somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিনা জাহান প্রিয়া
আমি সেলিনা জাহান প্রিয়া , জন্ম পুরান ঢাকা, নাজিরা বাজার , নানা বাড়িতে ।বাবার বাড়ি মুন্সী গঞ্জ , বড় হয়েছি ঢাকা ।স্বামীর বাড়ি কিশোরগঞ্জ ।ভাল লাগে ঘুরে বেড়াতে , কবিতা , গল্প , উপন্যাস পড়তে অজানাকে জানতে । ধর্ম বিশ্বাস করি কিন্তু ধর্ম অন্ধ না ।

উপকারের পুরষ্কার---------------------------------অণু গল্প --------------------------

২৯ শে নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



রাত একটা শেষ মেইল ট্রেনটা গৌরীপুর রেল ষ্টেশনে এসে থামল । মালাই মিয়া হাতে বিড়ীটা ফেলে কেটলিতে চা নিয়ে বললতে লাগলো চা চা চা । গরম চা। শীত প্রায় শেষ তবে রাতে চা ভালই চলে । গত ৭ বছর যাবত চা বিক্রি করে । মালাই চা বললে সবাই চিনে । বিশেষ করে রাতের গাড়িতে ষ্টেশনে চা বিক্রি করে । মালাই মিয়ার চা খেতে অনেক রাত পর্যন্ত স্টেশনে মানুষ আসে । মলাই মিয়া চা চা চা বলে রেলের জানালা দিয়ে মানুষ কে চা দিচ্ছে । এমন সময় একজন মহিলা বলল এটা কোথায় চা ওলা ভাই । মালাই মিয়া বলল এটা গৌরীপুর ময়মনসিংহ । আফনে কই জাইতাইন ।
মহিলা বলল -বল কি এটা টঙ্গি না। আফা কি যে কইন । আমি মালাই মিয়া মিছা কথা বলি না । যাই হউক মহিলা চেয়ে দেখে তাঁর সাথে ব্যাগ নাই । মাথা জিম জিম করছে । সে তারা তারি ট্রেন থেকে নামলো । মালাই মিয়া ভাল করে দেখল যে দামী শাড়ী পড়া পায়ের জুতা হাতের চুরি ও মাথার চুল মনে হল সিনেমার নায়িকা । মালাই মিয়া আফা কই যাইবেন । লোক জন একটু ভীর করলো । মালাই মিয়া জানে ষ্টেশন মানেই খারাপ জায়গা । সবারে মালাই মিয়া ভীর করেন কেন । যে যার কাজে জান । আফারে আমি চিনি । আফা আসেন আমার দোকানে । মালাই মিয়া বলল আফা কই হয়েছে আমি জানি । মনে হয় কিছু খাইছিলাইন কারো কাছ থেকে ।
মলাই মিয়া গ্লাস পরিষ্কার করে পানি দিল । একটা লাল চা দিল আদা দিয়ে ।
মেয়েটি বলল - আপনি অনেক ভাল মানুষ কই নাম আপনার । আফা মলাই মিয়া আমার নাম । কেউ কিছু বললে বলবেন জরুরি কাজে আসছেন । ষ্টেশন তোঁ সবাই খারাপ এর পুলিশ কে কিছু বলবেন না। এক কোথায় সাত কথা হবে । আল্লাহ্‌ আল্লাহ্‌ করেন রাত টা শেষ হইলে আমি নিজে গাড়িতে তুলে দিয়ে আসবো । এই খানের মানুষ সব দুই নাম্বার । মেয়েটি বলল ঠিক আছে মালাই ভাই । আমি ট্রেনে উঠে একটা জোস কিনে খেয়েছিলাম । আফা আমি জানি আফনে কিছু খাইছিলাইন । ষ্টেশনে ৭ বছর । এ সব প্রায় দেখি ।
এর মধ্য একজন আসলো মলাই চা দে । এই মহিলা কে মলাই এত রাতে ।
তোমার কোন দরকার আছে । মেম সাব আমার পরিচিত । ভাই হারাইছে কার কাছে জানি শুনছে এই ষ্টেশনে আছে খুঁজতে আইছে । ও তাই । হ্যা চা শেষ করে লোকটা চলে যেতেই মলাই মিয়া বলল - যে আসে এটাই বলবেন । না হয় দেখবেন এ বলবে আমার সাথে আসুন ও বলবে আমার সাথে আসুন । মেয়ে মানুষ দেখলে এই শয়তান গুলোর মাথা নষ্ট হয়ে যায় । ভদ্রমহিলা বলল - মলাই ভাই আমার নাম সায়লা পারভিন । আমি দেশের বাহিরে থাকি । আপনি সাথে আছেন তাই ভয় নাই । বাসায় কে কে আছে আপনার ।মলাই মিয়া হাইসা বলে মা আছে পরিবার আছে আর একটা মেয়ে । মেয়ের নাম পায়রা । আফা কিছু মনে না করলে আমার বাড়িতে যেতে পারেন । আফনে যাইলে আমার পরিবার কে আসতে বলি । কাছেই বাসা । মলাই মিয়া একজন রিক্সা চালক কে বলল ফজু ভাই বাড়ির সামনে দিয়ে গেলে পায়রার মারে কইন যে একটু আসতে । চা শেষ করতে করতে একজন মহিলা আসলো হাতে হারিকেন নিয়ে । শুন পায়রার মা আফা ভুল করে ভুল গাড়িতে উঠে এই খানে আসছে । তুমি নিয়া বাড়িতে যাও সকালের গাড়িতে তুলে দেব । পায়রার মা মলাই মিয়ার স্ত্রী সায়লা পারভিন কে নিয়ে যেতে লাগলো । খুব কাছেই তাদের বাসা । ছোট একটা বেরার ঘর । অবাক হয়ে দেখছে সায়লা । অনেক কথার মাঝে অল্প সময়ে একটু ভাল মায়া হয় । মালাই মিয়া বউ এর সাথে । মলাই মিয়ার বউ বলে আফা আল্লাহ্‌ আফনেরে বাচাইছে । কিছু দিন আগে একটা মেয়ে ভুল করে আইছিল । পড়ে একলোক বাসায় নেয়ার কথা বলে ঐ ধান খেতে নিয়া বলৎকার করে মাইরা ফেলছে । পড়ে মামলা হইছে । তবে যারা আসামি তারা কিন্তু আসামি না । রেল ষ্টেশনের চোরা কারবারিরা এ কাম করছে । আমরা জানলে কি হবে । কিছু বললে তো আমাদের কে মেরে ফেলবে । এই বাসায় ভাড়া থাকি । তবে মনে হয় আর বেশি দিন থাকা যাবে না । এই বাড়িটা বিক্রি করে দিবে । ৭ গণ্ডার বাড়ি । মালিক পঞ্চাশ হাজার টাকা দাম চায় । সায়লা সত্যি দেখল সরল একটা পরিবার । সায়লা সত্যি আজ অনেক বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছে । একসময় ঘুমিয়ে গেল আবার যখন ঘুম ভাঙল তখন বেলা ১১ টা । মলাই মিয়া একটা হাসি দিয়া বলল বোইন ঠিক মত ঘুম হইছে তো । ভাল ঘুম হলে নেসা কেটে যায় । গরীব ভাই বোইনের খুব কষ্ট হইলে কিছু মনে নেইন না যে। সায়লা হেসে বলল তোমার মেয়ে টা দিকে যত্ন নেও না কেন । আফা সারা দিন দুষ্টামি করে । অহ তাই বলো । নাস্তা দিল সাথে গরুর খাটি দুধ । সায়লা অবাক হয়ে দেখল চিনা নেই জানা নেই কত আদর । কত বিশ্বাস । আসলে শহরের মানুষ অচেনা কাউকে বিশ্বাস কে না। আসলেই আমাদে দেশ খাটি সোনার দেশ । সায়লা কে নিয়ে একটা বাসে তুলে দিল ঢাকার । আরও পঞ্চাশ টাকা দিল হাতে । মলাই মিয়া বলল আফা আমি জাইতাম আফনারে দিতে কিন্তু আমার কাছে দু জনের ভারার টাকা নাই । খুব সহজ করে কথাটা বলল মলাই মিয়া ।
সায়লা বাসে বসে ভাবতে লাগলো দুনিয়ায় এখনো ভাল মানুষ আছে । আমার কিছুই জানতে চাইলো না লোকটা কত কি খেতে দিল । কত সুন্দর আদব কায়দা । কি করে লোক জন কে মিথ্যা বলে আমাকে সবার কাছ থেকে আলাদা রাখল । আসলেই সময় সময় কিছু মিথ্যা মানুষের বড় দরকার ।
সব মিথ্যায় ই পাপ না।
তিন দিন পরের কথা একটা গাড়ি এসে থামলো মলাই মিয়ার বাসার সামনে দুপুর বেলায় । সায়লা খুব জুড়ে ডাক দিল মলাই ভাই ভাবি পায়রা । সাথে সায়লার স্বামী । মলাই মিয়া কাছে এসে হেসে দিল আরে পায়রার মা দেখ আমার বোন আসছে । সাথে কত কি ভাবির জন্য কাপড় ভাইয়ের জন্য পায়রার জন্য । সায়লার স্বামী বাজারে গিয়ে অনেক বাজার । মলাই মিয়া কে ডেকে সায়লা বলল এই জমির মালিক কে একটু ডাকুন । জমির মালিক আসতেই সায়লা বলল এই বাড়ি বিক্রি করবেন । জমির দাম দিয়ে দিল । বলল- আমার ভাই ভাবির নামে দলিল করে দিবেন ।
সায়লার যখন লন্ডন থেকে দেশে আসে একবার হলেও যায় মলাই মিয়ার সাথে দেখা করতে ।
মানুষের উপকার করত বলে মলাই মিয়া কে সবাই বলত বোকা । কিন্তু আজ মলাই মিয়া সেই উপকারের ফল পেয়েছে । মলাই মিয়ার মেয়ে এখন গৌরি পুর কলেজে পড়ে ।।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:৫৫
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোল্ডেন সেপিয়া দিগন্ত এবং ভ্যাঞ্জেলিসের অমর সুর: এক কালজয়ী সমুদ্রযাত্রার মহাকাব্য

লিখেছেন চারাগাছ, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:০০




গোল্ডেন সেপিয়া দিগন্ত এবং ভ্যাঞ্জেলিসের অমর সুর: এক কালজয়ী সমুদ্রযাত্রার মহাকাব্য


সময়টা যেন হুট করেই থমকে যায়, যখন ইথারে ভেসে আসে সেই অতিপ্রাকৃত সুরের মূর্ছনা। চোখ বন্ধ করলেই মনের ক্যানভাসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার এআইনোক্কিও

লিখেছেন শায়মা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৪


এক জীবনে কত কিছু দেখা হয় কত কিছু জানা হয় মানুষের! আসলেই কত অজানারে! লেখক শংকরের এই নামে একটি বই আছে। কবিগুরুর আছে কবিতা কত অজানারে জানাইলে তুমি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:২২



ড্যাম কেয়ার সেই মেয়েটি AI দিয়ে সাজে
==================================
পিঠ ছুঁয়ে নামা মেঘবরণ তার লম্বা কালো চুল,
তারই মাঝে লুকিয়ে হাসে একটি সাদা ফুল।
চোখ দুটো তার ডাগর ডাগর, অবাক করা আলো,
দুষ্টুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×