কয়েকদিন পূর্বে কিছু জরুরী কাজে বাসে করে ঢাকায় যাচ্ছিলাম। বনানী পর্যন্ত আসার পর প্রচন্ড জ্যামে পড়ে মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়ল আমাদের বাসটি। আর তখনই হুরমুরিয়ে গুলশানের একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির একদল ছাত্র বাসে উঠল। উদ্দেশ্য নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছা।
যাই হোক, জ্যাম থেকে মুক্তি পেয়ে বাস তার আপন গতিতে চলতে লাগল। তখন কেবল মহাখালী ফ্লাইওভার ক্রস করেছি; ঠিক সেই মুহূর্তে দৃশ্যটা আমার গোচরীভূত হল।
আমার ঠিক পাশে ভিড়ের মাঝে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির একটি ছেলে বাসের হাতল ধরে দাঁড়িয়ে আছে। পরনে শর্ট গেঞ্জি আর হেভি টাইট একটি জিন্সের প্যান্ট। আমি যেভাবে লিখছি, পোষাকগুলো সেরকম হলে আমার এত মাথাব্যথার কোন কারণই ছিল না। কিন্তু সত্যি বলতে কি, গেঞ্জিটা এতই শর্ট ছিল যেন কোন "ব্লাউজ"কে জোর করে টেনে নাভি পর্যন্ত নামানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আর প্যান্টটা পায়ের সাথে এমনভাবে সেঁটে আছে যা দেখে মনে হয় যেন এই খসখসে জিনিসটিই ওর চামড়া।
সেটাও না হয় ভাল ছিল। কিন্তু বাসের ঝাকুনিতে এবং ভারসাম্য রক্ষার জন্য হাত বারবার উপরে উঠানোর ফলে যখন ওর গেঞ্জিটা বুকের দিকে চলে যাচ্ছিল এবং প্যান্টটা নাভি হতে পতাকা নামানোর ন্যায় আস্তে আস্তে নীচে নামছিল, তখন মনে হচ্ছিল আহা বেচারা আধুনিক পোষাক!! মানুষকে ঢেকে রাখার তোমার সব চেষ্টাই বুঝি ব্যর্থ হতে চলল।
আসলে আমার প্রশ্নটা হলো- পোষাকের এই শর্টার ভার্সনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য কি কোন সুফল বয়ে এনেছে, আনছে বা আনবে????

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


