somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক ব্যাগ রক্তও পাইনি সেদিন

০৫ ই মে, ২০১২ রাত ১১:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকে ব্লগে এক বড় ভাইকে দেখলাম রক্তদান কর্মসূচী নিয়ে লিখেছেন আর তাতে অনেক ভাইদের কমেণ্টে দেখলাম যে তারা রক্তদানে বেশ আগ্রহী।কিন্তু অনেকেই বলেন যে কাজের সময় নাকি তারা কাউকেই পান না।রাস্তায় রাস্তায় হুটহাট কাউকে ধরে যদি বলেন যে ভাই রক্ত দেন,লাগবে তাহলে তো পাবেন না বরং আপনাকে পাগল বলে ঠাওর করা হবে।তা সে আপনার যত প্রয়োজনই হোক না কেন।যাই হোক,কে রক্ত দিবেন,কেন দিবেন এসব নিয়ে কিছু বলব না শুধু একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করব।যা থেকে হয়ত এটুকুই পরিষ্কার হবে যে এই যুগেও মানুষ রক্ত দান সম্পর্কে কেমন মনোভাব রাখে

আমার সবচেয়ে বড় সুবিধা যে আমি মেডিকেলের ছাত্র হওয়ার দরুন বিভিন্ন রক্তদান কর্মসূচীতে গিয়েছি,কাছ থেকে দেখেছি,অন্যের মুখে শুনেছি এবং কিভাবে এতে উদবুদ্ধ করা যায় সে সম্পর্কে জানছি।গত দুইমাস আগে কোন এক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের(নাম না বলাই ভাল মনে করলাম,অনেকেই হয়ত বুঝে গেছেন) দশ বছর পূর্তীর উপলক্ষে পূনর্মিলনি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় সাভারের কোন এক জায়গায়।খুব বড় করে আয়োজন করা হয় কারন শুনেছিলাম এতে প্রায় ২০০ বাস,আর প্রায় অর্ধশতাধিক মাইক্রোবাস ভাড়া করা হয়।যেহেতু এতে অনেক লোকের সমাগম হবে তাই এখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্পন্সরশীপ থাকার কারনে বিভিন্ন পন্য,বিভিন্ন প্রজেক্ট এর স্টল সাজানো হয় যাতে আমার কলেজের একটি ইউনিটের ফ্রি ব্ল্যাড গ্রুপিং এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীর জন্য একটা স্টল বরাদ্দ ছিল।

জানিয়ে রাখা ভাল যে আমাদের স্টলের ঠিক পাশেই আরেকটা মেডিকেল ইউনিটের স্টল ছিল তবে তারা কেবল ফ্রি ব্ল্যাড গ্রুপিং করছিল।যাই হোক,আমার ভাগ্য ভাল ছিল যে আমাকে সেখানে কাছ থেকে রক্ত কিভাবে নিতে হয় তা দেখার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।আমি আর আমার এক বন্ধু একটি মাইক্রোতে করে তাদের সাথে রওনা দেই কিন্তু মাঝ পথেই আটকে যাই।কোন এক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তাকে মারধরের প্রতিবাদে সকম কর্মীরা রাস্তায় বসে মানব বন্ধন করে করে এবং গাড়ি চলাচল আটকিয়ে দেয়।আমরা তাদেরকে আমাদের কর্মসূচীর ব্যাপারে বলি কিন্তু তারা যেভাবে রিঅ্যাক্ট করে তাতেই অবাক হই।তারা বলে যে রক্তদান হোক আর যাই হোক,গাড়ি যাইতে দিবে না তারা।গাড়িতে রোগী থাকা লাগবে।

যাই হোক,উল্টা পথে আমরা আমাদের গন্তব্যে পৌছাই।গাড়ীর পিছনেই বেডের ব্যবস্থা করা হয়।এরপর শুরু হয় আমাদের লম্বা প্রতিক্ষার পালা
হাজার হাজার লোক আমাদের স্টলের পাশ দিয়ে যাওয়া আসা করছে,দাড়িয়ে দাঁড়িয়ে গল্প করছে,আড্ডা দিচ্ছে,আশেপাশে প্রকৃতির ছবি তুলছে কিন্তু তাদের সামনেই যে একটা রক্তদানের স্টল আছে সেদিকে পাত্তা নেই।কেউ হয়ত আগ্রহ ভরে টাঙ্গানো ব্যানার পড়ছিল,পরপরি আবার উল্টাদিকে হেটে চলে যাচ্ছে।

১২ টার দিকে আমরা স্টল খুলে বসি,দুপুর তিনটা বাজল কিন্তু এক ব্যাগ রক্তও পেলাম না।
জিজ্ঞেস করলেই বলে,"আরে ভাই আমি এমনেই মরা মানুষ,রক্ত দিলে তো মরেই যাবো"
"আমার রক্ত ক্যান আরেকজনকে দিবো,মাগনা নাকি","ভাই,এখনও কিছু খাই নাই,না খেয়ে কিভাবে রক্ত দিব","রক্ত দিতে ভয় করে,যদি কিছু হয়?","ভাই এখনও বিয়া শাদি করি নাই"

এমন মন্তব্য শুনে আর কিছু বলার ছিল না।আমার বন্ধুটি শেষে বেরিয়ে পড়ে আর সবাইকে অনুরোধ করে রক্ত দিতে।কিন্তু সবাই প্রায় একই মন্তব্য করে।সেদিন আইয়ুব বাচ্চুর কন্সার্ট ছিল।সবাই সেখানে যাওয়া নিয়ে ব্যস্ত ছিল কিন্তু কেই এক ব্যাগ রক্ত দেয় নাই।শেষে আমি উঠে গিয়ে ভাইয়াদের বললাম যে ভাইয়া,আপনারা আমার রক্ত নেন।কিন্তু তারা নেননি কারন মেডিকেল ছাত্রদের রক্ত হাসপাতালে ইমার্জেন্সি কাজে লাগে।তাই হঠাত হঠাত দরকার পরে।
সেদিন এক ব্যাগ রক্ত পাই নাই।প্রায় আট হাজার লোকের কারও সময় বা সাহস হয় নাই রক্ত দেওয়ার।খালি ব্যাগ নিয়ে বিকাল ৬ টার দিকে ফিরে আসি।ঠিক তার কয়দিন পর এক প্রেহন্যান্ট মহিলার জন্য রক্ত দরকার পড়ে তখন আমার এক বন্ধু রক্ত দেয়।

অনেকেই মনে করে যাস্ট পাবলিসিটির জন্য আমরা এমন করি।কিন্তু যারা এমনটা ভাবেন তারা একবার পারলে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে আসেন দেখুন রক্তের জন্য কত জীবন মাটিতে শুয়ে আছে।
তাই রক্ত দিন,অন্যেকে বাচান।
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×