somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুহাম্মদ: তাঁর নবী হয়ে ওঠা -1

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০০৬ বিকাল ৪:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাইকেল হার্ট তাঁর "হান্ড্রেড মোস্ট ইনফ্লুয়েনশিয়াল পিপল" বইটাতে এক নম্বরে দিয়েছেন মুসলিমদের রসুল মুহাম্মদ (সা) এর নাম। অনেকেই একমত হবেন, অনেকে হবেন না। তবে যারা একমত হবেন, তাদের একমত হওয়ার কারণটাও থাকবে ভিন্ন ভিন্ন। কেউ কেউ বলবেন এখনকার বিশ্বের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিতে তাঁর প্রভাব বিদ্যমান, অপর আরেক দল বলবেন, পশ্চিমা বিশ্বের আলোর মশালটা মুহাম্মদ (সা) এরই জ্বালানো। ডেনিশ কার্টুন নিয়ে সারা বিশ্বে যা ঘটে গেল, তাতে পৃথিবীর যে কোন সচেতন নাগরিককে ভাবাতে বাধ্য, মানুষটা কে? একজন নিয়ে হালকা পাতলা বিদ্রুপের জন্য এত কিছু কেন?

মুহাম্মদ (সা) সম্পর্কে আমার বিস্তারিত জানার ইচ্ছার কারণ আরও গভীরে। ছোট বেলা থেকেই জেনে আসছি মুহাম্মদ (সা) আমাদের রসুল। এত শ্রদ্ধা, এত কত কিছু... কিন্তু দু:খজনক তাঁর জীবন সম্পর্কে গুছিয়ে কিছু জানতাম না। বিচ্ছিন্ন হাদিস পড়েছি, স্কুলের ধর্ম বইয়ে প্রতিবছর তাঁর সম্পর্কে অল্প স্বল্প কিছু থাকতো। এখানে সেখানে তাঁর জীবনের কত ঘটনাই পড়লাম। কিন্তু কোনটা আগে যায়, কোনটা পরে, সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা ছিলো না একদম। সত্যিই প্রয়োজন বোধ করছিলাম মুহাম্মদ (সা) এর জীবনী পড়ার।

ইয়াহিয়া এমেরিক সম্পর্কে আগেই শুনেছি। আমেরিকার কনভার্টেড মুসলিম এবং লেখক। তিনি লেখালেখি করতেন মুসলিম হওয়ার আগেই। মুসলিম হওয়ার পরে লেখক সত্ত্বাকে কাজে লাগিয়েছেন ' কমপ্লিট ইডিয়টস গাইড টু আন্ডারস্ট্যান্ডিং ইসলাম' এর মত চমৎকার কিছু বই লিখে, যেগুলো মূলত অমুসলিমদের জন্য লেখা। শক্তিশালী লেখনীর সাথে তাঁর বিশ্লেষণী ক্ষমতা তো আছেই, সাথে যুক্ত হয়েছে এমেরিকের কনভার্শন ফ্যাক্টর। কোন রকমের পূর্ব ধারণা (বা পূর্ব 'ভালো ধারণা') ছাড়া ইসলাম এবং মুহাম্মদ (সা) সম্পর্কে পড়াশোনা করে তিনি নিজের জীবন বদলে দেয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন... এই ব্যাপারটা করার সুযোগ জন্মগত মুসলিমদের থাকে না।

'ত্রিটিক্যাল লাইভস: মুহাম্মদ' বইটা লেখা হয়েছে একজন বিশ্বাসীর বিশ্লেষনী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। লেখা পড়ে বুঝা যায়, লেখকের কাছে বিশ্বাসটা অযৌক্তিক না। মরুভূমির মাঝখানে একটু খানি ভূখন্ডে খুনাখুনিরত অনাচারময় মানুষের মধ্যে মুহাম্মদ (সা) এর মত একেবারেই আলাদা, বিপ্লবী, বিশুদ্ধ মানুষ আকাশ থেকে পতিত হওয়ার মত হঠাৎই এসেছেন... ঠিক এরকম একটা ধারণাই বেশির ভাগ মুসলিমের মধ্যে। কিন্তু লেখক প্রাচীন ইতিহাসের পাতা থেকে আপনাদের তৎকালীন সামাজিক, রাজনৈতিক, ধার্মিক এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে নিয়ে যাবে। কি করে মুখে মুখে কবিতা বলিয়ে অতিথি পরায়ন বেদুঈন দুধ মা হালিমার কল্যাণে শহুরে মক্কার কুরাইশদের থেকে একেবারেই আলাদা এবং মার্জিত ছিল তাঁর বাচনভঙ্গি, আচার আচরণ। বাড়ি ফিরে মা হারানো ছোট্ট ছেলেটার দিন কাটতো সমাজ নেতা দাদা আবদুল মুত্তালিবের পাশের কুশনে বসে। চোখে চোখে রাখতে চাইতেন আবদুল মুত্তালিব বাবা মা হারানো ছোট্ট ছেলেটাকে। চাচার কল্যাণে কৈশোর কেটেছে মাঠে মেষ চড়িয়ে। মক্কা 'নাইট লাইফ' এর জন্য সে কালে বেশ বিখ্যাত ছিল। রাত হতেই নর্তকীদের মেলা, মদের বন্যা এবং অবশ্যই জুয়া। মাঠে মাঠে মেষ চড়াতেন এবং সেখানেই থাকতেন বলে রাতের মক্কা দেখেননি কখনও মুহাম্মদ (সা), সমবয়সী ছেলেদের থেকে এই ব্যাপারটা তাঁকে আলাদা করে দেয়, পরিশুদ্ধ রাখে শুরু থেকে শেষ। এরকম ছোট খাট ঘটনা একটু একটু করে গড়ে তুলে মুহাম্মদ (সা) কে, যা মুসলিমরা বিশ্বাস করেন, আল্লাহর ডাইরেক্ট অবজারভেশনে হওয়া। আর অবশ্যই তিনি নিজে 'রিসেপ্টিভ' ছিলেন, তাই ঘটনাগুলো তাঁকে এভাবে বদলাতে পেরেছে।

[পাঠকের অনুরোধে পোস্টটা দুই ভাগে দেয়া হলো। পরের পর্ব পাবেন পর্ব দুই
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:০০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিপ্রতীপ

লিখেছেন রিয়াদ( শেষ রাতের আঁধার ), ২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:২৯

একটা মানুষ, চাওয়া পাওয়ার হিসেব ছাড়া ঠিক কতটা দিন, কতটা মাস, কতটা বছর অপর একটা মানুষের সঙ্গ হয়ে থাকতে পারে? আমার জন্মের ঠিক আটদিন পরে, তরুর জন্ম। এখন আমার বয়স... ...বাকিটুকু পড়ুন

Diplomacy is not tourism

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৯


আফ্রিকার পশ্চিম প্রান্তে আটলান্টিকের তীরে সেনেগালের রাজধানী ডাকার। এপ্রিলের শেষে সেখানে বসেছে 'Dakar International Forum on Peace and Security in Africa'-এর দশম আসর। নামটা দীর্ঘ হলেও এবারের হাওয়া বেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার একশততম পোস্ট!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:১৮



আমার একশততম পোস্ট!

আজ আমার লেখকজীবনের এক ছোট্ট কিন্তু হৃদয়ের গভীরে দাগ কাটা দিন- সামহোয়্যারইন ব্লগ এ আমার একশততম পোস্ট। সংখ্যার হিসেবে হয়তো ১০০ খুব বড় কিছু নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভুল শুধু ভুল, আমি কি করছি ভুল?

লিখেছেন রবিন.হুড, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪১

আমি টাকার পিছনে না ছোটার কারনে আমার হাতে যথেষ্ট সময় থাকায় সে সময়টুকু সামাজিক কাজে ব্যয় করার চেষ্টা করছি। আবার বিলাসিতা পরিহার করার কারনে অল্প কিছু টাকা সাশ্রয় করছি যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফুল ট্যাঙ্ক স্বপ্ন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৬



শহরের সকালগুলো এখন আর আগের মতো নয়। সূর্য ওঠার আগেই পেট্রোল পাম্পের সামনে লম্বা লাইন পড়ে যায়। সেই লাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে রিদম—একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, আর জীবনের বাস্তবতায় আটকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×