somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লাদেন হত্যার মর্মান্তিক কাহিনি!

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ বিকাল ৫:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন নৌ কমান্ডোদের অভিযানে আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর তার কক্ষে কোন গুলি পওয়া যায়নি। শয়ন কক্ষের দরজার ওপর দুটি বন্দুক পাওয়া গেলেও সেগুলো খালি ছিল। এমনকি তিনি আত্মরক্ষার কোন চেষ্টাও করেননি। নিরস্ত্র লাদেন মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। তার ক্ষতস্থান দিয়ে প্রচুর রক্ত ঝরছিল। রক্তে তার মুখমন্ডল ভেসে গিয়েছিল। এ সময় অভিযানকারী মার্কিন নৌ কমান্ডো দলের সদস্য মিট বিসোনেট একটি কম্বল দিয়ে তার মুখের রক্ত মুছে দেন। এরপর তিনি লাদেনের বেশ কয়েকটি ছবি তোলেন।যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক নেভি সিল মিট বিসোনেট আল কায়েদা নেতার বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন অভিযান নিয়ে লেখা তার ‘নো ইজি ডে’ বইতে এসব কথা বলেন। তিনি লিখেছেন, লাদেন মার্কিন কমান্ডোদের গুলিতে তার শয়নকক্ষে নিহত হন। আল কায়েদা নেতা সত্যিই যে নিহত হয়েছেন তার প্রমাণ দিতে তিনি তার বেশ কয়েকটি ছবি তুলে রাখেন। মিট বিসোনেট বলেন, ‘আমি লাদেনের বিছানার একটি কম্বল দিয়ে তার মুখের রক্ত মুছে দেয়া শুরু করি। এতে ক্রমেই তার চেহারা স্পষ্ট হতে থাকে। এ সময় আমার ধারণার চেয়েও তাকে তরুণ দেখাচ্ছিল।’তবে তার দাঁড়ি অনেক কালো ছিল। মনে হচ্ছিল, তিনি দাঁড়িতে কলপ করেছেন। লাদেন হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী মিট বিসোনেটের বই মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। এদিকে এ বই প্রকাশ করার ফলে মার্কিন উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেয়ারও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে পেন্টাগন।লাদেনের বিরুদ্ধে পরিচালিত ‘অপারেশন নেপচুন স্পিয়ার’ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত ছিল সে ব্যাপারে বিসোনেট তার বইতে বর্ণনা করেছেন। ইসলামাবাদের অজ্ঞাতসারে এ অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে মাত্র কয়েক মিনিটে এ অভিযানের সফল সমাপ্তি ঘটে এবং এ সময় কোন ধরণের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি।বিসোনেট লেখেন, ‘লাদেনের ধরাশায়ী মুখ খুব কাছ থেকে দেখা আমার জন্য ছিল বিস্ময়কর। যাকে ধরার জন্য আমরা গত দশক ধরে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছি তার লাশ কিনা আমার সামনে পড়ে রয়েছে।’বিন লাদেনের পুরো শরীরের ছবি তোলার পর বিসোনেট তার মুখের ছবি তোলার জন্য পা গুটিয়ে বসেন। তিনি তার বইতে লেখেন, ‘লাদেনের দাঁড়ি একবার ডানদিকে, একবার বামদিকে নিয়ে আমি বেশ কয়েকটি ছবি তুলি। আমি সত্যিকার অর্থে এমনভাবে ছবি তুলতে চাচ্ছিলাম যেন তার নাকের স্পষ্ট ছবি পাওয়া যায়। কারণ তার দাড়ি সত্যিই খুব কালো ছিল। এক পর্যায়ে আমি আমার অনুসারী এক কমান্ডোকে বললাম, তুমি ওর চোখ মেলে ধর।’ বিসোনেট তার বইতে লাদেনের অনেকগুলো ছবি তোলার কথা বললেও তিনি সেগুলো প্রকাশ করেননি।লাদেন যে সত্যিই নিহত হয়েছেন কম্পাউন্ডের কাউকে দিয়ে তা নিশ্চিত হতে চাচ্ছিল নেভি সিলরা। প্রথমে এক নারীকে দিয়ে চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তিনি এ ব্যাপারে কমান্ডোদের সাহায্য করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর একটি মেয়ে কমান্ডোদের জানাল, নিহত ব্যক্তি সম্পর্কে তাদের ধারনা সঠিক।বিসোনেটের তিনশ’ তেরো পৃষ্ঠার বইয়ের প্রায় অর্ধেক জুড়ে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের অভিযানের ব্যাপারে কিছু উল্লেখ নেই। এর পরিবর্তে তিনি আলাস্কায় কিভাবে শিকারের প্রশিক্ষণ নেন, মার্কিন সিল ‘টিম সিক্স’ এ যোগ দেয়ার আগে নেয়া ব্যাপক প্রশিক্ষণ, ইরাক ও আফগানিস্তানে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযান এবং সোমালী জলদস্যুদের হাত থেকে এক মার্কিন নাগরিককে উদ্ধারে সফল অভিযানের বর্ণনা করেছেন।তিনি অভিযোগ করেন, আফগানিস্তানে রাতে পরিচালিত বিশেষ বাহিনীর অভিযান আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তার বইতে লাদেনের শয়ন কক্ষে তল্লাশির কথা এসেছে। বলা হয়েছে, কলপের কৌটা ছাড়া সেখানে কোন গুলির মজুদ ছিল না। শয়নকক্ষের দরজার ওপর দুটি বন্দুক ছিল। এর একটি একে-৪৭ ও অপরটি ম্যাকারভ পিস্তল। তবে এতে কোন গুলি ছিল না। এমনকি লাদেন আত্মরক্ষার কোন চেষ্টাও করেন নি। পাকিস্তানে লাদেনের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নেয়া দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে একটি বিধ্বস্ত হয়। এ ব্যাপারে বিসোনেট বলেন, ‘মাত্র এক ঘন্টা আগে আমি ধরেই নিয়েছিলাম হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে আমরা সবাই মারা যাচ্ছি। কিন্তু পাইলট অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে হেলিকপ্টার অবতরণ করান। তবে কমান্ডোরা কোন বিপদ ছাড়াই হেলিকপ্টার থেকে বের হতে পারবেন কিনা সে ব্যাপারে উদ্বেগ ছিল।’

৮টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×