শিক্ষা ক্ষেত্রে একজন মানুষ তিন ধরনের জীবনের মখোমুখি হয়-স্কুল জীবন,কলেজ জীবন আর ভার্সিটি জীবন। স্কুল জীবনে যখন কেউ জিজ্ঞাসা করে যে বাবু তোমার নাম কি, তুমি কোন স্কুলে পড় তখন আমাদের সবারি একটা কমন জবাব থাকে যে আমার নাম অমুক আমি পড়ি তমুক জাইগায়।কলেজ জীবনে আর কেউ নাম জিজ্ঞেস করতে আসে না তখন খালি জানতে চায় আমি কোন কলেজ়ে পড়ি বা কোন ইয়ার-এ পড়ি।কিন্তু ভার্সিটি জীবনে নাম,শিক্ষাক্ষেত্র এসব নিয়ে কেউ আর জানতে চায় না কারন তখন আমাদের একটা জবাবই তারা আশা করে।আর তা হল-আমি দল করি না লীগ করি।বিশেষত সরকারী ভার্সিটিগুলাতে অনেকেই ভার্সিটি পরিচয়পত্র পাওয়ার আগে রাজনৈতিক পরিচয়পত্রতা আগে পেয়ে যায়।তা সেটা আপনাকে জানিয়ে দেওয়া হোক বা না জানিয়ে দেওয়া হোক।
সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হল আপনি যদি কোন সরকারি ভার্সিটিতে প্রথমবর্ষের ছাত্র হোন তাহলে একটা কথা মাথায় রাখুন,আপনি যে কখন,কবে,কোথায় লীগ বা দলের কর্মী হয়ে যাবেন্ তা আপনি টেরই পাবেন না,হয়ত মার খেয়ে পড়ে থাকার পর কোন এক সকালে আপনার আব্বা বা আম্মা খবরের কাগজে পড়বেন যে অমুক ভার্সিটির তমুক নামের ছাত্র দল বা লীগের মার খেয়ে চিতপটাং হয়ে ক্যাম্পাসে পড়ে আছে।তখনি হয়ত আপনার আব্বা বা আম্মা আপনাকে ফোন দিয়ে জানতে চাইবে,কিরে তুই অমুক দলে কবে জয়েন করলি? আমাদের দেশে যে দল যখন ক্ষমতায় থাকে তখন সেই দলের ছাত্র কর্মীরা ক্যাম্পাসে ক্ষমতায় থাকে।তাহলে আশা করি এখানে "অমুক তমুক" কাকে বুঝিয়েছি আপনারা বুঝতেই পেরেছেন।যদি আপনারা লীগ বা দলের কেউ হয়ে থাকেন তাহলেতো এই আর্টিকেলের শিরোনাম দেখেই কাহিনী বুঝতে পেরেছেন।
"নিউট্রাল" শব্দটার আভিধানিক অর্থ হল নিরপেক্ষ।কিন্তু ছাত্রজীবনে এই অর্থ বলতে কোন একটা ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক দলে থেকে তাদের কথামত চলাকেই বোঝায়।এখানে "তাদের" বলতে আপনাদের মত ছাত্রদেরকেই বুঝিয়েছি খালি আপনাদের সাথে পার্থক্য হল যে আপনারা যারা কোন লীগ বা দল না করেই টিকে থাকতে চান তাদের দাবড়ানি দিয়ে বেরাতে পছন্দ করে এরা।হয়ত এক বেলা বা দুইবেলা আপনাকে বিরিয়ানি খাওয়াবে আর তিন বেলা আপনাকে তাদের কাজ করে দিতে হবে।কাজটা খুব বেশি বড় কিছু না শুধু তাদের হয়ে চ্যালাগিরি করা।
এই যেমন আপনার কোন বন্ধু কোন ঝামেলার মধ্যে জড়াতে চায় না আর এই খবরটা গেল তেনাদের কানে।তাহলে আপনার কাজটা হবে ওই বন্ধুকে ঝামেলায় জড়িয়ে দেওয়া যাতে করে সে আপনার কাঙ্খিত দল বা লীগের সাহায্য নিতে বাধ্য হয়।আপনার বন্ধু আপনার উপর ভরসা করে হয়ত সাহায্য নিবে এবং বিনিময়ে পিঠে একটা রাজনৈতিক দলের সীল নিয়ে বাসায় ফিরবে।হইল কাম!!! এবার তারে যেতে হবে অমুক মিছিলে নাহলে তমুক পোলারে পিডাইতে নাহলে কাউরে ধমকাইতে। কিন্তু আমার সমবেদনা সেই সব মুরগীর খোয়ারে আটকে থাকা বন্ধুদের জন্য যারা জানে না যে তারেই সবার প্রথমে মার খেতে পাঠানো হবে কারন মার না খেলে যে পীঠ সোজা হয় না।
উসকানি জীবনে বহুত দিয়েছেন।উসকাইতে উসকাইতে যখন আপনাকে একেবারে বুড়িগঙ্গার তীরে নিয়ে গিয়ে বলবে আর উসকাইতে পারব না তখন বুঝতে হবে নরমাল ভাবে টিকে থাকার দিন শেষ।এবার তারা আপনার উপর একশনে যাবে।তখন বাছাধনের একটাই উপায় থাকে হয় বুড়িগঙ্গাতে গুতো খেয়ে ঝাপিয়ে পরা নাহয় উসকানিদাতাদের কান্ধে হাত দিয়ে পিছনে ফিরে আসা।এবং তাদের হয়ে আরেকজনকে উস্কানো আরম্ভ করা।ব্যস...হয়ে গেলেন তো দলের একজন আদর্শ নিষ্ঠাবান কর্মী।
ভার্সিটি জীবনে আমরা যে রাজনীতি দেখতে পাই তাতে "গডফাদার" চরিত্রের প্রভাব দেখা যায়।এই যেমন আপনি অন্য কোন রাজনৈতিক গুষ্ঠির পাল্লায় পড়ে আরেক গুষ্ঠির সাহায্য চাইলেন,তারা সাহায্য করবে বিনিময়ে তারা আপনার কাছে ভবিষ্যতে আপিনার কাছে কোন সাহায্য আশা করবে তা সেটা যখনই হোক।তা সেটা কাউকে পিটানোর জন্য হোক বা হ্যাডমগীরী দেখানোর জন্য হোক বা চ্যালাগীরী দেখানোর জন্য হোক।
অনেকেই এমন আছে যারা যানে না তারা কোন দলের লোক হয়ে গেছে।এমনও হতে পারে আপনার পাশের বন্ধুটি আপনাকে কোন একতা দলে ভিড়িয়ে দলে আর আপনি টের পেলেন না।তাই ভাই সাবধান থাকুন।চোখ কান খোলা রাখুন আর কোন বন্ধুকে বোঝার আগে দ্বিতীয়বার ভেবে দেখুন।বাচলেও বাচতে পারেন।ছোট বেলায় আমরা পড়েছি কার্বন চক্র,পানি চক্র।এটাও ঠিক তেমন একটা চলমান প্রক্রিয়া।হয়ত কোন একদিন আমাকেও বাধ্য হতে হবে তাদের কথা মত চলতে হয়ত আমাকেও একদিন মুরগি ধরায় ব্যস্ত হতে হবে।যাই করি না কেন,আপনারা অনেকেই হয়ত এটা করতে চাইবেন না।তাই কিছু বুঝে ওঠার আগে অন্তত এসবের ধারনাটা নিয়ে রাখুন যাতে হোচট খেলে ব্যাথাটা অন্তত কম লাগে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


