বইটা পড়ছি আর শিউরে উঠছি। তীব্র বিষণ্নতা আমাকে ঢেকে দিচ্ছে।
সাইকোলজির ভাষায় একে বলা হয় 'ফুট ইন ডোর' এপ্রোচ। সত্তরের দশকে গ্রীসের সেনাবাহিনীকে যখন নিষ্ঠুরতার প্রশিক্ষন দিতে হতো, তখন একটা কাজ করা হতো। প্রথম দিন নতুন শিক্ষার্থীকে কয়েদীদের নির্যাতনশালার দরজার বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হতো। সেখান থেকে সারাদিন শুনতো কুৎসিত গালাগালি আর নির্যাতনের পাশবিক আনন্দ। পরের দিন শিক্ষার্থীকে দরজার ভিতর ঢুকানো হতো। এক কোনায় দাঁড়িয়ে দেখে যেতে হত ধারাবাহিক নির্যাতন।
পরের দিন থেকে পুরাপুরি হ্যান্ডস অন। নিজ হাতে যা করার করতে হবে।
প্রথম দিনই ধরিয়ে দিলে ওরা পারত না। তৃতীয় দিন পারত।
ঘৃণা, বিদ্্বেষ, এগুলো সংক্রামক।
পরম পূজনীয় কাউকে তীব্র ঘৃণা পোষণ করে কারো সম্পর্কে কিছু বলতে দেখলে, সেটা নিজের মধ্যেও চলে আসে।
আমি বুঝতে পারছি না... অনেক জায়গা থেকে চিমটিয়ে তুলে আনা কুৎসিত চিত্রগুলো একটা বিশেষ জনগোষ্ঠীর নামে চালিয়ে দিয়ে, তাতে নিজের কল্পনার (কুৎসিত) রং মিশিয়ে যেই গরল তৈরি করেছে লেখক, এ কি পরিকল্পিত বিষ না কি নেহায়েত অজ্ঞতা প্রসুত লেখা?
আমার রূপ কথার মত মনে হচ্ছে। আর সবার কি হবে? বেশ আগে ওরকম একটা লেখা পড়েছিলাম। অনেক কম ডোজের অবশ্য। পড়ে আমি বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। এসব কি?
বিষণ্ন হয়ে গুটিয়ে গিয়েছিলাম।
আজ কাল কথা বলতে খুব ক্লান্ত লাগে। কেবল শুনতে ইচ্ছা করে। এত ঘৃণা, বিদ্্বেষ, ভুল বুঝাবুঝি... 'কমন প্লাটফর্ম' বুঝি একটাও নাই? ভুল বুঝাবুঝি উস্কে দেয়ার মানুষ প্রচুর, কিন্তু উড়িয়ে দেয়ার জন্য কেউ নেই?
আমি যে অনেক বিপরীত ধর্মী বাতাস পাওয়া মেয়ে। কেউ যদি বলে নিজেকে প্রশ্ন করি না, কথা কাজের ডিসক্র্যাপেনসি কমানোর চেষ্টা মরিয়া ভাবে করি না, তাহলে সে দাঁড়াক বিবাদীর জায়গায়। আমি জানি, আমি জিতব।
অনেক ভারি এ ভার। অনেক দুষণ। অনেক মিথ্যা। অনেক ঘৃণা। অনেক দরজায় পা।
সত্য ও সুন্দর ভালোবাসা মানুষেরা সব কই? আমার ভিতরের তীব্র হাহাকার, সব বুঝতে পেরেও পথ খুঁজে না পাওয়া মানুষদের হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে যাবে না কেউ?
একজন অতি মানব চাই, সব ঠিক করতে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা এপ্রিল, ২০০৭ রাত ৮:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


