somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিনা জাহান প্রিয়া
আমি সেলিনা জাহান প্রিয়া , জন্ম পুরান ঢাকা, নাজিরা বাজার , নানা বাড়িতে ।বাবার বাড়ি মুন্সী গঞ্জ , বড় হয়েছি ঢাকা ।স্বামীর বাড়ি কিশোরগঞ্জ ।ভাল লাগে ঘুরে বেড়াতে , কবিতা , গল্প , উপন্যাস পড়তে অজানাকে জানতে । ধর্ম বিশ্বাস করি কিন্তু ধর্ম অন্ধ না ।

গল্প ‘অ-মানব’- (১৯ তম পর্ব)

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাগল হাসিয়া শিলার বাবার দিকে তাকিয়ে বলল- ১৯৭১ সালের যুদ্দের সময় এই বাড়ির সবার গহনা আপনার দাদীর নিকট রাখে। বাড়িতে পাক বাহিনী আসলে আপনার দাদী এই সব গহনা রক্ষা করার জন্য, শিমুল গাছের গোঁড়ার নিকট, পুকুরে এই বাক্সে ভরে পানিতে ফেলে দেয়। আপনার দাদী মৃত্যুর সময় আপনার মা কে গহনার কথা বলে যায়। আপনার মা বুঝতে পারে নাই। পুকুরের কোন পাশে সেই গহনার বাক্স টি আছে। তাই প্রায় ই রাতের বেলা একা একা পুকুরে নেমে সেই গহনা খুঁজত । এক দিন প্রেসার জনিত কারনে পুকুর পারে পরে বাক শক্তি হারায়। তিনি আর কাউ কে বলে যেতে পারেন নাই। এটাই হল আপনার মায়ের বার বার পুকুরে নামার ঘটনা। এবার আসুন তিনটি বাচ্চা মারা যাওয়ার ঘটনা। প্রথমে একটি বাচ্চা পানিতে পরে তখন দুপুর ছিল, আপনার চাচী ঘুমাচ্ছিল। ঐ বাচ্চা কে পানি থেকে তুলতে যেয়ে পরে ঐ দুই বাচ্চাও পানিতে পরে যায় । পুকুরের পানিতে অনেক গাছের পাতা পচে নাইট্রোজেন গ্যাস হয় ঐ গ্যাসে একই পরিবারের তিন বাচ্চাই মারা যায়। এখন আসুন পাগল ব্যক্তি কিভাবে মারা যায় শুনি। ঐ পাগল ব্যক্তি আসলে একজন গাঁজা সেবী মাতাল ছিল। ঐ দিন মাজার থেকে অতিরিক্ত গাঁজা সেবন করে। পুকুর পার দিয়ে যাওয়ার সময় পা পিছলে পুকুরে পরে যায় ঢালু পার থেকে সে আর উঠতে পারে না। বর্ষা কাল পুকুর ছিল পানিতে ভরা আর কচুরি পানা পায়ে পেচিয়ে যায়। সে এই পুকুরেই মারা যায়। আপনারা তখন অন্ন্য বাড়িতে বিয়ের দাওয়াতে ছিলেন। শিলার বাবা বলল হ্যাঁ তুমি ঠিক বলেছ আমরা বিয়ে বাড়ি থেকে এই পাগল মরার খবর পেয়ে আসি, কিন্ত আমার চাচা কেন ফাঁসী নিল? পাগল বলল এটা আমি বলতে চাই না। নাদিরা বলল – খারাপ কিছু । পাগল বলল না। আসলে বিষয় টা জানলে আপনাদের বাড়ির ভাগ হয়ে যাবে । শিলার আব্বু বলল- যাই হউক তোমার কথার যুক্তি আছে । বাক্স কুলে দেখল শিলার বাবা সত্যি বাক্সে তাদের পরিবারের সব গহনা । শিলার বাবা তার মায়ের গলার হার চিনতে পাড়ল । দাদুর হাতের চুরি এবং মায়ের সেই হীরার আংটি । সবাই খুশি । হুজুর বলল- আল্লাহ ভালই করেছে । আমার একটু কাজ আছে আমি চলে যাই । পাগল বলল হুজুর একটা কথা বলতে চাই । আপনার জন্য । যদি আমার কথা রাখেন , আমি খুব খুশি হব । হুজুর বলল কি কথা বাবা বল- তুমি খুব জ্ঞানী মানুষ । আমরা যে টুকু হাদিস কুরান পড়েছি তা থেকেই বলি । পাগল নাজু আপা কে বলল- আমার জন্য রেজিয়া আপু একটা প্যাকেট রেখেছে । নাজু প্যাকেট টা এনে দিল পাগলের হাতে । পাগল প্যাকেট টা হুজুরের হাতে দিয়ে বলল আমাকে কোন প্রস্ন করবেন না। এটা আপনার মেয়ের জন্য । যেই মেয়ের জামাই টাকার জন্য অনেক দিন হল আপনার মেয়ে কে তার ঘরে নেয় না। আপনি সেই মেয়ের জন্য খুব চিন্তায় আছেন ।

হুজুর পাগল কে জরিয়ে ধরে কেদে দিল । বলল বাবা তুমি কি করে জানো ? পাগল বলল দুনিয়ায় যা কিছু ঘটে তা মানুষের মনে জমা থাকে । যখন মানুষের মন অতি প্রাকৃতিক হয়ে যায় তখন তার কাছে সব খবর চলে আসে । দেখুন আপনি প্রতিদিন মানুষ কে পানি পড়া দেন । কিন্তু আপনি তো আল্লাহর নামেই ফু দেন । তবে তারা কেন প্রতিদিন নিজেরাই আল্লাহর নামে ফু দিয়ে পানি খায় না। আল্লাহ তাদের জন্য যিনি সব কিছুতেই আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখে । নাদিয়া অবাক হয়ে নাজুর দিকে চেয়ে হুজুরের কান্নার সাথে তারাও তাদের চোখ মুছে । পাগল বলল চাচার ঘটনা বিকেলে বলব । এখন আমি পুকুরের মাটি কাটা দেখব । নাজু বলে গহনা কি করব । নাজুর স্বামী বলে এই গহনা তোমার ভাই যা বলবে তাই হবে । পাগল বলে তিন ভাগ করে, এক ভাগ বিক্রি করে ব্যবসা করেন । একমাত্র মেয়ে কে রেখে আর লন্ডন যাওয়ার দরকার নাই । একভাগ চাচার জন্য রাখেন কারন চাচার একজন ওয়ারিশ বেচে আছে । বাকি একভাগ আপনার স্ত্রী শ্যালী ও মেয়ের জন্য রাখেন । শিলার বাবা বলে তোমার জন্য । পাগল বলে আমি তো আপনাদের সবার জন্য । যে সবার জন্য তার জন্য রাখতে হয় না।
নাদিয়া বলে ভাইয়া তুমি তো আমাদের সবার ভুল ভেঙ্গে দিলে । আসলেই আমরা কত না ভুলে ছিলাম । রইস মিয়া বলে -আমার মনে হয় ভাগ্নের সাথে জিন আছে ।
— পাগল বলে মামা মানুষ তো জিনের চাইতে শক্তিশালি । কারন মানুষ কে আল্লাহ জিন থেকে বেশি সম্মান দিয়েছে । হুজুর খুব খুব অবাক হয়ে দেখল যে এই মানুষ টা আসলেই একটু অন্য রকম ।

নাদিয়া পুকুর পারে বসে আছে শীতে শিমুল গাছের সব পাতা ঝরে গেছে । লেবার রা পুকুরের পার ঠিক করছে । রইস মিয়া বলে মানুষের জানার সেস নাই । নাজ কোচিং এ যাবে রিক্সার জন্য অপেক্ষা করছে । পাগল পুকুরে মধ্য মাটি কাটছিল । নাদিয়া কে বলল – এই নাদিয়া
— জি ভাইয়া বল কি ?
— তুমি নাজের পিছনে পিছনে যাও । তার পর আমাকে এসে বল।
— জি ভাইয়া , যাচ্ছি । নাজু আর শিলা পাগলের পরিশ্রম দেখে বলে আমার আপন ভাই আমার জন্য এত কিছু করবে না। শিলা বলে মা আসলেই জিনিয়াস মামা অসাধারন ।
নাদিয়া কোচিং এসে দেখে নাজ নাই । অনেক সময় কোচিং এ বসে থেকেও দেখে নাজু আসছে না। তাহলে কোথায় গেল । নাদিয়া বাসায় এসে বড় বোন নাজু কে নাদিয়া বলে নাজ কোচিং এ যায় নাই । গত এক মাসে মাত্র ১১ বার গিয়েছে ।
রইস মিয়া কে ডেকে নাজু বলে মামা দেখুন আপনার আদরের ভাগ্নি । মা যদি আজ থাকত তাহলে কি অবস্তা হত । আমি পড়ের সংসার করি । কোচিং এ না যেয়ে কোথায়
যায় । মা বাবা আমার জন্য কি রেখে গেছে ।
রইস মিয়া বলল চিন্তা করিস না দেখি পাগল ভাইগ্না কি বলে । পুকুর পারে এসে রইস মিয়া বলে – ভাইগ্না খবর একটা । পাগল বলে মামা নাদিয়া কে দরকার । নাদিয়া এসে বলে এই যে আমি !
—- কি পাইছ !
—- না পাই নাই ।
— তা নিজেও বি এ ভর্তি হলে না। বোন কোথায় যায় সেই খবর ও রাখ না। তোমার মত মেয়ে আয়নার সামনেও যাও না। যদি একটু আয়নার সামনে যেতে তাহলে বুঝতে
বোন কেন কোচিং থেকে দেরী করে ।। হাতের কাজ শেষ করি । আমার জন্য কি চা হবে । নাদিয়া পাগলের কথায় একটু রাগ করে বলে ।
—ভাইয়া চা তো হবে । কাউকে উপদেশ দেয়া সহজ কিন্তু নিজে পালন করা কঠিন ।
— আচ্ছা আমি কি পালন করি না। একটা উধারন দে ।।
— ভাইয়া এই যে সবাই বলে তোমার ভাইয়ের নাম কি ? আমি বলতে পারি না।
— ঠিক আছে যারা নাম জানতে চায় বলবি আমার কাছে আসতে ।
আপনার কাছে আসতে বলা আর পাবনা যাওয়া সমান কথা । পাগল তার কথা শুনে
হাসতে থাকে ।
সন্ধ্যা সময় নাজ বাসায় আসে । খুব হাসি খুশি । পাগল বসে একটা পুথি বই পড়ছে ।
বাসার সবাই নাজের দিকে জানি কেমন কেমন করে দেখছে । এমন সময় শিলা এসে বলল জিনিয়াস মামা আমার হাসপাতাল থেকে একজন সেবিকা অ্যান্টি এসেছে আপনার সাথে দেখা করতে ।
পাগল নাদিয়া আর নাজ কে সাথে নিয়ে বসার ঘরে গিয়ে দেখে সেবিকা বসা ।।
সেবিকা বলল – আমার বিশ্বাস ছিল যে আমি আপনাকে এই বাসায় পাব ।
— পাগল বলল বিশ্বাস যদি মন থেকে করা হয় তাহলে তার ফল পাওয়া যায় ।
— আমি একটা খুবেই গোপন বিষয় নিয়ে আপনার কাছে আসছি । ঐ দিনের ঐ
কথা গুলো আমার খুব ভাল লেগেছিল । মনে হচ্ছিল আপনি পারবেন ।
— দেখুন ভাল কিছু হলে সাহায্যের জন্য স্রষ্টার দয়া অপরিসীম ।।
— আমি কথা গুলো গোপনে বলতে চাই ।
— দেখুন এরা আমার বোন আপনার কথা যদি এরা শুনে তা হবে আমার কাছে বলার
সমান । আর জিবন কি তাই তারা জানবে । আপনি বলুন ।।
চলমান—–

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:২২
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×