somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুরান ঢাকায় কিছু টুকটাক অভিজ্ঞতা

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ৯:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পুরান ঢাকা- নামে,ঐতিহ্যে এবং প্রাচুর্যে পুরানো হলেও যেকোন মানুষের কাছে ইহা প্রতিদিন নতুনভাবে ধরা দেয়।ঢাকার ঐতিহ্য সম্পর্কে কখন যদি কিছু জানতে চান তাহলেপ্রথমেই চলে যান পুরান ঢাকায়।ওইখানকার হোটেল,রেস্তোরা থেকে শুরু করে প্রধান বাহন রিকশা,প্রধান পেশা ব্যবসা,প্রধান পোশাক সাদা লুঙ্গি-পাঞ্জাবি,আইকন খাবার রসালো পান-সব কিছুতেই খুজে পাওয়া যায় নিত্যনতুন সব অভিজ্ঞতা।গত এক মাস যাবত পুরান ঢাকায় চলাচল করে বেশ কিছু ব্যাপার এক দিকে যেমন জানছি তেমনি অন্যদিকে শিখছি এবং উপভোগ করার চেষ্টা করছি।আমার সাথে মিলিয়ে দেখুন ,দেখি আপনারাও আমার সাথে একমত কিনা।

প্রথমেই আসি পুরান ঢাকার প্রধান বাহন রিকশাকে নিয়ে,যারা আদি পুরান ঢাকাইয়া তারা হয়ত ভ্যাসপা নামক বাইক ব্যবহার করে যেটা কিনা বর্তমানে পালসার দ্বারা অপসারিত হয়ে যাচ্ছে কিন্তু পাশাপাশি ওইসব এলাকার আনাচে কানাচে রিকশা দেখা যাবেই।রিকশাওয়ালা এবং তাদের রিকশার মধ্যে আবার বেশ কিছু বৈশিষ্ট লক্ষ্য করা যায়।এই যেমনঃ

১/মতিঝিল থেকে মিটফোর্ডে বা অন্যকোন এলাকায় প্রায় ১২-১৪টি শাখাযুক্ত রাস্তা দিয়ে যাওয়া যায়।রিকশাওয়ালারা কেন জানি ১৩ টা রাস্তা অতিক্রম করার পর ১৪ নং রাস্তা ভুলে যায় তার কারন ১৪ নং রাস্তা আবার ৫-৬ তা প্রশাখাযুক্ত।
২/রিকশাওয়ালাদের মধ্যে ঐকতা বেশ ভাল ভাবেই দেখা যায়।তার কারন ভাড়া জিজ্ঞেস করতে গেলে এত জোড়ে চিল্লায়ে ভাড়া বলে যে আশেপাশের বাকিরা সচকিত হয়ে যায় এবং বুঝতে পারে যে ওই মূহুর্তে ভাড়া কত হবে।ভাড়া না মিললে বলে,"আজকে আর বাসায় যাইতে পারবেন না"।এই কথা শুনে অন্যরা যা খুশি হয় না!!!
৩/গত ৩০ দিনে যে কয়টি রিকশায় করে চলাচল করেছি তার মধ্যে প্রায় ৮০% সঠিক জানে না যে নয়াবাজার কোন রাস্তা দিয়ে যেতে হয়।কেন রে ভাই?এই কথাটা রিকশায় উঠার আগে বললে কি হয়?
৪/পুরান ঢাকায় যাওয়ার সময় খাওয়াদাওয়া করে বের না হওয়াই ভাল।খাওয়াদাওয়া করলেও আগে মনে করে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে নিবেন।রাস্তা ঘাটে কে জানে কখন কি হয় ঝাকুনির ঠেলায়
৫/পুরান ঢাকাগামী রিকশাওয়ালাদের উচিত তাদের বাহনে সীট বেল্ট ব্যবহার করা নাহলে কোন একদিন হয়ত দেখবে যে রিকশা ঠিকই লাফিয়ে লাফিয়ে চলছে কিন্তু পিছনে যাত্রী নেই
৬/গালাগালির দিক দিয়ে তারা কোন অংশে কম না।পিছন থেকে,সামনে থেকে,ডান থেকে,বাম থেকে যেখান থেকেই অন্য রিকশা অভারটেক করুক না কেন গালি তাকে শুনতেই হবে তা সে রাস্তায় যতই জ্যাম থাকুক না কেন।
৭/রিক্সাওয়ালারা নিজের রিক্সাকে ফেরারি গাড়ি মনে করে।চান্স পাইলেই এমন টান দেয় যেন মনে হয় তার স্বজনদের কেউ ইমার্জেন্সিতে আছে

এরপর আসি হোটেল রেস্তোরা গুলোর দিকে।হোটেলগুলো নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা একটু অন্য রকম।এই যেমনঃ
১/হোটেলগুলাতে তিনজনের বেশি চা খেতে গেলে যে কোন একজনকে গ্লাসে করে খেতে হবে
২/খাবারের অর্ডার দেওয়ার জন্য ওয়েটার কে কমপক্ষে ১০-১২ বার "মামা " বলে ডাকা লাগে।নিজের আপন মামাকেও কেউ মনে হয় এতোবার মামা ডাকে নি।
৩/ওয়েটাররা টিপস নেওয়ার জন্য আর ওয়েট করে না।কত টাকা টিপস দরকার তা আগেই কেটে নেয়
৪/এক ওয়েটারের কাজ আরেক ওয়েটার কেন জানি করতে চায় না।কিছু আনতে বললে কথা না শুনার ভান করে চলে যায়।

পুরান ঢাকার রাস্তাগুলো যে আসলে কোথা থেকে শুরু আর কোথায় গিয়ে শেষ তা এখনও আমি বুঝে উঠতে পারি নাই।মতিঝিল থেকে নয়াবাজারে প্রায় ১৫ টার মত রাস্তা দিয়ে গিয়েছি।সব ক্ষেত্রেই রিকশাওয়ালাকে একবার করে থেমে দেখতে হয়েছে যে এরপর কোন রাস্তা দিয়ে যাবে।এমনও দিন গিয়েছে যেদিন আমি আর রিকশাওয়ালা দুইজনি মিলে ঠিক করেছি যে এরপর কোন রাস্তা দিয়ে যাবো।রাস্তা গুলো এমন চিপা যে দুটি রিকশা পাশাপাশি চলতে পারবে না কিন্তু তবুও চলছে।মাঝে মাঝে রিকশাওয়ালা আমাকে অপশন দিয়ে বলে যে আমি কোন রাস্তা দিয়ে যেতে চাই।রাস্তাঘাটের অবস্থা এখনও আমাদেরকে গ্রাম্য এলাকার কাচাপাকা রাস্তার কথা মনে করিয়ে দেয়।যাওয়ার সময় যে ঝাকুনি খেতে হয় তাতে পেটের খাবার অটো গিয়ারে হজম হয়ে যায়।জ্যাম যদিও সব জায়গারি একটা অনিবার্য অংশ তবুও সেখানে ছোট ছোট কারনে জ্যাম লাগে।এই যেমনঃ ছোট ছোট গলিগুলোতে জেনে হোক বা না জেনে হোক দুটি রিকশা ঢুকলেই জ্যাম লাগে।সেই জ্যাম আবার চলে যায় মেইন রাস্তা পর্যন্ত।

পুরান ঢাকার একেবারে গোড়ার বিষয় যেমন খাবার দাবার,মানুষের ব্যবহার,বাসস্থান এসব নিয়ে বলব না কেননা এগুলো আমাদের ভাললাগার একটা অংশ।কিছু কিছু অভিজ্ঞতা সবার সাথে প্রতিদিনই হয় আবার কিছু কিছু অভিজ্ঞতা মানুষের চাওয়া হয়ে দাড়ায়।আমি এখন সেটারই অপেক্ষায় আছি।পুরান ঢাকার ঐতিহ্য বেচে থাকুক হাজার বছর ধরে।
১৫টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×