বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরীর বড়ো শখের ঘোড়া ছিল সেটি। কলিজা রঙের ঘোড়াটিকে তিনি আদর করে ডাকতেন_সিজার। এরাবিয়ান হর্স সিজারকে শেষমেশ বাঁচানো গেলো না। ত্রাণের মেয়াদোর্ত্তীণ বিস্কুট খেয়ে গত কিছুদিন আগে তার দক্ষিণ সুরমার বাড়িতেই মারা গেলো নিরীহ এই প্রাণীটি। নিরীহ সিজারের মৃতু্যর কাহিনী হয়তো চাপাই পড়ে যেতো। যদি না যৌথবাহিনীর অভিযানের পর শফি আহমদ চৌধুরীর ত্রাণের টিন ও বিস্কুট লোপাটের কাহিনী বেরিয়ে পড়তো। গত তিন মাস আগেও ঘোড়াটিকে তার বাড়িতে দেখেছেন এলাকাবাসী। কিন' তাকে ঘোড়ার পিঠে চড়তে খুব একটা দেখেননি কেউ। ঘোড়ার জন্য দক্ষিণ সুরমার
দাউদপুরের বাড়িতে গড়া হয়েছিল একটি বড়ো একচালা টিনের ঘর। তাও আবার ত্রাণের টিন দিয়ে তৈরি ছিল সে ঘর। শফি আহমদ চৌধুরীর বাড়ির গেট পার হলেই বাঁ দিকে ড্রইংর"ম। ঠিক সোজা সেই ঘোড়ার গোয়াল। এর পাশেই আরও দুটি ঘর ছিল তালাবদ্ধ। সে দুটি ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় 50 বান্ডিল ত্রাণের টিন। বাড়ির কেয়ার টেকার ছিল পাঁচ জন। কয়েক মাস আগে ঘোড়াটিক দাউদপুরের বাড়িতে আনায় তাদের দায়িত্ব আরো বেড়ে গিয়েছিল। কিন' শেষরক্ষা হলো না। এলাকাবাসীর মনত্দব্য মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট খেয়েই মারা গেছে সিজার।
2004 সালের জুলাই মাস। সিলেটের সর্বত্র তখন বানের পানি থৈ থৈ। নিরন্ন মানুষের কান্না বাঁধনহারা। সরকার ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে কিছু ত্রাণও বরাদ্দ করলো দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য। আর সকলের মতো সিলেট-3 (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ) আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরীর মনও বিষাদে ভরে গেলো। তবে তা যতোটা না নিরন্ন মানুষের জন্য বোধকরি তার চেয়ে বেশি পোষা ঘোড়াটির জন্য। সিজারকে গুলশান-2-এ প্রাসাদোপম বাড়িতে রেখেও ঠিক যেন ভরসা পাচ্ছিলেন না সাবেক এই সংসদ সদস্য। তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবেই কিনা কে জানে দুর্গতদের জন্য আনা বিস্কুট তিনি রেখে দিলেন সিজারের জন্য! দাউদপুরের কয়েকজন জানিয়েছেন, বিস্কুটগুলো ঘোড়াকে খাইয়ে স্বসত্দি পেতেন শফি। ঘোড়ার গায়ে কোমল হাত রেখে বলতেন, 'মানুষ পোষ মানে না। কিন' পশু পোষ মানে।' জানা গেছে, হাউজ নং-10(এন,ই), রোড নং-79, গুলশান-2 এর বাসাতে ঘোড়া ছাড়াও তার আছে পাঁচটি হরিণ। শফি চৌধুরী একজন কণ্ঠশিল্পী, একজন পশুপ্রেমিকও। কিন' অনত্দরের এই কোমনীয়তা গভীব মানুষকে বঞ্চিত করার দ্বীনতাকে কি ঢাকতে পেরেছিল?
শফি চৌধুরীর বাড়িতে এই উদ্ধার অভিযানের পর তার অনেক কমর্ীই এখন ক্ষুব্ধ। এরকম একজন বললেন, মানুষ তার কৃতকর্মের ফল হাতেনাতে পেয়ে যায়। গরিব মানুষকে তাদের হক থেকে বঞ্চিত করেছিলেন তিনি। এখন তারই সাজা পাচ্ছেন। বিপুল পরিমাণ ত্রাণের সামগ্রী আটক হওয়ার পর সস্ত্রীক পলাতক আছেন শফি আহমদ চৌধুরী।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
