সন্ধ্যা ৭ টা, অসম্ভব ক্ষুধায় পেটের ভেতর থেকে গুরুগম্ভীর আওয়াজ বের হচ্ছে। মেসের দুপুরের খাবার খেয়ে রাত ১০ টা পর্যন্ত অপেক্ষা করা খুবই কষ্টসাধ্য। চোখের সামনে রতন চাচার দোকানের গরম গরম ডালপুড়ি আর সামাদের 'মামা হালিম' ভেসে উঠছে বারবার। কিছুই করার নেই আমার। মানিব্যাগটা ভালো করে খুঁজে সর্বমোট সাত টাকা পেয়েছি। পুড়ি কিংবা হালিমের দাম আহামরি বেশি নয়। পুড়ি প্রতি পিস ২ টাকা আর হালিম ২৫ টাকা বাটি। তারমানে ৭ টাকা দিয়ে আমি রতন চাচাকে বলে কয়ে চারটা পুড়ি খেতে পারবো। কিন্তু তাহলে কালকে ভার্সিটি যাবার বাস ভাড়াটা দিতে পারবোনা। আসার সময় হেটে আসব কয়েক কিলোমিটার, কিন্তু যাবার সময় হেটে গেলে ক্লাস মিস যাবে। আমি পড়ি একটা প্রাইভেট ভার্সিটিতে। এই মাসের মাত্র ৫ তারিখ আজ, এর মাঝেই আমার পকেট খালি। খালি বলতে কি, পকেট তো ভরেইনি। মাসের শুরুতে একগাদা টাকা ভার্সিটিতে জমা দিতে হয়েছে। আমার বাবার ঘামে ভেজা এত্তগুলা টাকা। সব দিয়ে শেষে আর আমার পকেট খরচা দেবার জন্য কিছু অবশিষ্ট থাকেনি তার। বহু কষ্টে মেস ভাড়ার টাকাটা জোগার হয়েছে। ছোটবেলা থেকে ভালো ছাত্র ছিলাম, বাবা মায়ের ইচ্ছে ছিল অনেক দূর অব্দি পড়াশোনা করাবেন। হ্যা, তারা তাই করছেন। ভাগ্যের ফেরে আমি কোন সরকারি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের যায়গা করে নিতে পারিনি। কিন্তু ঐযে, বাবা আমায় পড়ালেখা করাবেন! জীবনে তার যা সম্বল ছিল সব ঢেলে দিয়ে আমাকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছেন। আহ, আমি ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছি! কম বড় ব্যাপার নাকি! নিজের উপরেই হাসি পায় আমার। পেটে ভাত জুটোতে পারিনা আমি হতে যাচ্ছি ইঞ্জিনিয়ার! গ্রামের বাবা হয়ত ভাবছেন মাসে ২ হাজার টাকা দিয়ে দিব্যি চালিয়ে দেয়া যায়, তিনি তো আর দেখেন নি ঢাকা আসলে কি। আচ্ছা আব্বা কী জানেন যে সারে চারশো মাইল দূরে তার ছেলেটা না অনাহারে দিনের পর দিন পার করছে। নিশ্চয় জানেননা। কদিন ধরে একটা টিউশনির জন্য মরিয়া হয়ে লেগেছি। পাচ্ছিনা, প্রাইভেট ভার্সিটির ছাত্রদের এমনিতেই কদর কম, তার উপরে আমি তো পড়ি বি ক্যাটাগরির একটা ভার্সিটিতে। যাই হোক, লিখাটা আজ আর এগিয়ে নিয়ে যেতে ইচ্ছে হচ্ছেনা। আসলে হাত চলছেনা। হয়তো পরে কখনও সুযোগ পেলে আরও কিছু লিখবো। অনেক কিছু যে লিখার আছে আমার...
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



