবে -
“বাবা যে বঙ্গোপসাগরের তীরে পৃথিবীর কি আদিম জায়গা থেকে আদায় করে ফিরতেন তা আজ বুঝি। পর দিন ঘুম ভেঙ্গে উঠে হাসিম আর দবির তনুদাকে ছাদে দেখে অবাক। বারবার জানতে চাইল, ওখানে কি করে উঠা যায়?
ওদের অবাক হওয়ায় আমরা অবাক।
মা বলল, কেন? মই দিয়ে উঠছে তনু!
একতলা বাড়ির ছাদে উঠার কোন সিঁড়ি ছিল না।
আমাদের এট্টু ওঠাবেন?
ওঠানো হল। উঠে কি হাঁসি সারা মুখে দুজিনের!
ওপর থেকে পৃথিবীর পুকুর, গাছপালা, মানুষ, বিড়াল, সজনে গাছ দেখতে পেয়ে আনন্দ আর ধরে না ওদের। ওখান থেকেই দবির ভাই বলল, বিকালেও এট্টু ওঠব।
মা বলল, বেশ তো।
কিন্তু বিকালে আর ছাদে উঠা হল না। কেননা তার আগেই ওরা পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্য আবিস্কার করে বসে আছে।
বাবার বিয়ের ডিম ডিম চেহারার একখানা পারা- ওঠা আয়না। দাদামশায় দিয়েছিলেন। সেখানায় নিজের মুখ দেখে হাসিম ভাই গম্ভির হয়ে জানতে চাইল, ওডা কেডা?
দবির ভাই পাসে ছিল। সে এগিয়ে বলল, কই? দেখি?
মা বলল, বারান্দায় নিয়ে গিয়ে দ্যাখো।
আয়নাখানা বারান্দায় নিয়ে গিয়ে ওরা তো অবাক ! আয়নার পিছনে তো কেউ নেই ! তাহলে?
তনুদা - আমি - আমরা তো আরও অবাক।”

শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত আত্মজীবনী “জীবন রহস্য” থেকে উপরের লাইন গুলো দিলাম। আত্মজীবনী লেখার ক্ষেত্রে বাঙালি নাকি ফেরেশতার হাতে শয়তানের আত্মজীবনী লেখে। আমার কথা না হুমায়ুন আজাদের কথা। জীবন রহস্যে লেখক কিন্তু তা করেন নাই। নিজেকে নিয়ে বা নিজ পরিবার নিয়ে এমন ব্যাঙ্গ করা সোজা কথা না। শিবরাম কে দেখেছি আর শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় কে দেখলাম। শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় তার আত্মজীবনীতে নিজেকে এক ফোটা ছাড় দেন নাই। যা ঘটনা তাই লিখেছেন তার বইয়ে। নিজের বাবা ঘুষ খান তা স্বীকার করে নিয়েছেন প্রথমেই। এবং কিভাবে খান, এর তরিকা কি তাও এক বিস্তর ব্যাপার। উনার মা যে ঘুষের টাকা রাখার জন্য জামায় আলাদা কর পকেট বানিয়ে দিয়েছিলেন তাও তিনি বলে গেছেন অকপটে।
বাংলাদেশের খুলনা জেলায় জন্ম। অনেক ভাই বোনের মাঝে তিনি একজন। তিনি বইয়ে উল্লেখ্য করেন নাই যে উনারা কয় ভাই বোন। কিন্তু এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করেছেন যে বুঝা যায় তা নেহায়েত কম না। আশ্চর্য পরিবারের গল্প যেন সিনামার মত করে বলে গেছেন লেখক। গ্রামিন সমাজের কথা যেন চোখের সামনে জীবন্ত করে এনে ফেলেছেন।
দেশ ভাগ হওয়ার সময় কলকাতা এসে পরেছেন । দেশ ভাগের তীব্রতা অতটা পরে নি উনার জীবনে। মোটামুটি ঝামেলা ছাড়াই মানিয়ে নিতে পেরেছিলেন দেশ ভাগ। বড় ভাই আগে থেকেই কলকাতায় থাকার ফলে উনারা এই সুবিধা পান।
কি নাই উনার এই আত্মজীবনীতে? তৎকালীন সমাজের কথা তো বললামই। ইতিহাস আছে আর আছে হিউমার। প্রতি লাইনে লাইনে উনার হিউমারের ছড়াছড়ি। নিজেকে নিয়ে বা অন্য কে নিয়ে, জটিল কথা হাস্যরসের মাধ্যমে এমন ভাবে বলেছেন যে পাঠক দ্বিধায় পরে যাবে হাঁসা উচিত নাকি কাঁদা? রূঢ় বাস্তবতা কে তুলে ধরেছেন ব্যাঙ্গের মাধ্যমে। আর পুরো আত্মজীবনী জুড়ে আছে জীবনের কথা। রসিকতার ছলে জীবনের কুৎসিত দিকের কথা বলে গেছেন অম্লানে। যা আমাদের কে বারবার ভাবায়, বারবার প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়।
আগা গোঁড়া চমৎকার একটা বই জীবন রহস্য। কখনো পেটে খিল ধরে যাবে পড়তে পড়তে। কখনো হতভম্ব হয়ে যেতে হবে জীবনের রসিকতা দেখা। বইয়ের একটা সমস্যা মনে হয়েছে লেখক আরও বড় পরিসরে লেখার নিয়তে বসে ছিলেন কিন্তু যে কারনেই হোক তিনি একদিন ভেবে দেখলেন অনেক লিখে ফেলেছি, আর কত! হুট করে শেষ করে দিলেন উনার জীবনী। ঠিক হুট করে না, মাঝামাঝি পর্যায় থেকেই হঠাৎ শেষের দিকে হাটা শুরু করে দিলেন। কলকাতায় উনার পরিবারের বর্ণনা বিশেষ করে উনার বাবার কথা নাই বললেই চলে। যে মেয়ের কারনে উনি দুই দিন অন্যের বাড়িতে কাজের লোক হিসেবে কাজ করেছেন তার কথা আর কোথাও খুঁজে পেলাম না। তারপরেও জীবন রহস্য নিঃসন্দেহে চেটেপুটে খাওয়ার মত একটা বই। একবার না বারবার পড়ার মত বই জীবন রহস্য।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুলাই, ২০১৭ রাত ২:০৪
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রিয়েলিটি আপনারা মাইনে নেন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩০



নরেন্দ্র মোদীকে আপনি যতই অপছন্দ করেন না কেন, তার একটা একটা প্রশংসনীয় গুণ আছে। সে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ নিতে এবং সেই অনুযায়ী নিজের অপছন্দের কাজটা করতেও পিছপা হয় না।
সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এভাবেই নাকি এখন চলে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



চাবি সহযোগে তালা খোলা অতিশয় সহজ
কিন্তু আজকাল প্রায়শই গুলিয়ে ফেলি তালগোল!
এটা নিয়ে নিত্য বাহাসে ভেঙে যায় পাখিদের পার্লামেন্ট!
অতঃপর গোপনে সেরে ফেলি সহজ বোঝাপড়া!

প্রতিদিন যে পথে আসি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Dr. Jahangir kabir স্যারের কোন পরামর্শ বা উপদেশ নতুন কিছু না।

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:২৬

Dr. Jahangir kabir স্যারের কোন পরামর্শ বা উপদেশ নতুন কিছু না। আর এগুলো কোন কিছুই তার বানানো না। একেকটির বয়স শত বছর থেকে কিছুর ইতিহাস হাজার বছরের ও।
যদিও সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নদীর টানে, সবুজের গানে

লিখেছেন মাকার মাহিতা, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৫

বয়ে চলে নদী দূর হতে দূরে,
অনন্তকালের শান্ত এক সুরে।
তার দুই কূলে রূপের মেলা,
সবুজ প্রকৃতির মিষ্টি খেলা।
হাওয়ায় দোলে ঘাস আর বন,
আকাশের সাথে মেলায় মন।
নদীর জলে আলোর ঝিলিক,
বাতাসে মেশে পাখির কিচিরমিচির।
গাছের ছায়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

"এ ট্রাজেডি অর ট্রাজেক্টরি অফ লাভ" (পর্ব-৩)

লিখেছেন তাহমিদ রহমান, ২৬ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:০৩

৩. নিষিদ্ধ স্বর্গ


পরদিন দুপুরবেলা। ইলির আকাশ আজ কিছুটা পরিষ্কার, মেঘের ফাঁক দিয়ে ফ্যাকাশে রোদ উঁকি দিচ্ছে।
ক্লারা তার ট্রাভেল এজেন্সির অফিসের ডেস্কে বসে কফি খাচ্ছিল। গতকাল ব্যাংকের সেই তরুণ এশীয় অফিসারটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×