somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডার্ক ম্যাটারঃকল্পনা ও বাস্তবতা-পর্ব ০১

১৭ ই জুলাই, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ডার্ক ম্যাটার প্রথম মনোযোগ আকর্ষন করেছিল ভর গনণায় অসামঞ্জস্যতারর কারণে। কিছু কিছু গ্যালাক্সি যখন বিপুল মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাবে একসাথে গুচ্ছ হয়ে কাছাকাছি অবস্থান করে, তখন তাকে বলা হয় Galaxy Cluster. ১৯৩৩ সালে সুইজারল্যান্ড এর বিজ্ঞানী Fritz Zwicky এমনই একটিGalaxy Cluster এর ভর মাপার জন্য হিসাব নিকাশ করেন। তার হিসাব শেষ হওয়ার পর দেখা যায় সত্যিই Galaxy Cluster হত তাহলে যে মাধ্যাকর্ষণ বল পাওয়া যেত তা টানে এই গ্যালাক্সিগুলো একসাথে আসতেই পারতনা। তার মানে নিশ্চই কিছু এখানে আছে যা তার হিসেবে আসেনি বা আমরাও জানিনা। যার অস্তিত্ব আমরা টের পাইনি।



Gravitational Lensing বকে একটা মজার ব্যাপার আছে। কেন্স যেমন আলোর গতিপথকে বাঁকিয়ে দেয় তেমনি মাধ্যাকর্ষণ শক্তিও পারে। এর মানে খুব বেশি ভরের কোন বস্তু তার আশপাশের স্পেস বা স্থানকে বাঁকিয়ে দিতে পারে। ভর যত বেশি হবে বাঁকানোর ক্ষমতাও তত বেশি হবে। যেহেতু স্পেস বা স্থানটি বেকে আছে তাই এখান দিয়ে যদি কোন আলো যায় তারও বেকে যাওয়া ছাড়া উপায় নাই। এর পিছনের কারিগর হল গ্র‍্যাভিটি। এজন্য একে Gravitational Lensing বলা হয়।(১)*



Gravitational Force এর চিত্র
Don Coe নামের এক জ্যোতির্বিদ Abell নামের একটি Galaxy Cluster নিয়ে পর্যবেক্ষণ করে দেখেন যে, এর পাশ দিয়ে আলো যাওয়ার সময় এতটাই বেকে যাচ্ছে যে, যা নিজের ভরের কারণে বেকে যাওয়া ।তিনি ধরে নেন যে, কিছু অদৃশ্য পদার্থ আছে যা আলোকে বাঁকিয়ে দিচ্ছে। এরকম আরো অনেক পরীক্ষা বা ধারণা আছে। সব তো আর এই ছোট লেখায় বর্ণনা করা যাবেনা। এই পদার্থ গুলো দেখা যায় না বলে বা গুপ্ত থাকে বলে নাম দেয়া হয়েছে "গুপ্তপদার্থ" বা Dark matter.(২)*
১৯৫৯ সালে লুইস ভেল্ডার্স দেখিয়েছিলেন যে ত্রিকোণ মন্ডলে অবস্থিত সর্পিলাকার M33 নামক ছায়াপথের ঘূর্ণন কেপলারীয় গতিবিদ্যায় ব্যাখ্যা করা যায় না। এর অনুসরনে ১৯৭০ সালের তরুণ মার্কিন জ্যোতির্বিদ Verra Rubin বিভিন্ন ছায়াপথ পর্যবেক্ষন করে কিছু চিত্রাঙ্কন করেন। অবাক হয়ে তিনি লক্ষ্য করেন যে, সর্পিলাকার ছায়াপথের বেগের বক্ররেখাটি নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র অনুসারে যেমন নিচের দিকে নেমে যাওয়ার কথা ছিল তেমন হচ্ছে না। তাই তিনি ১৯৭৫ সালে
American Astronomical Socity র মিটিং এ ঘোষণা দেন যে,সর্পিলাকার ছায়াপথের অধিকাংশ তারার বেগ ধ্রুব থাকে। এরপর একটি প্রভাবশালী বিজ্ঞান সাময়িকীতে তার গবেষনা পত্রে প্রকাশ করেন যে, সর্পিলাকার ছায়াপথের মোট ভরের বিশাল একটা অংশ গুপ্ত হিসেবে আছেন এভাবেই ডার্ক ম্যাটারের "উপস্থিতি" নিয়ে মোটামুটি শক্ত প্রমাণ আসতে থাকে। (৩)*


Abell এর পর্যবেক্ষণ করা ছায়াপথ

এজটা সহজ প্রশ আসতে পারে যে ডারক ম্যাটার কি দিয়ে গঠিত। আমাদের চেনাজানা ইলেকট্রন, প্রোটন কিংবা নিউট্রন দিয়ে নাকি একেবারেই মাদের অচেনা কোন মৌলিক কণা দিয়ে?? বিজ্ঞানীরা এই নিয়ে গবেষণা চালিয়ে গেলেও এখনো সর্বজনগাহ্য কিছু প্রমাণ করতে পারেন নি।



বিজ্ঞানী Vera Rubin
একটা সময় বলা হয় যে, MACHO(Massive Compact Halo Obhects) নামের বস্তু দিয়ে এই ডার্ক ম্যাটার তৈরী হয়। তবে এটি খুব একটা গ্রহণযোগ্য হয়নি। এরপর পর বলা হয় নিউট্রিনোর কথা। কিন্তু এদের ভর খুব অল্প হওয়ায় এদেরকে বিবেচনা থেকেই বাদ দেয়া হয়। এরপর বলা হয় WIMP ( Weakly Interactive Massive Particles) এর কথা। এদের ভর অন্যান্য মৌলিক কণা থেকে একটু বেশি। এবং এরা Electromagnetic Force এর সাথে Co-intraction এ যায় না। এজন্য এদের আমরা দেখিওনা। সুতরাং WIMP এখনো আমাদের কল্পনাতেই আছে। উল্লেখযোগ্য কোন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি, শুধু ধারণা ছাড়া। তবে চেষ্টা চলছে খুঁজে বের করার। সবগুলো কণার ধারণা থেকে মোটামুটি WIMP এর ধারণাই সবচেয়ে বেশি যুক্তিযুক্ত মবে হয়েছে বিজ্ঞানীদের কাছে।(৪)*
(চলবে.......)
তথ্যসূত্র:
1. NASA website
2. Hinshow, Gary F. Universe 101.
3. Cornell University online Library
4. CERN website
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুলাই, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:২২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"নিজেদের কেলেঙ্কারিই যখন নিরাপদ নয়, প্রধানমন্ত্রী কতটা নিরাপদ"

লিখেছেন রিয়াজ হান্নান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৭


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রিয় তারেক রহমান রাহিমাহুল্লাহ,আপনাকে সবার আগে বাংলাদেশের জন্য ভালোবাসি। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি আপনার আশেপাশের লোকেরা কেলেংকারির সাথে জড়িত,এরা আবার ইলিয়াসের আগেই নিজেকে নিজে এক্সপোজ করে দেয়।

এরা নিজেরাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আধিপত্যবাদী নীতি

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫২

নেপাল সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা সম্প্রতি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছে ।
গত ১৭ আগস্ট নেপালের রাজধানী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×