somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিনা জাহান প্রিয়া
আমি সেলিনা জাহান প্রিয়া , জন্ম পুরান ঢাকা, নাজিরা বাজার , নানা বাড়িতে ।বাবার বাড়ি মুন্সী গঞ্জ , বড় হয়েছি ঢাকা ।স্বামীর বাড়ি কিশোরগঞ্জ ।ভাল লাগে ঘুরে বেড়াতে , কবিতা , গল্প , উপন্যাস পড়তে অজানাকে জানতে । ধর্ম বিশ্বাস করি কিন্তু ধর্ম অন্ধ না ।

ছোট গল্প শ্বশুরের উপহার

০৩ রা মার্চ, ২০১৬ দুপুর ১২:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কাসেম সাহেবর তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে কাকন খুবেই অবহেলিত । কাকন প্রেম করে বিয়ে করেছে । কাকনের স্বামী ইকবাল খুবেই সাধারন পরিবারের
ছেলে । কাসেম সাহেবর সামাজিক অবস্তা খুবেই ভাল । মেয়ে কে ফিরিয়ে আনার জন্য সকল ব্যবস্তা করে শেষ পর্যন্ত আর মেয়ে কে আনতে পারে নাই । সাত বছর গত হল বাবা আর মেয়ে মধ্যে কোন দেখা নাই । অন্য দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে
একজন ব্যাংক কর্মকর্তা স্বামী অন্য মেয়ের জামাই সরকারি চাকুরীজীবী । দুই জামাই কে নিয়ে তার খুব গর্ব । বড় মেয়ের জামাই কি করে । বড় মেয়ে কেমন আছে কোন দিন জানতে চায় না । কাকনের দুঃখ একটাই তার বোনেরা তার খোঁজ খবর নেয় না। শুধু মা মাঝে মধ্যে একটু খোঁজ খবর রাখে তাও গোপনে । কারন অন্য দুই মেয়ে এটা পছন্দ করে না। ইকবাল লিখা পড়া জানা একটা ছেলে মার্কেটিং
এ কাজ করে খুব সামান্য একটা ফার্মে । কাকনের সাথে তার মনের মিল একশতে একশ । কাসেম সাহেব হটাৎ একদিন খুব অসুস্থ হলেন । হাসপাতালে ভর্তি । পায়ে পানি চলে এসেছে । ডাঃ দেখল কিডনি ফেইল । সাত বছর পর আজ বড় মেয়ে এলো বাবা কে দেখতে । সবাই কিডনি যোগারে চেষ্টা করছে । বড় মেয়ের সাথে কিডনি ম্যাচ হয় নাই । অন্য দুই মেয়ের সাথে ম্যাচ হয়েছে । কিন্তু তাদের স্বামী বলছে
না কিডনি দেয়া যাবে না। তাদের একটা ফিউচার আছে । ইকবালের সাথে ম্যাচ করে নাই । বড় মেয়ে অ জামাই দিতে চাচ্ছে কিন্তু ম্যাচ করছে না। অন্য দুই মেয়ে
বলছে ম্যাচ করলে কিন্তু আপু দিত না। কাকন আপু এখন আব্বুর সাথে মিশার জন্য
ভাব ধরছে যে কিডনি ম্যাচ করলে দিত । ইকবালের সাথে অন্য দুই মেয়ের জামাই
খুব ভাব নিয়ে থাকে বড় বলে একটু সম্মান অ করে না। এটা নিয়ে ইকবাল কোন কিছু মনে নেয় না। শেষ পর্যন্ত কিডনি যোগার হল । কিন্তু কিডনি কে দিল এটা কেউ বলতে পারছে না । কারন কিডনি দাতা সর্তে এই কিডনি নেয়া হয়েছে । কাসেম সাহেব খুব রাগি মানুষ হলেও কারো দয়া সে নেয় না। কিন্তু এত বড় দয়া তাকে কে করল তার জানার খুব ইচ্ছা । এক বছরে সে বের করতে পারলো না। শেষ তার ডাক্তার বন্ধু বলতে বাধ্য হয় কে এই উপকার করেছে । কাসেম সাহেব
খুব অবাক হয়ে যায় । যেই লোক তাকে কিডনি দিল তাকে সে জেল খাটিয়েছে ।
বাসায় একটা সুন্দর পার্টি দিল । আজ তিন মেয়ে তিন মেয়ের জামাই এবং তিন মেয়ের শ্বশুর শাশুড়ি আর কাসেম সাহেবর পরিচিত তার ব্যবসার সকল বন্ধু তার অফিসের সকল অফিসারদের । কাসেম সাহেব সবার কাছে দোয়া চেয়ে বলল - আমার শরীর খুব ভাল না । আল্লাহর রহমতে আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতায়
আপনাদের মাঝে সুস্থ হয়ে ফিরে এলাম । কিন্তু আমার এত বড় ব্যবসা আমার পক্ষে
এখন দেখা শুনা করা সম্ভব না। তাই আমি আমার দায়িত্ব অন্য কাউকে দিতে চাই ।
মেজ মেয়ের জামাই ভাবল সে পাবে । ছোট মেয়ের জামাই ভাবল সরকারি চাকুরী আর কত টাকা । এই ব্যবসায় আসলেই কোটি পতি । বড় মেয়ের জামাই এটা নিয়ে
কোন চিন্তা করছে না। বড় মেয়ে ভাবছে হয়ত ছোট বোন জামাইরা পেলেই ভাল ।
কাসেম সাহেব বলল - আমার বাড়ি ঘর যা আছে সব আমার তিন মেয়ে সমান ভাবে
পাবে । আর আমার ব্যবসা ১০০% আমার বড় মেয়ের জামাই পাবে । কারন
সে অনেক শান্ত ভদ্র ও সঠিক সিদান্ত নিতে পারে , তার মাঝে ব্যবসায়িক মানবিক গুনাবলী আছে । ইকবাল বলল বাবা আমার পক্ষে এটা অসম্ভব । কাসেম সাহেব বলে
আমি আচ্ছি তোমার সাথে । কাসেম সাহেব দেখেছে যখন সে অসুস্থ ছিল তার বড় মেয়ে আর বড় মেয়ের জামাই কি নীবির পরিচর্যা করেছে । ইকাবাল শ্বশুরের সেবা করতে যেয়ে চাকুরী পর্যন্ত হারিয়েছে । ইকবাল কোন স্বার্থে সেবা করে নাই । যেন কাকন বলতে না পারে যে তুমি আমার বাবাকে অন্তর থেকে নাও নাই । অন্য দুই মেয়ের জামাই খুব হতাশ হল । আজ ইকবালের বাড়ি গাড়ি সব হল । কাসেম সাহেব জানতে পারলো ইকবালের বাবা খুব অসুস্থ । ডাঃ বলছে বাচার আশা নাই । কাসেম
সাহেব ইকবালের বাবার হাত ধরে বসে আছে । কাসেম সাহেব বলল - ভাই আপনি
আমার জন্য আপনার কিডনি দিয়েছেন এটা আমি জানি । ইকবালের বাবা বলল-
আপনার মেয়ে আমার ঘরের লক্ষ্মী । কোটে দাড়িয়ে আমার ছেলের আর আমার হাত ধরে সে চলে এসেছে । আপনার টাকা না বলে চলে এসেছে । আমি আমার বউ মায়ের জন্য আমার কিডনি দিয়েছি আপনাকে যাতে সে তার বাবার আদর পায় । বড় ভাল আপনার মেয়ে.....................।।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মার্চ, ২০১৬ দুপুর ১:৪১
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শব্দের সীমা (জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সতর্কতা!)

লিখেছেন আবু সিদ, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০

“সুন্দর শব্দ মধুচক্রের মতো, আত্মার জন্য সুমিষ্ট এবং অস্থির জন্য আরোগ্য।” — প্রবচন ১৬:২৪, বাইবেল

প্রতিদিন বাসা থেকে বের হলেই হাজারো শব্দ উড়ে এসে আছড়ে পড়ে আমাদের কানে। দূর ও নিকট... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন কর্মী ও তার ন্যায্য পাওনা

লিখেছেন কিরকুট, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২০

বাংলাদেশের বেসরকারি খাত নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা সাধারণত বিনিয়োগ, মুনাফা, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ কিংবা উদ্যোক্তার ঝুঁকির কথা ভাবি। কিন্তু এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কর্মীর শ্রম নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×