somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লাইসেন্স কথনঃ

০১ লা আগস্ট, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই যে সবার লাইসেন্স চেক করা হচ্ছে, এই লাইসেন্সেরই বা কি মূল্য! আমি নিজেও একজন ড্রাইভার। আমি যখন গাড়ি চালানো শিখি তখন শুধু ওস্তাদ শিখিয়েছে কিভাবে স্টিয়ারিং ঘোড়াতে হয়। রাস্তার কোনোই নিয়ম কানুন শেখায়নি। লাইসেন্সের যখন পরিক্ষা দিতে যাই, শুনলাম কিছুই লাগবেনা শুধু ৫/৬ হাজার টাকা দিলেই পাশ। আবার টাকা না দিলে হাজার পরিক্ষা দিলেও পাশ হবেনা। কে যায় ঝামেলায় জড়াতে। দিলাম টাকা, আমাকে বলা হল শুধু খাতায় সাইন করে চলে আসতে। আসলাম খাতায় সাইন করে। পেয়ে গেলাম এক আধ্যাতিক ছবি সম্বলিত ডিজিটাল ড্রাইভিং লাইসেন্স।
অথচ রাস্তার নিয়ম কানুন কি? লাল বাতিতে থামতে হয় না যেতে হয়? গিভ ওয়ে কি? কিভাবে কখন ওভার টেক করতে হয় বা হয়না? কোথায় থামাতে হয় বা হয়না? কোথায় কত জোরে চালাতে হয় বা হয়না? ওয়ান ওয়ে কি? ইত্যাদি ইত্যাদি কিছুই জানা হলোনা। ডিজিটাল লাইসেন্স নিয়ে হয়ে গেলাম ড্রাইভার।

পরে এক্সিডেন্ট করে এবং বিদেশে গাড়ি চালিয়ে চালিয়ে শিখলাম ব্যাসিক নিয়ম কানুন। বিদেশে গাড়ি চালিয়ে বিরাট বিরাট এক্সিডেন্ট থেকে বেঁচে আসছি, বেঁচে আসার পর অনুধাবন করেছি যে ড্রাইভিং এর কিছুই জানিনা।

এবার ওই বাস ট্রাক সিএনজি ড্রাইভারদের কথা একবার চিন্তা করে দেখেন! লাইসেন্স থাকা বা না থাকা তো একই কথা। কেউ কিছুই জানেনা। লাইসেন্স থাকলেই কি বা না থাকলেই কি!

পৃথিবীর যে কোন দেশে রাস্তার মোড়ে গাড়ি থামানো হারাম। আর আমাদের দেশে মোড় গুলোতে বাসস্ট্যান্ড, ট্রাকস্ট্যান্ড, সিএনজি স্ট্যান্ড, রিক্সাস্ট্যান্ড। কতবড় বেকুব জাতী আমরা একবার ভেবে দেখেন। কি কাজ করে আমাদের দেশে ট্রাফিক যারা মেইনটেইন করে ভাবেন একবার।

বাসগুলো শ শ যাত্রী নিয়ে একজন আরেকজনের সাথে পাল্লাপাল্লি করে অথচ দেশের বাইরে উন্নত দেশগুলোতে যাত্রী বহনকারী ড্রাইভারের ট্রেইনিং, মোটিভেশন এবং লাইসেন্স সবই আলাদা এবং স্পেশাল। তাহলে আপনি কাকে দোষ দিবেন এবার বলেন। আজ যখন মানুষ মরে পচে যাচ্ছে তখন নীতি নির্ধারকদের হুঁশ হচ্ছে।

অথচ আমার জানা মতে এসব বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন সময় সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল থেকে এসব জানার জন্য বিদেশে ট্রেইনিং এর ব্যাবস্থা করা হয়। আর সেখানে গিয়ে সাধারনত আমাদের বেশিরভাগ ভাইয়েরা কি করেন সেগুলো নিয়ে সিনেমা বানালে সুপার ডুপার হিট সিনেমা হবে।

তাহলে এইসব কাজের জন্য যারা আমাদের দেওয়া ট্যাক্স থেকে বেতন নিচ্ছে, যাদের উপর দায়িত্ব ছিল তারা কোন লেভেলের একবার ভাবেন। শুধু ড্রাইভারদের দোষ না তো, দোষ ওই স্যারেদেরও সমানে সমান।

তবে এই আমরাই যখন বেশি দূর না, ক্যান্টনমেন্টের ভেতর দিয়ে চলি, আমাদের হুঁশ তখন চালু হয়ে যায়। সেটাই বা কেন হয়?

এখন দেশের আসল ভবিষ্যতরা রাস্তায়, কিসের জন্য আন্দোলন করে? স্বাভাবিক মৃত্যুর।

এর থেকে লজ্জার আর কি থাকতে পারে আমাদের।

কিন্তু দুঃখের বিষয়, লজ্জা ব্যাপারটাই আমাদের শেখায় নাই কেউ। তাই তো আমরা কোথায় কাদতে হবে আর কোথায় হাসতে হবে সেই নুন্যতম জ্ঞানটুকুও অর্জন করতে পারিনি। হয়ে গেছি নেতা। হয়ে গেছি মন্ত্রী।

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা আগস্ট, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৩৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি মুমূর্ষু কবিতা

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১১



আমি আর কবিতা লিখব না বলেও
লিখে ফেলি একটি মুমূর্ষু কবিতা–
জন্ম নেয়ার আগেই যারা অবিরাম
মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, লাথি মারছে
পদ্যের চিরায়ত চোয়ালে !
পঙক্তিতে পঙক্তিতে পথ হেঁটে
প্রচণ্ড পিপাসায় আমি পান করি
কবিতার স্নিগ্ধ জল; আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ এসেছে শরৎ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



শরৎ-প্রাতে শিউলি ঝরা ক্ষণে
দিবাকর ছড়ায় হাসি।
দিঘির জলে রক্তিম পদ্ম
ফুটেছে রাশি রাশি।

ছাতিম গাছের নিভৃত নির্জনে
সবুজ পাতার ঘ্রাণ।
সুখ আহ্লাদে ডাকছে নিসর্গ
উচাটন মন প্রাণ। 

স্নিগ্ধ  বাতাস দোলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইনকা চিপা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬


এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×