somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক ভাগ্যাহত "মরু শিয়াল"......

০২ রা মে, ২০১১ সকাল ৭:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আরভিন জোহানস ইগান রোমেল সামরিক ইতিহাসের অন্যতম সেরা জেনারেল বলা হয় তাকে।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের প্রিয় জেনারেল ছিলেন এবং ১৯৪০ সালে ফ্রান্স ডিফেন্স লাইন চুরমার করে দেয়ার নায়ক এই জেনেরাল। উত্তর আফ্রিকার যুদ্ধে তার কৌশলগত প্রতিভার জয়,সেনাদের মন বল চাঙ্গা রাখা, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং যুদ্ধ জয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ হিটলার তাকে ফিল্ড মার্শাল এ ভূষিত করেন,এবং মরুর যুদ্ধে অসামান্য সফলতার জন্য তাকে "মরুর শিয়াল"নামে সুপরিচিত হয়ে ওঠেন। ১৯৪৩ সালে ইউরোপ কে রক্ষা ও মিত্রবাহিনীর হামলার জবাব দেয়ার জন্য ফ্রান্সের উপুকূলে এক প্রতিরক্ষাবুহ্য গরে তোলেন ফিল্ড মার্শাল রোমেল।


একই বছরের প্রথমদিকে রোমেল বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে হিটলারের বিশ্ব জয়ের আশা ভেঙ্গে যেতে বসেছে। জার্মানী সফরের সময় মিত্রবাহিনীর অবিরাম বোমাবর্ষণের ফলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং মানবিক বিপর্যয় দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। রোমেল প্রথমবারের মতো নাজী বাহিনী কর্তিক মৃত্য শিবির স্থাপন,দাস শ্রমিক নিযোগ এবং ঢালাও ভাবে ইহুদী নিধন সম্পর্কে জানতে পারেন।তিনি অনুধাবন করতে পারলেন যে জার্মানীর জয় আশা করা এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা তার মাতৃভূমির জন্য বিপর্যয় দেকে আনবে।সেই মুহর্তে রোমেল নাজি বাহিনীর সমমনা হিটলার বিরোধীদের সাথে যোগযোগ স্থাপন করে হিটলার কে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করে মিত্রবাহিনীর সাথে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা করতে লাগলেন।
১৭ ই জুলাই ১৯৪৪ এ ব্রিটিশ বাহিনী তার গাড়িতে বোমাবর্ষণ করলে তিনি আহত হয়ে জার্মানিতে চিকিৎসার জন্য ফিরে আসেন।এর তিনদিন পর হিটলার তার পূর্ব প্রুশিয়ার হেড কুয়ার্টার এ বৈঠকের সময় হিটলারকে হত্যা করার উদ্দ্যেশে বোমা বিস্ফোরণ ঘটালে হিটলার অল্পের জন্য প্রাণে বেচে যান।এই হামলার রক্তক্ষয়ী জবাব দেয়ার জন্য কিছু সন্দেহভাজনদের চিন্হিত করা হই ,যার মধ্যে রোমেল ছিলেন একজন।যদিও তিনি হিটলারে উপর হামলা সম্পর্কে কিছু জানতেন না,কিন্তু তার পরাজিত মনোভাব দেখে তার বিরুদ্ধে পরওয়ানা জারি করতে হিটলারের কোনো বেগ পেতে হইনি।
কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় কিভাবে একজন জনপ্রিয় জার্মান জেনারেলকে জনগনের কাছে দোষী হিসেবে চিন্হিত করানো যায় তা নিয়ে।অবশেষে হিটলার বাহিনী রোমেলকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করার সিদ্ধান্ত নিলেন যাতে জনগণ মনে করে যে রোমেল তার অসুস্থতার কারণে মারা গেছে।
১৪ই অক্টোবার ১৯৪৪ সালে গেস্টাপো বাহিনী তাকে বাড়ি থেকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়. কিছু সময় পর তার বাড়িতে খবর আসে তিনি সায়ানাইড পিল খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০১১ সকাল ৮:১৩
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×