somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিনা জাহান প্রিয়া
আমি সেলিনা জাহান প্রিয়া , জন্ম পুরান ঢাকা, নাজিরা বাজার , নানা বাড়িতে ।বাবার বাড়ি মুন্সী গঞ্জ , বড় হয়েছি ঢাকা ।স্বামীর বাড়ি কিশোরগঞ্জ ।ভাল লাগে ঘুরে বেড়াতে , কবিতা , গল্প , উপন্যাস পড়তে অজানাকে জানতে । ধর্ম বিশ্বাস করি কিন্তু ধর্ম অন্ধ না ।

Prank এর নামে এ কেমন শয়তানি আর নোংরামি? বন্ধ হউক নোংরামি !!

২০ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ৯:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



একটা দৃশ্য কল্পনা করুন। একটা মেয়ে একাকী হেঁটে যাচ্ছে রাস্তা দিয়ে, সে হয়তো আপনার বোন, প্রেমিকা কিংবা বান্ধবী। একটা ছেলে এসে তার পথরোধ করে দাঁড়ালো। তারপর বললো, আমি আপনাকে চুমু খেতে চাই। মেয়েটা চিৎকার শুরু করতেই লোক জড়ো হলো। তখন আরেক নাটক, সেই ব্যক্তি/ছেলেটা দাবী করলো সে প্র্যাঙ্ক ভিডিও বানাচ্ছিল, এদিক সেদিক কোথাও লুকোনো ক্যামেরাও রাখা আছে। তার কথাবার্তায় লোকজনের কি প্রতিক্রিয়া হয় সেটা দেখার জন্যেই সে এই কাজটা (তাদের ভাষায় গবেষণা) করছে! মানুষরূপী ছাগলটার কানের নীচে কষে দুটো চড় মারার ইচ্ছেটাতে লাগাম দিতে পারবেন তখন আপনি?
গুগলে সার্চ দিলাম Prank শব্দের মানে জানতে চেয়ে। গুগল জানালো শব্দটার অর্থ তামাশা বা কৌতুক করা, কারো জন্যে দুষ্টুমি করে মজার কোন ফাঁদ বানিয়ে রাখা। দুষ্টুমি, মজা, তামাশা বা কৌতুক- সবকিছুরই তো একটা সীমা আছে। সেটা আমরা ক’জনে মানছি?
.
এই বঙ্গে প্র্যাঙ্ক নামের অখাদ্য বস্তুটার আমদানী ঘটেছিল সম্ভবত ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরদের হাত ধরে। তবে সেখানে একটা লাগাম ছিল। এখন যেগুলো হচ্ছে ‘প্র্যাঙ্ক’ শব্দের নামে, সেগুলোকে নোংরামি বললেও কম বলা হয়।
বিশেষত মেয়েরাই বেশী আক্রান্ত হচ্ছে এই নোংরামীর, জনসম্মুখে লুঙ্গি খুলে ফেলা, গায়ে প্লাস্টিকের সাপ ছুঁড়ে মারা বা চুমু খেতে চাওয়াটা ঠিক কোন ধরণের প্র্যাঙ্কের আওতায় পড়ে সেটা কি বুদ্ধিশুদ্ধি পকেটে ঢুকিয়ে রেখে রাস্তায় নামা এই ছেলেগুলো কখনও ভেবেছে কি?
.
আমার খুব জানতে ইচ্ছে হয়, এরা কি ঘরে বাইরে সব জায়গাতেই একই রকম? এদের মা-বোনদের সামনে হুট করে লুঙ্গি খুলে ফেলেও কি এরা বলে, স্যরি প্র্যাঙ্ক করছিলাম, ওই যে হিডেন ক্যামেরা!
.
কিংবা অফিসফেরত ক্লান্ত বাবার গায়ে প্লাস্টিকের সাপ ছুঁড়ে দিয়ে সোশ্যাল এক্সপেরিমেন্ট করে? করতেও পারে, এদের দ্বারা এসব খুবই সম্ভব। মানুষের নৈতিক শিক্ষাটা তো পরিবার থেকেই আসে, পরিবার সেটা সন্তানদের ঠিকঠাকভাবে দিতে না পারলে কি হয় তার প্রমাণ প্র্যাঙ্ক ভিডিও নির্মাণকারীরা দেখিয়ে দিচ্ছে ইদানিং।
.
রসিক জাতি হিসেবে আমাদের জুড়ি ছিল না কখনোই। এই ভারতীয় উপমহাদেশেরই মানুষ ছিলেন বীরবল, হাস্যরসের সাগর গোপাল ভাঁড়ের জন্মই তো হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের নদীয়ায়।
.
অথচ সেই একই অঞ্চলের মানুষ হয়েও আমাদের ছেলেমেয়েরা এখন বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছে প্র্যাঙ্ক ভিডিও নামের নোংরামীকে, যেখানে হাস্যরসের ছিটেফোঁটাও নেই, আছে কুৎসিত মানসিকতার কদর্য বহিঃপ্রকাশ!
ডোবার ব্যাঙের গল্পটা সবাই জানেন, একজনের জন্যে যেটা খেলা, অন্যকারো জন্যেই সেটা মরণ হতে পারে। রাস্তাঘাটে প্র্যাঙ্কের নামে এসব নোংরামিতে কেউ কেউ মজা পেতে পারেন, তবে ভুক্তোভোগী মানুষটা সেই মজার অংশ হতে পারেন না কখনোই। তার মন থেকে আপনাদের জন্যে একরাশ ঘৃনা ছাড়া আর কিছুই উৎসর্গ হয় না।
.
আর মানুষের সহ্যক্ষমতাও খুব বেশী না এখন, কাল আপনার প্র্যাঙ্ক নামের কদাকার নাটকগুলো নিতে না পেরে যদি কেউ আপনারই গায়ে হাত তুলে বসে, খারাপ কোন দুর্ঘটনা ঘটে যায়, সেটার দায় কে নেবে? এ কারণেই সম্ভবত প্র্যাঙ্কের পুতুল হিসেবে মেয়েদেরকেই বাছাই করা হচ্ছে বেশী।
.
জীবনে আনন্দ বিনোদনের খুব অভাব? মানুষকে হাসাতে চান? গায়ে রং মেখে সং সেজে রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়ুন, সামনে একটা থালা বাটি কিছু রাখুন। লোকের পছন্দ হলে দু-চারটে টাকা ফেলে যাবে, কিছু বাড়তি আয়ও হবে আপনার! গান জানা থাকলে সেটাও গাইতে পারেন, সমস্যা নেই কোন।
.
আরো ভালো কিছু করতে চাইলে স্ট্যান্ডআপ কমেডি করুন, কেউ নিষেধ করবে না। শুধু প্র্যাঙ্ক ভিডিও বানানোর নামে অযথা মানুষকে উত্যক্ত করে নিজের অসভ্যতার পরিচয় দিয়ে বেড়াবেন না দয়া করে।

সুত্র- ইন্টার নেট ।।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০১৭ রাত ৯:২৮
১৬টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×