somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিয়ের পর পিতা-মাতার সাথে এক সাথে থাকা নাকি পৃথক থাকা । কোনটা শরীয়ত সম্মত ?

১৬ ই জুন, ২০১৫ সকাল ৭:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্ত্রীর ভরণ-পোষণ ও যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করা স্বামীর জন্য ওয়াজিব । স্ত্রীর জন্য পৃথক বাসস্হানের ব্যবস্হা করা তার অনিবার্য প্রয়োজন সমূহের একটি প্রধান অংশ । অনেকে স্ত্রীকে পৃথক বাসস্হানের ব্যবস্হা করে দেয়া নিজের দায়িত্ব মনে করেন না । স্ত্রীকে মা-বাবা, আত্নীয়-স্বজন ও আপনজনের সাথে রাখতেই অধিক পছন্দ করেন । অথচ শরীয়তের নির্দেশ হলো- স্ত্রী যদি সকলের সাথে থাকতে সম্মত হয়, তাহলে ভালো । অন্যথায় তার জন্য পৃথক ব্যবস্হা করা স্বামীর উপর ওয়াজিব । সম্মত হওয়ার অর্থ হলো পূর্ণ আন্তরিকতার ও স্বতঃস্ফূর্ততার সাথে রাজী হওয়া । স্বামী যদি আকার-ইঙ্গিত দ্বারা বুঝতে পারে যে, স্ত্রী পৃথক থাকতে চায়; কিন্তু মুখে ব্যক্ত করতে পারছে না, তাহলেও তাকে সকলের সঙ্গে এক সাথে রাখা জায়েজ হবে না ।

অনেকে স্ত্রীকে মা-বাবার বাধ্যগত ও অধীনস্ত বানিয়ে রেখে এটাকে নিজের জন্য বিরা সৌভাগ্যের বিষয় মনে করে । ফলে স্ত্রী বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হতে থাকে । স্বরণ রাখা উচিত, শ্বশুর-শাশুড়ীর খেদমত করা স্ত্রীর দায়িত্ব নয় । মা-বাবার খেদমতের মাধ্যমে সৌভাগ্য লাভ করতে চাইলে নিজে খেদমত করবে কিংবা খিদমতের জন্য চাকর-চাকরাণী নিয়োগ করবে ।

হযরত থানবী (র) বলেন, আমার আব্বাজান আমার বিয়ের সাথে সাথেই আমাকে পৃথক করে দিয়েছিলেন । আমাদের এলাকায় অধিকাংশ পরিবারে এ নিয়ম ছিলো যে, ছেলে বড় হওয়ার সাথে সাথে তাকে তার যাবতীয় খরচ ও বাসস্হানের জায়গাসহ পৃথক করে দিতো । এটা আমার কাছে আত্নমর্যাদা হানিকর মনে হলো । তাই নিজে চাকরি করে উপার্জন করার সিদ্ধান্ত নিলাম । আলহামদুলিল্লাহ ! চাকরি পেয়ে গেলাম । পচিশ রূপী বেতন ধার্য হলো । আমি চিন্তুায় পড়ে গেলাম, পচিশ রূপী কি কাজে ব্যয় করব । আমার তো ধারণা ছিলো, দশ-বিশ রুপীই আমার জন্য যথেষ্ট । কিছুদিন আমি একাকী থাকলাম । অতঃপর আমাকে কানপুর আসতে হলো । তখন বাস্তব অভিজ্ঞতায় বুঝতে পারলাম, পচিশ রুপী আমার জন্য প্রয়োজনের চেয়ে অধিক নয় । কারণ, সবই খরচ হয়ে যেতো ।

ঘরে স্ত্রী আমাকে সর্বদা পৃথক বাসস্হানের জন্য একটি ঘর বানাতে বলতো । আমি তাকে এ বলে বুঝ দিতাম, অস্হায়ী জীবনের জন্য ঘরের আবার কি প্রয়োজন ?

আমি যখন হজ্বের উদ্দেশ্যে মক্কায় গেলাম এবং পরবর্তীতে আমার স্ত্রী সেখানে গিয়ে পৌছল, তখন সে সেখানে হযরত হাজী ইমদাদুল্লাহ মহাজিরে মাক্কীর কাছে অভিযোগ করল যে, "আমি সর্বদা আলাদা ঘর বানানোর কথা বলি; অথচ উনি তা করতে রাজী নন ।" হযরত আমাকে বললেন- "তোমার স্ত্রী পৃথক ঘর তৈরী করার কথা বলছে । অসুবিধা কি ? এটা তো উত্তম ব্যবস্হা । নিজস্ব আলাদা ঘরে থাকলে অনেক আরাম ও শান্তি পাওয়া যায় । " আমি মনে মনে বললাম, চমৎকার ! আমার হাতে ঘর বানিয়ে নেয়ার বড় সুন্দর কৌশল সে বের করে নিলো । আমি আরজ করলাম, "হযরত! অনেক সুন্দর ঘর হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ ।" হজ্জ্ব আদায় শেষে দেশে ফিরে আসার পর ঘর তৈরী হয়ে গেলো । আমি হযরতকে এ সংবাদ লিখে জানালাম । তিনি উত্তরে লিখলেন- তোমার ঘর বরকত পূর্ণ হোক । হযরত থানবী (র) বলেন, ঘর তৈরী করে তাতে অবস্হান শুরু করার পর বুঝতে পারলাম, পৃথক ঘর ব্যতীত আরাম ও শান্তি পাওয়া যেতে পারেনা । তবে যদি কেউ অসচ্ছলতার কারণে পৃথক ঘর করতে অসমর্থ হয়, তাহলে ভিন্ন কথা ।

সূত্রঃ কুরআন ও হাদীসে আলোকে পারিবারিক জীবন । মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (র)
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুন, ২০১৫ সকাল ৮:২৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোর্টাল – ২ গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৭


তখন বেশ ঠান্ডা পড়ে গেছে। সেপ্টেম্বরের রাত।
বরফ পড়া শুরু হয়নি। মন্ট্রিয়লের রাস্তা জনাকীর্ণ। বাড়ি থেকে বের হলে কো-দ্যেনিশ রাস্তার শেষ প্রান্তে একটা লাইব্রেরি আছে। তার পরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×