
রাত সবে ভোর হতে চলেছে। দিগন্ত জুড়ে লালচে আভা। শীতের শেষে অতি প্রত্যূষে নদীর উপর হালকা কুয়াশার পর্দা। হাইফাসিস নদীর তীরে দাঁড়িয়ে দূর দিগন্তের দিকে তাকিয়ে ভাবনার গভীরে ডুব দিয়েছেন আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট! মহাবীর আলেকজান্ডার,সর্বকালের সর্বসেরা সমরবিদ গ্রীক এই নৃপতি। পেছনে হাজার হাজার তাঁবু টাঙ্গিয়ে গভীর নিদ্রায় মগ্ন তার লক্ষাধিক সুদক্ষ সু শিক্ষিত ও বিশ্বের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ সৈন্য দল।
ত্রিশ বছরের টগবগে যুবক সে। তার বাবা দ্বিতীয় ফিলিপ আততায়ীর হাতে নিহত হবার পরে মাত্র বিশ বছর বয়সে তিনি ম্যাসেডোনিয়ার রাজা হন। তার বাবা ফিলিপ সামরিক এবং কূটনৈতিক উভয় উপায়েই গ্রীসের মূল ভূখণ্ডগুলোর বেশিরভাগ নগর-রাজ্যকে ম্যাসেডোনিয়ার আধিপত্যের অধীনে নিয়ে এসেছিলেন।
বাবার মৃত্যুর পরে তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে একটি শক্তিশালী রাজ্য এবং বিশাল সুসজ্জিত ও অভিজ্ঞ সেনাবাহিনী লাভ করেছিলেন।
হাইফাসিস নদীর তীরে দাঁড়িয়ে মনে পড়ছে তার শিক্ষাগুরু খ্যাতিমান গ্রীক দার্শনিক এরিস্টটলের কথা। যুদ্ধ, হত্যা,লুণ্ঠন,বীভৎসতা তিনি ঘৃণা করতেন। রাজ্য পরিচালনাকে সমর্থন করলেও তিনি কখনোই তাকে যুদ্ধবাজ হতে বলেননি।
কিন্তু ভয়ঙ্কর যুদ্ধবাজ ও আগ্রাসী বাবার রক্ত তার ধমনীতে বইছে। অতি অল্প বয়সে সিংহাসন লাভ করায় সে আরো এডভেঞ্চারাস হয়েছে। ক্ষমতা গ্রহণ করেই তিনি তাঁর পিতার সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য নতুন এক সামরিক পরিকল্পনা করেছিলেন।
সারা পৃথিবী করায়ত্ত করতে হবে এমন দুর্দমনীয় বাসনা চেপেছিল তার। সিংহাসন আরোহণের দু’বছর পরেই সে বেড়িয়ে পড়েছে তার চৌকশ ও দুর্ধর্ষ সৈন্যবাহিনী নিয়ে সারা পৃথিবী তার করায়ত্ত করার বাসনায়।
আজ আট বছর হতে চলল সে তার ঘর থেকে বেরিয়েছে। সে এখনো অপ্রতিরোধ্য। সুদূর আইওনিয়ান সমুদ্র থেকে হিমালয় পর্যন্ত তিনি যুদ্ধে অপরাজিত- পথের সব বাঁধাকেই তিনি তুচ্ছ করে এগিয়ে এসেছেন।
খ্রিস্টপূর্ব ৩২৬ অব্দ। হাইফাসিস নদীর তীরে ভীষণ চিন্তামগ্ন ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সফল সেনাপতি,প্রাচীন ইতিহাসের বৃহত্তম সাম্রাজ্যের স্রষ্টা আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট।
গত আট বছর ধরে একনাগাড়ে তিনি একের পর এক রাজ্য জয় করে অবশেষে তিনি পৌঁছেছেন এই হাইফাসিস বা বিয়াস বা বিপাশা নদীর তীরে। তার আগে বিশ্বের কোন নৃপতিই ভারতবর্ষ জয়ের স্বপ্ন দেখেনি। তিনি দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ পুরো ভারতবর্ষ তার করায়ত্তে আনার জন্য।
-------------------------------------------------
খ্রিস্টপূর্ব ৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি ২২ বছর বয়সে পারস্য শাসিত এশিয়া মাইনর (বর্তমানে তুরস্ক অঞ্চল) আক্রমণ করেছিলেন এবং দশ বছর ধরে তার সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য একের পর এক যুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন। খ্রিস্টপূর্ব ৩২৮ অব্দের মধ্যে সমগ্র পারস্য এবং আফগানিস্তান তার দখলে এলে তিনি আরও পূর্বে অবস্থিত দেশগুলির দিকে নজর ফেরান। ৩২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দের বসন্তকালে তিনি হিন্দুকুশ পর্বত অতিক্রম করে আরও পূর্বে অগ্রসর হন। কাবুল নদীর তীর বরাবর এগিয়ে এসে তাঁর বাহিনী প্রথমে প্রথমে গান্ধার রাজ্যের উত্তরে পৌঁছেছিলেন যা এখন পাকিস্তান। বর্তমানে পাঞ্জাব সহ বিশাল এই অঞ্চলটি আলেকজান্ডার জয় করে। সে বছরই তিনি এক স্থানীয় হিন্দু শাসক পরাসকে পরাজিত করেছিলেন,যিনি তখন পাঞ্জাবের রাজা ছিলেন।
বর্তমান পেশোয়ার নগরীর উত্তরে অবস্থিত চারসাদ্দা ধ্বংস করে তার পদানত করেন। জানা যায় এরপর বাম প্রান্তকে সুরক্ষিত করার উদ্দেশ্যেই তিনি তাঁর বাহিনী নিয়ে সোয়াট উপত্যকা অভিমুখে অগ্রসর হন ও এই অঞ্চলের বিভিন্ন জাতির মানুষকে দাসত্ব-শৃঙ্খলে আবদ্ধ করেন। এর ফলে এই অঞ্চলের প্রচুর গবাদি পশুও তাঁর দখলে আসে। এই অঞ্চলের আসাকেনী’য় জাতিগোষ্ঠী তাঁর বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শেষপর্যন্ত তাঁর রাজধানী মাসাগা শহরে (এখনও পর্যন্ত এই শহরটির সঠিক অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি) অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে তার রণকৌশলের সামনে তাঁকে হার স্বীকার করতে বাধ্য হয়।
এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য রাজ্য দখল করে তিনি সম্ভবত নৌকা সেতুর সাহায্যে সিন্ধু নদ পার হয়ে খ্রিস্টপূর্ব ৩২৬ অব্দে ভারত ভূখণ্ডে পদার্পণ করেন। এই সময় তিনি পূর্বতন আকামেনিদীয় সাম্রাজ্যের গান্ধার ও সংলগ্ন সমস্ত রাজা ও গোষ্ঠী প্রধানদের তাঁর কাছে বশ্যতা স্বীকার করার জন্য আহ্বান জানালে তক্ষশীলার রাজা অম্ভি (গ্রিক উচ্চারণে অমফিস) তাঁর নিকট স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন। বাকি যারা আত্মসমর্পন করেনি তাদের যুদ্ধে পরাজিত করে আরো কিছু রাজ্য দখল করে তিনি বিপাশা নদী পর্যন্ত অগ্রসর হন।
বিপাশা খরস্রোতা অথচ ছোট নদী –এ নদী অনায়াসেই তিনি পার হয়ে যেতে পারেন। কিন্তু তার লক্ষ্য ভিন্ন। গত দু’বছর ধরে তিনি পরিকল্পনা করছেন শুধু রহস্যময় বিশাল এক রাজ্য জয় করার জন্য,সে রাজ্যের নাম গঙ্গারিদি বা গঙ্গারিডাই। সেজন্য মুল বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশাল প্রমত্তা গঙ্গা নদী। তাঁর সংগৃহীত তথ্য অনুসারে,যাত্রাটিকে সম্ভব করার জন্য তিনি স্থানীয় লোকেদের দ্বারা বড় নৌকা তৈরি শুরু করেছিলেন। তাকে এবং সেনাবাহিনীকে বঙ্গীয় অভিযানের যাত্রা শুরু করতে ৮০০ টি নৌকার দরকার ছিল। স্থানীয় লোকেরা প্রায় দুই বছর সময় নিয়ে সেই নৌকা তৈরি করেছে। এখন শুধু সামনে এগিয়ে যাওয়া।
(বাংলাঃ প্রাচীন রোমান ও গ্রিকদের কাছে এই অঞ্চল গঙ্গারিডাই বা গঙ্গারিদি অথবা গঙ্গারিডি নামে পরিচিত ছিল। চার সহস্রাব্দ পূর্বে বাংলায় সভ্যতার ক্রমবিকাশ শুরু হয়। প্রাচীন গ্রিক ও রোমান ভাষায় এই অঞ্চলকে গঙ্গারডাই নামে উল্লেখ করা হয়েছে। একসময় গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদ এক অর্থে বাংলাকে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল।)
মহান বীর আলেকজান্ডারের কপালে চিন্তার ভাঁজ।গত দুবছর ধরে তিনি তার দুর্ধর্ষ ও চৌকশ গোয়েন্দাদের দিয়ে সবধরনের সংবাদ সংগ্রহ করেছেন;মুল চিন্তাটা সে জন্যই।
গঙ্গারিদি সাম্রাজ্যের সামরিক শক্তির তথ্য পেয়েছিল। তিনি জেনেছেন যে,গঙ্গারিদির রাজা গন পারিসি (নন্দ) সাম্রাজ্যের সাথে জোট বেঁধে দুই লক্ষ পদাতিক,বিশ হাজার অশ্বারোহী-ঘোড়া, দুই হাজার চার-ঘোড়ার রথ এবং তিন হাজার প্রশিক্ষিত হাতি এবং যুদ্ধের জন্য অস্ত্র সহ সজ্জিত হয়ে তাকে প্রতিহত ও পাল্টা আক্রমণের জন্য অপেক্ষা করেছিল।
একের পর এক যুদ্ধ দীর্ঘ ভ্রমণ ও পরিশ্রমে রণ ক্লান্ত সেনাবাহিনী গঙ্গা নদীর কাছাকাছি গঙ্গারাদির বিশাল বাহিনীর মুখোমুখি হতে ভয় পেয়ে গেছে। তাদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। গোয়েন্দা মারফৎ তিনি জানতে পেরেছেন তারা যেকোনো সময়ে তারা বিদ্রোহ করতে পারে।
সেদিন সকালেই আলেকজান্ডার তার প্রধান সেনাপতি কোইনস’কে তলব করলেন তার তাবুতে একান্তে কিছু আলোচনা সারবেন বলে। এই যুদ্ধের ব্যাপারে কোইনসের মতামত ভীষণ জরুরি।
কোইনস দীর্ঘ এই সফরে আলেকজান্ডারকে এত চিন্তিত ও হতাশ দেখেননি। তিনি সম্রাটকে বললেন,’ মহামান্য সম্রাট,আপনি অন্য জগতে প্রবেশ করার চেষ্টা করছেন। যে দেশ সন্মন্ধে ভারত এমনকি ভারতীয়রাও জানে না। এটি আপনার দিগ্বিজয়ের জন্য বেশ ভয়ঙ্কর ও বড়সড় একটা পদক্ষেপ,তবে এই যাত্রায় হয়ত আমাদের সঙ্গ পাবেন না।'কোইনস একটি স্মরণীয় বক্তব্য রেখেছিলেন। এখনো পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্য ভাবে আমরা এগিয়ে চলেছি- তবে এবার সময় এসেছে স্বপ্নের রাশ টানার- আপনি এই চিন্তা পরিত্যাগ করুন।
তবুও তিনি কোইনসকে অনুরোধ করলেন, তার সব সেনাপতি ও সৈন্যবাহিনীকে একত্রিত করার জন্য। অভিযান সমাপ্তি ঘোষণার আগে তিনি চাইছেন তাদের সাথে শেষ একবার কথা বলার জন্য;
আলেকজান্ডার তার সৈন্যদের উজ্জীবিত করার জন্য সব ধরনের চেষ্টাই করেছিলেন। ভয়কে জয় করার চেষ্টা করেছিলেন এবং গঙ্গারীদির দিকে অগ্রসর হওয়ার জন্য তাদের প্ররোচিত করলেন- বিশাল সম্পদের প্রলোভন দেখালেন। তিনি তাদের রাজা,দেশ এবং গ্রীক দেবতাদের প্রতি ভালবাসার আবেদন করলেন। তিনি তাঁর সৈন্যদের সম্মোহিত করার জন্য সাহস জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করে বললেন যে,’ প্রাচ্যের এই দেশগুলোর সন্মন্ধে আগে আমরা কতই না সত্য মিথ্যায় মেশানো আজগুবি ভয়ঙ্কর গালগল্প শুনেছি- সেই গল্পগুলি যদি সত্য হোতো তবে আমরা অনেক আগে এশিয়া থেকে পালিয়ে যেতাম। গঙ্গার ওপারের ওই রাজ্যগুলোকে নিয়েও এমন মিথ প্রচলিত আছে। আমরা যদি ভয়ে পিছিয়ে আসি তাহলে ইতিহাস আমাদের কাপুরুষ বলে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করবে।‘ আলেকজান্ডার তার কথা শেষ করে তার বিশাল সৈন্যদলের দিকে তাকালেন- তার ধারনা ছিল তার এই ঐন্দ্রজালিক বক্তব্যে সবাই ভীষণ উজ্জীবিত হয়ে ভয়ঙ্কর গতিতে সামনে এগিয়ে যাবে। কিন্তু চারিকে যেন কবরের নিস্তব্ধতা। আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেটের এই মহা পরাক্রম শীল সৈন্যদল মাথা নিচু করে নীরবে দাঁড়িয়ে আছে। তারা তারা পৃথিবীর ইতিহাসের সর্বকালের সর্বসেরা এই নৃপতির ডাকে সাড়া দিল না।
আলেকজান্ডার চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ হলেন। তিনি আর একটি বাক্যও উচ্চারণ না করে ফিরে গেলেন নিজ তাবুতে। দ্বার রক্ষীকে আদেশ দিলেন তার অনুমতি ছাড়া যেন তার তাবুতে প্রবেশ না করে।
একটা তিনদিন পানীয় আহার ও নিদ্রাহীন অবস্থায় তিনি নিজেকে সেই কামরায় নিজেকে বন্দি করে রাখলেন। নিজের সাথেই নিজে এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধ করলেন।
~তিনদিন পরে সেই তাঁবু থেকে বেড়িয়ে এলেন অন্য এক আলেকজান্ডার। যেন সপ্নহীন মৃত এক মানুষ। অবশেষে তিনি কোইনসকে ডেকে সামনে আর অগ্রসর না হয়ে ফিরে যেতে মনস্থ করলেন!
তার এই ঘোষণায় সৈন্যদলের মধ্যে খুশীর বন্যা বয়ে গেল! তারা আলেকজান্ডারের নির্দেশে তাঁর অভিযানের সীমা ও গৌরব চিহ্নিত করতে সেখানে বারোটি বিশাল বেদী স্থাপন করল।
আলেকজান্ডার তার বাল্য বন্ধু নিচেরাসকে বহরের অ্যাডমিরাল হিসাবে নিয়োগ করেছিলেন। তারপরে তিনি তার সিংহভাগ সৈন্য সহ তাঁর সামরিক প্রধান কোইনস ও অ্যাডমিরাল নিচেরাসকে পারস্য উপসাগরের দিকে প্রেরণ করলেন এবং তিনি তাঁর বাকী সেনাবাহিনীকে ব্যাবিলনের মধ্য দিয়ে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে মনস্থ করেন। তবে তার দৃঢ় সঙ্কল্প ছিল যে, ফের তিনি ফিরে আসবেন। তিনি একদিন অজেয় গঙ্গারাদি বা বাঙলাকে জয় করবেনই।
কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস,তার ফেরার পথে মালিয়ানস নামে এক সুরক্ষিত নগরীর উপকণ্ঠে পৌঁছান। ভয়ঙ্কর যুদ্ধবাজ এই নৃপতির খায়েস হোল সেই রাজ্য দখলের- কিন্তু সেই রাজ্যের চারপাশের কঠিন দেয়াল ভেদ করে রাজ্য দখল করা ভীষণ কঠিন হয়ে গেল! সেই রাজ্য তিনি দখল করতে পেরেছিলেন কিনা ইতিহাসে তা লিপিবদ্ধ নেই তবে ডুয়েল লড়াইয়ে আলেকজান্ডার সে রাজ্যের রাজাকে হত্যা করেছিলেন। রাজাকে হত্যা করে তিনি যখন ভীষণ অহংকারে মুষ্টিবদ্ধ তলোয়ার উঁচিয়ে ধরলেন ঠিক তক্ষুনি কোত্থেকে এক বিষাক্ত তীর এসে তার বুকে বিদ্ধ হোল।
সেই তীরের আঘাতে তার ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। হেকিম ও কবিরাজরা তার বেঁচে থাকার আশা ত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু আলেকজান্ডার অলৌকিকভাবে সে যাত্রায় বেঁচে গেলেও সেই ভয়ঙ্কর ক্ষতই তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিল। তিনি ব্যাবিলনে ফিরে যাবার দু’বছরের মাথায় মাত্র বত্রিশ বছর বয়সে ৩২৩ খৃস্টপূর্বে মৃত্যবরন করেন।
তিনি তার শেষ অভিলাষ আর কোনদিনই পুরন করতে পারলেন না। গঙ্গা ডিঙ্গিয়ে গঙ্গারিদি নামে বিশাল সেই সাম্রাজ্য মহাবীর দ্য গ্রেট আলেকজান্ডারের অজেয়ই রয়ে গেল। আমাদের প্রাচীন বাংলা ভয়ঙ্কর এই সমরবিদ ও আগ্রাসী নৃশংস নৃপতির পদস্পর্শ থেকে বেঁচে গেল- বেঁচে গেল তার ধ্বংসলীলা আর ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের হাত থেকে- যার কৃতিত্ব পুরোটাই সেই সময়ের বাংলার অসীম সাহসী রাজাগণ ও তাদের মিত্র নন্দের রাজার। যাদের দৃঢ় সংকল্প অমিততেজ ও ভয়ঙ্করের মুখোমুখি হবার চরম দুঃসাহস আলেকজান্ডারকে পিছু হঠতে বাধ্য করেছিল।
~নন্দ সাম্রাজ্য চারশত খ্রিস্টপূর্বে প্রাচীন ভারতের মগধ রাষ্ট্র থেকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি ৩৪৫ খ্রিস্টপূর্ব থেকে ৩২১ খ্রিস্টপূর্ব পর্যন্ত টিকে ছিল। বড় ব্যাপার হল,এই সাম্রাজ্য পূর্বে বাংলা,পশ্চিমে পাঞ্জাব এবং দক্ষিণে বিন্ধ্যা পর্বতমালা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এই সাম্রাজ্যের শাসকরা তাদের ধনসম্পদ অর্জনের জন্য বিখ্যাত। পরবর্তীতে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য এই সাম্রাজ্যকে পরাজিত করে মৌর্য সাম্রাজ্য স্থাপন করে।~
~এ সন্মন্ধে যে সমস্ত ইতিহাস, বিবরণ, গল্প যা আমরা পাঠ্যে পাই তার প্রায় সবগুলো গ্রীক লেখক এবং ঐতিহাসিকরা লিখেছিলেন। মেগাস্থিনিস,আরিয়ান,সিকুলাস, টলেমী, পেরিপ্লাস ছিলেন গ্রীক লেখক,ইতিহাসবিদ, ভূগোলবিদ মূলত; যারা আলেকজান্ডারের সাম্রাজ্য বিস্তার ও অসীম সাহসিকতার সাফাই গেয়ে যুদ্ধের ইতিহাস লিখেছিলেন। তারা সেই সময়ের সমসাময়িক দেশগুলি,তাদের অবস্থানগুলি,মানুষ,তাদের সংস্কৃতি এবং রীতিনীতি সহ কিছু উল্লেখযোগ্য বিষয় সম্পর্কে বর্ণনা করেছিলেন। সুতরাং, এখানে এই নিবন্ধে যা বর্ণনা করা হয়েছে সেগুলি সমস্ত তথ্যগুলি তাদের লিখন থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
তথ্য সুত্রঃ
ব্লগ পোস্টঃ উই লাভ বাংলাদেশ
উইকিঃ নন্দ এম্পেরার
উইকিঃ বিয়াস রিভার
উইকিঃ ইন্ডিয়ান ক্যম্পেইন আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট
উইকিঃ হিস্টরি অফ বেঙ্গল
ভিক্টোরিয়াটেলঃ আলেকজান্ডার ফেইল্ড কনকার ইন্ডিয়া
সহ অন্যান্য সূত্র।
ভাষান্তর,রূপান্তর,অনুলিখন; শেরজা তপন
*তথ্যগত ভুল থাকলে কেউ শুধরিয়ে দিলে কৃতজ্ঞ থাকব।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুলাই, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




