উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয়পত্র সিলেবাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো- দিনলিপি বা অভিজ্ঞতা বর্ণনা। এতে বরাদ্দ আছে দশ নম্বর। আজ বাংলা দ্বিতীয়পত্র একটা সাজেশন ফলো করে পড়ছিলাম।
পিকনিক থেকে ফিরে এসে দিনলিপি বর্ণনা কর- এই ধরণের একটি দিনলিপি পড়তে শুরু করেছি। প্রথম লাইন পড়লাম। দ্বিতীয় লাইন পড়া শেষে সন্দেহ জাগলো আমি পাঠ্যবই পড়ছি তো? আল্লাহ মাফ করুক- বিকৃত রুচির কোন বই পড়ার অভ্যাস আমার এখনো হয়ে উঠেনি।
নির্ধারিত পৃষ্ঠায় আঙ্গুল রেখে বই বন্ধ করে প্রচ্ছদ দেখতে লাগলাম। না, ঠিক আছে। জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত বাংলা দ্বিতীয়পত্রের বই। লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক।
যাইহোক- আবার পড়ায় মনযোগ দিলাম। তিন নম্বর লাইনে এসে আরও বড় ধাক্কা খেলাম। কী আশ্চর্য ? কী লেখা এসব ? এসব লিখলে শিক্ষক নম্বর দেওয়া তো দূরের কথা লম্পট আর অসভ্য ভেবে উচিত শিক্ষা দিয়ে বসতে পারেন যেকোন শিক্ষক।
সাহস করে একটানা পুরোটা পড়লাম। পড়া শেষে মনে হলো- আমাদের শিক্ষার সুশৃঙ্খল পরিবেশকে বিনষ্ট করতে পরিমলের উত্তরসূরীরা এখনো তৎপর। লক্ষ্য এক, কর্মপদ্ধতি হয়তো ভিন্ন।
যারা এতক্ষণ ধৈর্যসহ লেখাটি পড়েছেন তাদের পুরোপুরি হতাশ করতে চাই না। পাঠ্য বইয়ের পাতা থেকে প্রথম কয়েক লাইন অনুলিপি পড়ে শোনাই আপনাদের-
'পিকনিক থেকে ফিরে এলাম। হট শাওয়ার নিয়েছি। আফজাল হোসেন, বম্পি সব সময় কালো শার্ট পরে, তাই আমিও বেছে নিয়েছিলাম কালো শাড়ি। গ্রুপ ছবিতে আমাকে চেনা আলাদা করে। বাসায় ফিরে আমার ফেসবুক ওয়ালে বাছাই করা তিনটি ছবি আপলোড করেছি। দারুন দারুন সব কমেন্ট করা হচ্ছে। কিন্তু আফজাল এখনও কোন কমেন্ট করেনি। অথচ ফেসবুকে ওকে একটিভ দেখাচ্ছে। বাসে আমি বসেছিলাম জানালার পাশে, ও বসেছিলো আমার ঠিক দুই সারি পেছনে। ওর বন্ধু ফারাবী আর হৃদয় খান বারবার আমার দিকে তাকালেও ও একবারও আমার দিকে তাকায়নি। পিকনিকে যাওয়াই আমার ভুল হয়েছে।'
পরের বর্ণনাটুকু আর বলছি না। আপাতত এইটুকুই থাক। মনে করেন আপনি আমার শিক্ষক। সময় স্বল্পতার কারণে আমি দিনলিপি সম্পূর্ণ করতে পারিনি। এই অসম্পূর্ণ দিনপিপি পড়ে আপনি আমাকে কত নম্বর দিবেন? নম্বরটা আপনার নিজের কাছে রেখে দিন। আমার আপাতত লাগছে না।
তবে হ্যাঁ, পুরো অনুলিপি পড়ে যেটা জানতে পেরেছি- আফজাল এখনও মেয়েটির ছবিতে লাইক দেয়নি।
আমি ছোটমুখে অনেক কথা বলে ফেলেছি। আপনিও আমাকে লাইক দিবেন না প্লিজ! সম্ভব হলে ব্লক করুন। আমিও হট শাওয়ার নিব।
শিশির মনির
২৬ শে মার্চ, প্রথম প্রহর। সিলেট ৩১০০।


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

