somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেডিকেল ভর্তিচ্ছুদের জন্য একটি নিরুৎসাহিতমূলক জ্ঞান

১৯ শে জুলাই, ২০১২ রাত ৮:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকদিন কোন জ্ঞান ঝাড়া হয় না।আজকে এইচএসসি উপলক্ষ্যে জ্ঞান ঝাড়ার সুযোগ পেয়ে হাতছাড়া করতে চাই না।তাই এইচএসসি পাশকৃত ভাই বোনদের প্রতি-

#আপনারা হয়ত "এনজাইম"নামক শব্দটার সাথে পরিচিত।কিন্তু এটা কি জানেন যে জীবনে বাপ-মার চাইতে বড় এনজাইম আর একটিও নাই।তারা কিন্তু অভিজ্ঞতা থেকেই আপনার উপর প্রভাব খাটাবেন।অন্যের ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে না ভেবে তাদের কথাটা একদিন না হয় যাচাই করে দেখুন।

১/যদি কেউ ইঞ্জিনারিং নিয়ে পড়তে চান তাহলে আর তিনবার ভাবুন।দেখুন আপনার ম্যাথমেটিকাল স্কিল আপনার পক্ষে কিনা।

২/যদি ভার্সিটিতে পড়তে চান তাহলে পাচবার ভাবুন।সেক্ষেত্রে বাপ-মার কথাটাকে গুরুত্ব দিন বেশি কারন তাদের একটাই কথা," ভার্সিটি পাস কইরা কি বগলের তলায় ফাইল লইয়া রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবা?"

৩/আর যদি মেডিকেলে পড়তে চান তাহলে ভাই সোজা সাপ্টা কথা।ভাইবা আসলে কোনই লাভ নাই।এটা আপনার অধিনস্ত বিষয় নহে।প্রায় ৯০% বাপ-মা তাদের সন্তানের জন্মের সময়ি ইহা নিয়ে সম্মুক অবগত থাকেন যে তাদের সন্তান বড় হয়ে ডাক্তার হবে।এখানেই তারা এনজাইমের মত আপনার উপর ক্রিয়া করবে।ভাবতে ভাবতে আপনি মইরা গেলেও কিছু হবে না।"আমার পোলায় ডাক্তার" এই কথাটা বলাতেই তাদের আনন্দ আর আপনার চিন্তার কারন।

আসেন...এবার উপরে লেখা কথাগুলোর একটু মর্ম উদ্ধার করি।সদ্য প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে পঞ্চসোনা প্রাপ্ত ছাত্র/ছাত্রীদের বাবা-মা খুশি হয়ে হয়ত বলেই ফেলেছেন যে তার সন্তান একজন ডাক্তার হবে বা অমুক হবে তমুক হবে।"অমুক তমুক" বললাম কারন আমি যে লাইনে থেকে গনবাশ খাচ্ছি সেই লাইনে কোন দুরন্ত পথিক এসে পড়লে তাকে খেদানোর দায়িত্ব আমার।তারপরেও যদি কারও খাদ্য পচনশক্তি খুব ভালো হয়ে থাকে তাহলে হয়ত ডাক্তারি পড়ার মত কালজয়ী সিদ্ধান্ত নিতে কার্পন্য করবেন না।বিগত ছয় মাসে আমার মেডিকেল জীবনের কিছু অভিজ্ঞতা আপনাদের বলতে চাই যেটা আপনাদের বাপ-মা কে পড়াবেন এতে হয়ত তাদের চিন্তাশক্তি কিছুটা হইলেও বাড়তে পারে।

কুম্ভ রাশির জাতক/জাতিকারা বেশি করে চেষ্টা করবেন এই লাইনে না আসার কারন "ঘুম" নামক জিনিষটা যে আসলে কি তা আপনারা এই লাইনে এসে ভালভাবে টের পাবেন।যখন মনে হবে যে এখন একটু ঘুমানো দরকার তখন ধরে নিবেন আপনার ঘুম থেকে উঠে কলেজে যাবার সময় হয়েছে।প্রথম প্রথম অনেকে উতসুক হয়ে সকালে আগেভাগে ঘুম থেকে উঠে পরিপাটি হয়ে কলেজে যায়।কিন্তু ভাইজান বিশ্বাস যান,সর্বোচ্চ এক মাস আপনার হয় পরিপাটের ঠেলায় এপ্রোনের কলার বটা থাকবে কিন্তু তারপর আপনার গায়ে আর ওই এপ্রনটাই দেখা যাবে না।

একদিন ক্লাশে টিচার বললেন,"সুইপাররাও এপ্রন গায়ে দেয় আর ডাক্তারাও এপ্রন গায় দেয় তাহলে তাদের মধ্যে পার্থক্য কি? পার্থক্য হইল সুইপাররা এপ্রনের বোতাম লাগায় না কিন্তু ডাক্তাররা লাগায় না"

"মেডিকেলে পড়াশোনা অনেক বেশি" এই কথাটা তো প্রথম এক মাস প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম।কিন্তু ম্যারাথন আইটেম,কার্ড,কার্ডের সাপ্লি,কার্ডের র-সাপ্লি,টার্ম,টার্মের সাপ্লি,টার্মের রি-সাপ্লি,ভাইভা,প্র্যাক্টিকাল,অসপি.........র চিপায় পড়ে যখন চাপাচাপি করে বলবেন "ছাইড়া দে মা কাইন্দা বাচি" তখন বুঝবেন আপনার প্রফ দেওয়ার সময় এসে গেছে।এখন তো শুনলাম এ-সাপ্লি,বি-সাপ্লিও নাকি দিতে হয় প্রফের আগে।পাস করার সুযোগ যেমন অনেক তেমনি ফেল করার সুযোগও কিন্তু ভাই অনেক।
বাংলা সিনেমায় নায়িকারা যেমন ডায়লগ মারেঃ "শয়তান তুই আমার দেহ পাবি কিন্তু মন পাবি না" তেমনি ভাইভা বোর্ডে টিচারদের মনের কথা যেমন এরকমঃ "ফাজিল ছেলে,তুমি আমার সহানুভূতি পাবে কিন্তু নাম্বার পাবে না" সোনার ডিম পাড়া হাসের মালিক অনেক সোনা পাবার আশায় হাসটাকে মেরে ফেলেছিলেন কিন্তু হায়,টিচাররা যে কেন নাম্বারের খোয়ার না!!!

কোন এক মহান আংকেল আমাকে বলেছিলেন,"মুখস্ত করার ক্ষমতা ভাল হয়ে থাকলে মেডিকেলে পড়।" কোন এক মহান টিচার আমাকে বলেছিলেন,"মেডিকেলে সব বুঝে পড়ার চেষ্টা করবা।" কিন্তু পরীক্ষার হল যে মানে না কোন বাধা।সেখানে আপনাকে মুখস্তও লিখতে হবে,বুঝেও বলতে হবে আবার না বুঝে শিক্ষকদের বকাও শুনতে হবে।এবার আপনি দেখুন কোন মহান ব্যাক্তিকে অনুসরন করবেন।

আবাল-বৃদ্ধ-বনিতারা যুগ যুগ ধরে যা জেনে আসছে আপনিও তাই জেনে রাখুন,খুব বেশি মাত্রায় পড়াশোনা করতে হবে।এতে কেউ নিরুতসাহিত হলেও আমি বলতে বাধ্য।ক্যান্সার হয়েছে-এই কথাটি লাস্ট স্টেজে এসে জানার চেয়ে ১ম স্টেজে এসে জানলে প্রতিকারের ব্যবস্থা কিছুটা হলেও করা যাবে।

এক জীবনে মানুষ তিনবার মুরগী হয়।
১/বাচ্চাকালে খেলার ছলে
২/মেডিকেল পড়ুয়া প্রথম বর্ষের ছাত্র
৩/বিয়ের পর বউয়ের সামনে

সো মাই ডিয়ার ব্রাদার্স এন্ড সিস্টার্স,আমাদের মুরগীর খোয়াড়ে আপনাদের মত নতুন অতিথিদের স্বাগতম!!!ভাবনা চিন্তার জন্য যখন কোন ঘুষ,ট্যাক্স,বকশিস দেওয়া লাগে না তখন নিজের যোগ্যতার কথা ভেবে দেখুন।"সবাই পারলে তুমি কেন পারবে না" এমন কথায় গা ভাসিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাইয়েন না,মাঝপথে যখন বাশবনে ঢুকে বাশ খেতে হবে তখন রাস্তা হারিয়ে এক জায়গাতেই ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।পিছনেও বাশ,সামনেও বাশ।

আপনাদেরকে নিরুতসাহিত করার জন্য বলছি না।জীবনের শুরু আসলে এখনকার একটি সিদ্ধান্ত দিয়েই।বাপ-মায়ের কথাও শুনবেন তবে তাদের বুঝাবেন বেশি।আপনাদের জন্য শুভকামনা।
৩০টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×