একটা গল্প দিয়েই লেখাটা,শুরু করি
গল্পটা শুনেছি আমাদের মেছের বড় ভাইয়ের কাছে। তখন বাংলাদেশের জন্ম হয়নি, পাকিস্তান আমল। একজন পথচারী কলা খেয়ে রাস্তার মাঝে খোসা ফেলে চলে যাচ্ছিল, অদূরেই একজন ট্রাফিক পুলিশ তা দেখতে চায়। লোকটা একটি টেম্পু জাতীয় গাড়িতে উঠে বসে। ট্রাফিক পুলিশটিও মোটর সাইকলের মাধ্যমে টেম্পুকে ধরে এবং লোকটিকে গাড়ি থেকে নামিয়ে, মোটর সাইকেলের পিছনে করে, যেখানে লোকটা কলার খোসা ফেলেছে সেখানে নিয়ে আসে এবং কলার খোসাটা লোকটার মাধ্যমে ডাস্টবিনে রাখে।
বলুনতো এই লোকটা আর কখনও এমন ভুল করবে???। ট্রাফিক পুলিশ লোকটাকে পহার করা লাগেনি শুধু বিচক্ষণতা দিয়ে সে এমন একটা কাজ করেছে, অন্তত লোকটার অজীবনের জন্য একটা শিক্ষা হয়েছে। এবং আশে পাশে যারা এই দৃশ্য দেখেছে এবং যারা শুনেছে সবাই সতর্ক হবে, মাইরের ভয়ে নহে লজ্জার ভয়ে, অাত্নসম্মানের ভয়ে।
এবার একটা বিদেশী ঘটনা(গল্প নহে ) বলি।
এক প্রভাবশালী ব্যক্তি গিয়েছেন ডাক্তার দেখাতে, তার বিশেষ কাজ থাকায় সে রোগীদের লাইনে না দাড়িয়ে সরাসরি ডাক্তারের চেম্বারে প্রবেশ, ডাক্তার তার এমন আচরনে মর্মাহত হন কারন ডাক্তার ঐ প্রভাবশালীর কাছ থেকে এমন আচারণ প্রত্যাশা করেনি। পরবর্তীতে ঐ প্রভাবশালী ব্যক্তিও তার এমন আচারনের জন্য দুঃখপ্রকাশ করে। বলুনতো ঐ প্রভাবশালী ব্যক্তি কে?? ঐ প্রভাবশালী ব্যক্তি আর কেউ নহে, যুক্তরাজ্যের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ক্যামেরন।
এবার আমার সোনার বাংলাই আসি, কিছুদিন আগে আমাদের ভোটে নির্বাচিত এক সংসদ সদস্য গিয়েছেন, একজন মহিলা ডাক্তারের কাছে, ডাক্তার চেম্বারে না থাকায় সংসদ সদস্য, ডাক্তারের চেয়ারে বসেন কারণ তিনি বাহিরে রোগীদের লাইনে দাড়াতে অপমান বোধ করতেছেন মনে হয়, আর তাছাড়া তিনি একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে কিভাবে জনগনের সাথে দাড়াবেন, তাহলে জনগন আর জনপ্রতিনিধির মাঝে পার্থক্য থাকলো কই। ডাক্তার এসে যখন ঐ মহিলা সাংসদ কে চেয়ার ছেড়ে দিতে বলেছেন, তখন ঘটলো লংঙ্কাকান্ড। সাংসদের সাথে যে মনুষ্যমালবাহী এসেছে তাড়া গেলো খেপে এবং হাত উঠলো ডাক্তারের গায়ে।
আপনি কি শিখলেন এই ঘটনা থেকে,, জোর যার মুল্লুক তার।
আসুন এবার আর একটু উপরে যাই, আমাদের দেশে ভিআইপি (যারা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী)। তারা যখন রাস্তা দিয়ে যায় তখন রাস্তায় তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। এই থেকে আমরা কি শিখলাম, রাস্তায় যদি আপনি যানজট তৈরি করতে পারেন তবে আপনিও একজন ভিআইপি, ফলে আপনিও চাইবেন অভারট্যাকের মাধ্যমে আপনার লেন বাদ দিয়ে ওল্টো লেনে গাড়ি চালাতে আর পাশের লেনের সবাই আপনাকে ভিআইপি মনে করবে। আর ট্রাফিক পুলিশ ধরলে বলবে, আমি অমুকের ব্যাটা ভাতিজা আর না হয় বলবেন আমি অমুক দলের মার্ডার করা সদস্য, ব্যস পার পেয়ে যাবেন, নিশ্চিত।
আসলে আমরা আইন না মানার মুল বাধাই হচ্ছেই আমাদের ইগু প্রবলেম। নিজেকে অন্যের কাছ থেকে ভিন্ন করার প্রতিযোগীতা। আমাদের সামনে আইন মানা লোকের অভাব। এবং প্রথম গল্পের মতো ট্রাফিক বা সরকারী কর্মচারী কর্মকর্তার অভাব, যারা আমাদেরকে বাধ্য করবে আইন মানতে। (চলবে)
(বি:দ্র: আমার লেখা যদি ভালো লাগে তবে মন্তব্য করার অনুরোধ রইলো। আমি নতুন সদস্য আপনাদের ভালো মন্দ মন্তব্যই আমাকে সংশোধন ও অনুপ্রানিত করবে, পরবর্তী লেখায় )
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ১০:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




