somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিনা জাহান প্রিয়া
আমি সেলিনা জাহান প্রিয়া , জন্ম পুরান ঢাকা, নাজিরা বাজার , নানা বাড়িতে ।বাবার বাড়ি মুন্সী গঞ্জ , বড় হয়েছি ঢাকা ।স্বামীর বাড়ি কিশোরগঞ্জ ।ভাল লাগে ঘুরে বেড়াতে , কবিতা , গল্প , উপন্যাস পড়তে অজানাকে জানতে । ধর্ম বিশ্বাস করি কিন্তু ধর্ম অন্ধ না ।

ধারাবাহিক গল্প # অ- মানব # ১০ ম পর্ব ।।

২০ শে জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পাশের বাসার মহিলা রেজিয়া কেন জানি পাগল টা কে খুব ভয় ভয় পাচ্ছে । তাই একটু সাহস করে ছাদের পাশে এলো । মাথার কাপড় টা টেনে চারপাশ দেখে নিল , কেউ আছে কি না । রেজিয়া ভাবলও একটু বকা দিয়ে দেই । পাগলের কথা কেউ কি বিশ্বাস করবে । মিলিদের ছাদ আর রেজিয়াদের চাঁদ মাত্র দুই ফিট দূরত্ব । রেজিয়া
পাগল কে ডেকে বলল
----- এই যে মিঃ পাগল ছাগল এই দিকে আসো । কি নাম তোমার ? সারা দিন
আমার জানালার দিকে চেয়ে থাক কেন ?
পাগল মানুষটা রেজিয়ার কাছে একটা সুন্দর হাসি দিল । বড় বড় চোখ করে তাকাল । তার পড় আকাশের দিকে তাকাল । রেজিয়া এবার বলল- এই পাগল তুমি কি বোবা
নাকি ? কথা বল না কেন ? পাগল এবার বলল-
--- কি জানতে চান ।
--- আমি যা যা বললাম ?
--- আমি যে আপনার দিকে চেয়ে থাকি এটা সত্য ।
--- কেন চেয়ে থাক ?
--- কোন টা বলব আপনাকে ? দুইটা কারনে চেয়ে থাকি ।
--- দুইটা কারন কি কি ?
--- প্রথম টা খুব মজার । দ্বিতীয় টা খুব নোংরা । তা আগে কনটা শুনবেন ।
--- কোনটাই না ।
--- আর কিছু জানতে চান ।
--- তুমি আমার বাসার দিকে মুখ করে তাকবে না ।
--- ওকে থাকব না। আর কিছু ।
--- এবার বল দেখি প্রথম কথাটা ।
--- আপনি যে ঐ দিন সন্ধ্যায় আপনার দেবর কে চুমু দিলেন খুব সুন্দর ।
--- ছিঃ তুমি মিথ্যা বলছ ।
--- আপনি যে আপনার দেবর কে এত টাকা দিলেন । আপনাকে নিয়ে ভিসা করে
এক সাথে পালাবেন । বাকী টাকা দিয়েন না। কারন আপনার ভিসা দুই টা নকল । আসলে সে তার বসের বউ কে নিয়ে পালাবে । আগে ভিসার কাগজ দেখুন । না হয় কিন্তু আপনি মরবেন ।।
রেজিয়া একটা গালি দিয়ে বলল পাগলের আচ্চা পাগল । মুখে যা আসে তাই বলে । যা বলছি এই পাশ থেকে । পাগল আবার একটু হেসে আকাশের দিকে চেয়ে বলল আকাশ আর মানুষের রং বড় রহস্য ময় । পাগল তার রুমে চলে গেল । রেজিয়া মনে মনে বলল - আসলেই তো পাগল ঠিক দেখেছে । ঠিক বলেছে । আমার দেবরের ব্যাপারে এত বেশী জানে কি ভাবে । আমরা যে বিদেশ চলে যাব এটা তো আমার দেবর আসাদ ছাড়া আর আমি ছাড়া কেউ জানে না। তাহলে পাগল জানল কি করে ?
-------------------------------------------------------
জোছনা দরজা খুলে তো অবাক । সত্যি জোছনার মা বাবা আসছে । মাকে জড়িয়ে জোছনা বলে মা তুমি যে আসবে এটা কিন্তু আমি জানি । মিলি বলল - পড়ে জানিস আগে বসতে দে । জোছনার মা বলল- আপা আপনার কি হইছে মন এত খারাপ কেন । চোখ ফুলা ফুলা অসুক নাকি ? কি রে জোছনা তুই কি তোর মামীর দিকে খেয়াল রাখিস না। জোছনা বলতে লাগলো মা আমাদের বাসায় একটা পাগল
আছে । পাগলে কি জানি বলছে । সেই সকাল থেকে শুধু কাঁদছে । জোছনার বাপ বলল- পাগল এই বাড়িতে আসলো কি ভাবে । জোছনা বলল- মামী ঐ রাস্তা থেকে নিয়ে আসছে । তবে সে অনেক ভাল ।
মিলি বলল- যারে মা জোছনা তো বাবা মাকে খাবার দে । আর পাগল কে বলল আমার সাথে দেখা করতে ।। মিলি তার মায়ের কাছে যায় । মাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকে - মিলির মা বলে
--- আমার এমন হাসি খুশি মেয়েটা কানলে ভাল লাগে না। কি হয়েছে বল শুনি ?
--- মা আজিজ একটা বিয়ে করেছে । ঐ ঘরে একটা বাচ্চা আছে ।
--- মিলি এটা তোকে কে বলেছে ?
--- পাগল
--- তুই পাগলের কথা বিশ্বাস করে কাঁদছিস ।
--- মা ও পাগল না। আসলে ও অন্য রকম মানুষ । ও মিথ্যা বলে না। কিন্তু আমি চিন্তা করছি
আজিজ কেন আমাকে বলে না। আমি থানায় ফোন করে সব জেনেছি । আমার বান্ধবির ভাই
এ এস পি রেজা কে ফোন দিয়েছিলাম । রেজা একটু আগে আমাকে ফোন করে বলল মিলি আপু
তুমি যা যা বলেছ সব ঠিক আছে । সন্ধ্যায় ঐ মেয়ে আর বাচ্চা কে থানায় আসতে বলেছে আমার
কথা মত । মা এই বাড়ী ঘর তো আমাদের । কার জন্য রেখে যাব । আমি আজিজ কে কিছু
বলব না । বস্তি থেকে একটা শিশু তো সুন্দর পৃথিবি দেখবে ।
---- মিলির মায়ের চোখে পানি ।
---- মিলি বলে মা তুমি কান্না করছ কেন ? আল্লাহ্‌ তো আমাকে একটা সন্তান দিয়েছে । হউক না তা
সতীনের ঘরে ।
---- মিলির মা বলল সত্য কি ভাবে সামনে আসে তাই চিন্তা করছি ?
---- হ্যাঁ মা তাই তো । যদি পাগল না আসতো জানতেই পারতাম না।
---- মিলির মা বলল এর চেয়ে একটা সত্য আজ ৩৫বছর ধরে আমার মনে জ্বলে জ্বলে শেষ ।
---- কি সেই সত্য মা আমাকে বলল ।
মিলির মা বলতে লাগলো মাগো । আজ হতে প্রায় ৩৫ বছর আগে । তোমার বাবা আমাকে রেখে বিয়ে
করে । আমি ঐ মহিলাকে মেনে নেই না। তখন আমরা দিনাজ পুর লিচু বাগান এলাকায় থাকি । তোমার বাবা চাকুরির সুবাদে ঐ খানে থাকা । আমি একদিন খবর পেলাম ঐ মহিলা মা হতে চলছে ।
আমি হিংসায় শেষ হতে লাগলাম । কিছুতেই তোমার বাবাকে মেনে নিতে পারছি না। আমার বিয়ের ১৪ বছরে তোমার বাবাকে সন্তান দিতে পারি নাই । ঐ মহিলা হাসপাতালে ভর্তি হয় । একটা ফুট ফুটে
মেয়ে হয় । কিন্তু মেয়েটার মা মারা যায় । তোমার বাবার কাছে তখন চিকিৎসার টাকা ছিল না । কিন্তু আমার কাছে ছিল । আমিও টাকা দেই নাই । যাই হউক । কয়দিন পড়ে আবার খবর এলো
বাঁচাটা খুব অসুস্থ বাচবে না। ঢাকা নিতে হবে । আমাকে আমার মা বলল , হারাম জাদি নিজের পেটে তো বাচ্চা হবে না। যাও আল্লাহ্‌ দিছে সেটাও নিতে পারবি না। আমার পেটে একটা ডাইনি জনম নিছে ।
আমি সেই দিনেই ঐ মেয়েটাকে নিয়ে ঢাকা শিশু হাসপাতালে যাই । তাকে ভাল করতে আমার তখন ১০ ভরি স্বর্ণ বিক্রি করি । আল্লাহর রহমতে মেয়েটি ভাল হয় । তোমার বাবা ঢাকা বদলী হয় ।
--- মা তাহালে ঐ মেয়েটি ?
--- মিলির মা মিলিকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে । আর বলে মা মিলি ঐ মেয়েটি তুই ।
মা আর মেয়ে মিলে খুব চিৎকার করে কান্না করতে লাগলো । জোছনা , আর জোছনার মা বাবা মিলি
আর মিলির মায়ের কান্না দেখে তাড়াও কাদতে লাগলো । কান্নার শব্দ শুনে ছাদ থেকে পাগল ঘরে আসলো । মিলি পাগলের হাত ধরে কান্না করছে । পাগল হাসতে লাগলো আর হাসতে লাগলো ।

চলমান------------------------

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:৪৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আম্লিগ যদি আসে তাহলে ....... :(

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৬



বিএনপি। আপনারা ১৭ বছর ঘরে থাকতে পারেন নাই কিন্তু এখন যদি আবার আম্লিগ ফিরে আনেন তাহলে আপনারা তো দূরের কথা আপনার বাড়ির মাটিও থাকবে না। আপনার ঘর-দরজা থাকবেনা। শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরকাল কেন পাই না?

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫২

বিল গেটস এর নামে একটা কথা প্রচলতি আছে; জানি না কথাটা বিল বলেছে কি না, তবে আমার কাছে মাঝে মাঝে কথাটা সত্য মনে হয়। কথাটা এমনঃ আমি কোন কাজ করবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশের দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য একটি কাকতাড়ুয়া মডেল–২০২৬ নীতিপত্র প্রস্তাবনা দৃশ্যমান জবাবদিহি, নাগরিক নজরদারি ও AI প্রযুক্তিনির্ভর অনিয়ম প্রতিরোধ ব্যবস্থা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:০৮


বাংলাদেশে দুর্নীতি ও অনিয়ম মোকাবিলায় প্রচলিত ব্যবস্থার একটি বড় অংশ হলো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পরে তদন্ত ও শাস্তি।
কাকতাড়ুয়া মডেল–২০২৬-এর দর্শন হবে তার পাশাপাশি অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই প্রতিরোধমূলক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের ওপর হামলা নিন্দনীয়- কিন্তু নীতির মাপকাঠি কি সবার জন্য এক?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৩


বাঁধনের ওপর হামলা নিন্দনীয়- কিন্তু নীতির মাপকাঠি কি সবার জন্য এক?

আজমেরী হক বাঁধন ইতালিতে হেনস্তা ও হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই- আগস্টের আন্দোলনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রাক্টরগাজি → চাঁদগাজী → সোনাগাজী → জেনারেশন৭১ কে নিয়ে দুটি কথা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ব্লগার গাজী সাহেব জ্ঞানী কিন্তু তিনি কট্টরপন্থী তাঁর ছেড়া টাইপের মানুষ তবে আলাপচারীতার লোক হিবেবে উনি খারাপ না। আপনি যদি ওনার সংগে হিজড়া রানূ-র মতো জ্বীহুজুর জ্বীহুজুর বলেন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

×