somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রেগে গেলেন তো মরে গেলেন!

২১ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৮:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হলিউডের ছবি ‘অ্যাভেঞ্জার্স’-এ রাগ কমানোর বিদ্যা শিখেছেন হিউ জ্যাকম্যান!শিরোনামটা ঠিকই পড়েছেন। রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন নয়, একদম মরে যাওয়ার কথাই বলা হয়েছে। ট্রাফিক জ্যামে বসে আপনার রাগের চোটে মাথার চুল ছেঁড়ার জোগাড়? অফিসে সহকর্মীদের ওপর সব সময়ই বেজার আপনি? বাড়ি ফিরেও বাচ্চাদের আহ্লাদ-আবদারে মেজাজটা চড়ে যায়?


এমন স্বভাব বদলানোটাই ভালো। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক এক গবেষণার ফলাফলে উঠে এসেছে বিপজ্জনক তথ্য। প্রায় চল্লিশ বছরের কাছাকাছি বয়সের এক হাজার ৩০৭ জন পুরুষের ওপর জরিপ চালায় তারা। এদের মধ্যে সবচেয়ে রাগী ২৫ শতাংশ মানুষ অন্যদের তুলনায় ১.৫৭ গুণ বেশি মৃত্যুঝুঁকিতে আছেন। প্রায় চল্লিশ বছর ধরে এ গবেষণার জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

এ গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞেস করা হতো, আপনি কী প্রায়ই রেগে থাকেন? সে সময়ে তাঁদের বয়স ছিল ২০-৪০ এর মধ্যে। ৩৫ বছর পরে আবার তাঁদের তথ্য মিলিয়ে দেখা গেছে, এ প্রশ্নের উত্তরে যাঁরা হ্যাঁ বলেছিলেন, তাঁদের অন্যদের তুলনায় আগেই মৃত্যু ঘটেছে অথবা মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে গেছে । এমনকি বৈবাহিক অবস্থা, ধূমপান, আয় ইত্যাদি বিষয়ের কথাও বিবেচনা করা হয়েছে এ গবেষণায়।

গবেষণাটির প্রধান পরিচালনাকারী অ্যামেলিয়া ক্যারাকারের কাছে অবশ্য ভালো খবরও আছে। তিনি জানিয়েছেন, এ ধরনের মানুষেরা (যাঁরা মৃত্যুঝুঁকিতে আছে) সব সময়ই রেগে থাকেন। ক্ষণিকের রাগের প্রশ্ন নয় এটি। এটা শুধু এক বিকেলের রেগে থাকা বা এক বছরের ব্যাপারও নয়।

রক্তচাপ ও হৃৎপিণ্ডের ওপরে রেগে যাওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব যে কতটা তা অনেকেই জানেন। অন্য আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, রাগ ও বিদ্বেষ কীভাবে হৃৎপিণ্ডের গতিতে ছন্দপতন ঘটায়। অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন বলা হয় একে। তবে মজার ব্যাপার হলো, নারীদের ক্ষেত্রে কিন্তু সচরাচর এমনটি হতে দেখা যায় না। অর্থাৎ রেগে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি পুরুষদেরই বেশি।

যাঁরা এর মধ্যেই চিন্তায় পড়ে গেছেন, তাঁদের জন্য তথ্য হচ্ছে— অনেক গবেষণাতে এমনও দেখা গেছে, রাগ চেপে রাখাটা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে। বিশেষ করে; কেউ যদি মনে করেন তাঁর সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে।

তাহলে কী রাগ হলে প্রকাশ করে ফেলাটাই ভালো? সম্ভবত তাই। যদি এর প্রকাশটা মাঝে মাঝে হয় এবং খুব দ্রুতই আবারও মন ভালো হয়ে যায়। নিয়মিত রেগে গিয়ে চারপাশটা মাথায় তুলে ফেলাটা মোটেও ভালো কিছু নয়।

ক্যারাকারের মতে, রাগ মাপার আধুনিক নানা স্কেল ব্যবহার করে হয়তো তাঁদের গবেষণার চাইতেও বেশি তথ্য পাওয়া যাবে। আবার ঠিক কতখানি সময় ধরে রেগে থাকাটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তাও সঠিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি এতে। তবু রাগ আপনার জন্য ক্ষতিই ডেকে আনবে তাতে সন্দেহ নেই। যেসব মানুষের ওপর আপনি রেগে যাবেন, তাঁদের চাইতে ক্ষতিটা কিন্তু আপনারই বেশি।

তাহলে বরং হলিউডের ছবির সেই ‘হাল্ক’ চরিত্রটির মতোই হয়ে যান। সব সময়ই রেগে থাকে সে। অবশ্য, রাগ নিয়ন্ত্রণে আনার বিদ্যাও যে শেখা সম্ভব তা কিন্তু দেখানো হয়েছে হলিউডেরই আরেক ছবি ‘অ্যাভেঞ্জার্স’-এ। গার্ডিয়ান ও ডেইলি মেইল। সূত্র: প্রথম আলো
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৯:৫৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্রেফ 'জিন্নাহকে স্মরণ আর বঙ্গবন্ধুকে গালি' রাজাকারি মানসিকতারই উদাহরণ

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



ভারতীয় উপমহাদেশের জাতিসত্তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি কেউ 'যৌক্তিক' বা তাঁর 'প্রাপ্য' সম্মানটুকু জানাতেই পারেন; তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×