somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

স্বপ্নবাজ অভি
দীর্ঘ অন্ধরাতে গোলাপ বিষয়ক কোন কবিতার পাতায় আমি নৈঃশব্দ্য আর অনিভপ্রেত ক্লান্তির মিলন দেখিয়েছি । গোলাপের মঞ্জুরীবিন্যাসে নাকি বলা ছিল “নৈকট্য ভয়ানক” !

চলচ্চিত্র দর্শনঃ আয়নাবাজি এবং প্রাসঙ্গিক ভাবনা।

০২ রা অক্টোবর, ২০১৬ দুপুর ২:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



দেশীয় চলচ্চিত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট লোকজন সম্ভবত অনেক দিন ধরেই কিছুটা আস্থাহীনতা আর কিছুটা সন্দেহের ঘোরের ভিতরে ভুগছিলেন। ঠিক কি ধরনের ছায়াছবি বানানো যায়। লম্বা সময় ধরে দর্শকের ভিতরে একটা শ্রেনীবিন্যাস তৈরী হয়ে গেছে, বিনোদনের অন্যতম এই মাধ্যমটিতে কাদের জন্য সিনেমা বানানো হয় সেটা নিয়েও বিতর্ক হতে পারে। বেশীরভাগ সময়ে আমার কাছে মনে হয়েছে আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পের সাথে জড়িত লোকজন ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলেন না কি করা উচিৎ! বাজেট সমস্যা, দর্শক সমস্যা, মনন আর মানসিকতার সমস্যা, দক্ষ অভিনেতা - অভিনেত্রীর ঘাটতির নানা সমস্যায় জর্জরিত দেশীয় চলচ্চিত্র।

নাটক নির্মাতাদের, অভিনয় শিল্পীদের সিনেমায় আসাটা মানসম্পন্ন সৃজনশীল সিনেমা নির্মানের স্বপ্ন দেখিয়েছে, তবে সিনেমা কিন্তু সিনেমা। নাটক নাটকই। ভালো গল্প, ভালো ফ্রেমিং , ভালো অভিনয় থাকলেও কোথায় গিয়ে যেন সেগুলোর বেশীরভাগ আর সিনেমা হয়ে উঠতে পারছিলোনা। বিজ্ঞাপন নির্মাতা হিসেবে অমিতাভ রেজা অনেক আগেই নিজের প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন, তাই তিনি সিনেমা বানাচ্ছেন এটা নিঃসন্দেহে স্বতন্ত্রভাবেই প্রত্যাশার সীমারেখা তৈরী করে দিয়েছে।

সিনেমা শিল্পে আমরা সম্ভবত বেশ কিছু ব্যাপারে অনেক পেছনে ছিলাম। একেবারেই শুরুতেই যেটা আসে সেটা হচ্ছে প্রচারণা। প্রচারণাতেই আয়নাবাজি বাজিমাৎ করেছে, বেশ ভালো রকমের সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে। দীর্ঘদিন পরে হাউজফুল, হাউজফুল, হাউজফুল রব উঠেছে। ভালো কাজ হলে যে দর্শক লুফে নেয় সেটা আরেকবার প্রমাণিত হয়েছে।

আয়নাবাজি দেখতে হলে যাবার আগে এমন বেশ কিছু ভাবনা ঘুরাফেরা করছিলো। আয়নাবাজি অনেক কিছুরই জবাব হয়ে এসেছে। আয়নাবাজি কেমন লেগেছে, এক কথায় বলা যাবেনা। আয়নাবাজিতে কি হয়েছে সেটাও বলা সমীচিন হবেনা।

আয়নাবাজি সম্ভবত বাংলাদেশের প্রথম থ্রিলার মুভি। দর্শককে প্রচন্ডভাবে আকৃষ্ট করে রাখা যার প্রধান ধর্ম। এই দিক থেকে আয়নাবাজি শতভাগ সফল। দর্শককে পুরো তিন ঘন্টা পর্দায় বন্দী করে রাখাটা নিঃসন্দেহে সাফল্যের ব্যাপার। কিভাবে রেখেছেন সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, আমার কাছে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে অমিতাভ রেজা সম্ভবত ক্যামেরার ফ্রেমিং দিয়েই মনোযোগ ধরে রেখেছেন, দর্শক আমাদের চিরচেনা কিছু দৃশ্য পর্দায় আকর্ষনীয় ভাবে দেখছে তাই মুগ্ধ হয়ে দেখছে, ক্ষানিকবাদেই আমি অনুভব করলাম আমি আয়না সাহেবের ভাবনার সাথে একাত্ব হয়ে গেছি। সিনেমার প্রতি পদক্ষেপে নতুন নতুন চমক ও আমাকে চোখ সরাতে দেয়নি। বিরতির সময়ে মনে হলো, ইশ! অর্ধেক শেষ!

আর নাটক কিংবা বিজ্ঞাপনের লোকজনের সিনেমা দেখার পর যেটা মনে হয় টেলিফিল্ম দেখলাম, মুভি নয়, সেই ভয় নিয়েই দেখা শুরু করেছিলাম। মিথ্যে বলবনা প্রথম আট দশ মিনিটে মনে হয়েছে আরেকটা টেলিফিল্ম দেখছি বোধহয়, কিন্তু না অমিতাভ রেজা মুভিই বানিয়েছেন, থ্রিলার মুভি। আপনাকে রোমাঞ্চ উপহার দেবেন।

চঞ্চল চৌধুরী কত বড় মানের অভিনেতা সেটার প্রমান হিসেবে এই মুভিটা ইতিহাস হয়ে থাকবে। মোট সাতটা চরিত্রের নিখুঁত বাস্তবায়ন কেবল মাত্র তাঁর পক্ষেই বাংলাদেশে সম্ভব। সিনেমার পাত্র পাত্রী নির্বাচনে অমিতাভ রেজা মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। কাহিনী বিন্যাস, সিনেমাটোগ্রাফি আর অভিনয় বের করে আনায় যে তিনি পরিশ্রম করেছেন সেটা ছবিটা না দেখলে অনুমান করা যাবেনা।

দর্শককে আনন্দ দেয়ার জন্য বেশ কিছু মজার আয়োজন করেছেন। মাঝে মাঝেই ছোট ছোট কিছু দৃশ্যে জনপ্রিয় কিছু মুখের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন, সিনেমাটির জন্য তাদের উপস্থিতি কখনোই প্রয়োজনীয় ছিলোনা তবে দর্শকদের একগেয়েমি থেকে দূরে রাখতে এটা খুব জরুরী ছিলো।

অমিতাভ রেজা একটা বার্তা পৌছে দিয়েছেন সবার কাছে, কমার্শিয়াল ফিল্ম আর আর্ট ফিল্ম এই দুটি ধারণা আলাদা আলাদা করাটা ফিল্মের জন্য ক্ষতিকর। একটা ব্যাবসা সফল মুভিতেও আর্ট থাকতে পারে, আর সেটাই ভালো ছবি হয়।

ছবির শুরুর ১৫ মিনিট পর থেকে নির্দিষ্ট বিরতি দিয়ে ক্ষানিক বাদে বাদেই কিছু প্রশ্ন, কিছু শঙ্কা উপহার হিসেবে এসেছে, বিরতির পর এটা চূড়ান্ত ধম বন্দ অনুভতি উপহার দিয়ে তারপর হঠাৎ করে আরো কিছু প্রশ্ন সামনে রেখে শেষ হয়েছে। আয়নাবাজিকে আপনি চাইলে ছোটগল্প বলতে পারেন।

অমিতাভ রেজাকে শুভেচ্ছা, ধারাটা চালু থাকুক। দর্শক এমনিতেই হলে যাবে, সুস্থ বিনোদনের অনেক অভাব এই দেশে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০১৬ দুপুর ২:০৮
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন কাওসার চৌধুরী ও তার গল্পগুচ্ছ 'পুতুলনাচ' (বই রিভিউ)

লিখেছেন আকতার আর হোসাইন, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ২:১৫



লেখকের প্রথম বই--- বায়স্কোপ: যে বইয়ে কাওসার চৌধুরী এঁকেছেন জীবনের বায়স্কোপ

আর সবার মতন একজন লেখকেরও রয়েছে স্বাধীনতা। যার যে বিষয়ে ইচ্ছে সে সেই বিষয়েই লিখবে। জোড় করে কোন লেখকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

যীশুর রহস্যময় বাল্যকালঃ মিশর অবস্থান কাল বার বছর পর্যন্ত

লিখেছেন শের শায়রী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৩:৩০



যীশুর জীবনের অন্যতম রহস্যময় ঘটনা হিসাবে যা আমার কাছে মনে হয় তা হল যীশুর বাল্যকাল। ইতিহাস প্রসিদ্ধ ধর্মপ্রচারকদের মাঝে যীশুর জীবনির একটা অংশ নিয়ে আজো কোন কুল কিনারা পাওয়া যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাড়ী ভাড়া বিষয়ক সাহায্য পোস্ট - সাময়িক, হেল্প/অ্যাডভাইজ নিয়েই ফুটে যাবো মতান্তরে ডিলিটাবো

লিখেছেন বিষন্ন পথিক, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ৯:১৭

ফেসবুক নাই, তাই এখানে পোস্টাইতে হৈল, দয়া করে দাত শক্ত করে 'এটা ফেসবুক না' বৈলেন্না, খুব জরুরী সহায়তা প্রয়োজন।

মোদ্দা কথা...
আমার মায়ের নামে ঢাকায় একটা ফ্লাট আছে (রিং রোডের দিকে), ১৬০০... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে...

লিখেছেন পদ্ম পুকুর, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:৪৫


জীবনানন্দ দাস লিখেছেন- সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে...। বনলতা সেন কবিতার অসাধারণ এই লাইনসহ শেষ প্যারাটা খুবই রোমান্টিক। বাংলা শিল্প-সাহিত্যের রোমান্টিসিজমে সন্ধ্যার আলাদা একটা যায়গাই রয়ে গেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাবার ঘরেও খেতে পাইনি, স্বামীর ঘরেও কিছু নেই!

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৪৪



"বাবার ঘরেও খেতে পাইনি, স্বামীর ঘরেও কিছু নেই!", এই কথাটি আমাকে বলেছিলেন আমাদের গ্রামের একজন নতুন বধু; ইহা আমার মনে অনেক কষ্ট দিয়েছিলো।

আমি তখন অষ্টম শ্রেণীত, গ্রাম্য এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×