somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

[is=#4169E1]

১২ ই জুন, ২০০৬ রাত ৩:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বয়সে ছেলেটি আমার চেয়ে 3 মাসের বড়। গায়ের রঙ শ্যামলা। একহারা শরীর। গোলগাল চেহারা। বৃষ্টির সজীবতা চোখের তারায়। শান্ত-শিষ্ট। ধীর। তার একটা ভালো দিক হচ্ছে সে সুন্দর করে স্বপ্ন দেখতে পারে, সাধারন সব স্বপ্ন। সাধারণ স্বপ্ন দেখা এই অসাধারণ ছেলেটি আমাকে দেখতে এসেছিল আজ থেকে প্রায় 6 বছর আগে। আজ আসলো ঠিক 6 বছর পর... আমার আয়োজনের কমতি থাকার কথা ছিলনা। তারপরও কমতি আছে, কারণ আমি পুরোপুরি মানুষ নই। 'অ-মানুষ' আখ্যা দেয়া যায় আমাকে।

দুঃস্বপ্নের দিনে নাকি সবাইকে কাছে পাওয়া যায় না। কথাটা ভুল। আমি বস্তুতঃ এ বিষয়টা নিয়ে বরাবর গবেষণা করে যাচ্ছি। ফলাফল পজিটিভ। পাওয়া যায়। যাদের পাওয়া যায়, তারা শীতের বৃষ্টির মত। ফসলের জন্য যা তিকর। এদের কাছে নিজেকে সঁপে দেয়া মানে, সর্দি কাশির দখলে নিজেকে বলি দেয়া। তবে; আমার এই স্বপ্ন-মানব শীতের বৃষ্টি নয়- বর্ষার সবুজ বৃষ্টি হয়ে আসলো। ওদের আগমন বরাবরই সবুজ। ওরা আসে, বর্ষা নামায়। আমাকে টেনে নিয়ে যায় শৈশবে। চোখটায় সুখের দীপ্তি জ্বালায়। মানুষ খুশিতে বর্ষা নামাতে জানে; আমি পুরোপুরি জানিনা। কারন আমি মানুষ নই। আমি হচ্ছি- অ-মানুষ।

সহজ সরল তার চলনবলন। কোনো ভূমিকা নেই। যারা চলনে-বলনে ভূমিকা করে তারা হচ্ছে দশ প্যাঁচের জিলেপীর মত। প্রতিটি প্যাঁচে ফন্দি-ফিকির। আমার ফন্দি ফিকিরহীন বন্ধুটি আসলো ভিজে ভিজে। কি আজব! ব্যাটা মনে হয় কিছুটা আমার স্বভাবের। পুরোপুরি ভেজা এক লোক আমাকে জড়িয়ে ধরেছে, অনেকেই অবাক হতো। আমি হলাম না। কিছুটা আধ-ভেজা হলাম, মনে মনে। সে হালুম মামার মত ঘরে প্রবেশ করে আমারই একটা শার্ট পড়লো; লুঙ্গি পড়লো। আমি মুগ্ধ হয়ে দেখলাম। অবশেষে মুখ খুললো, আমার দিকে তাকিয়ে, ঠোঁটে কিছুটা লাজুক হাসি টেনে বললো-

--- তোর পায়ের কি অবস্থা?
--- এইতো। তুই দেখি পা না ভাঙ্গলে আসিস না? ব্যাপারটা কিরে? তোর জন্য দেখি বার বার পা ভাঙ্গতে হবে!
ও প্যাঁচটা ধরতে পারে না। মুখটা গম্ভির করে বলে-

--- সময় থাকে না। চাকরী করি, একদিন এ্যাবসেন্ট করলে বেতন কমে যায়। তুইওতো আমার ওখানে কোনোদিন গেলি না। কথায় তার আপে ধরা দেয়।

--- কি করবো সময় থাকে না। পড়ালেখা করি, একদিন এ্যাবসেন্ট করলে বেতন বেড়ে যায়! আমি উদাসী হবার ভান করি।
ও মুচকি হাসে। অন্যদিকে চোখ সরিয়ে বলে-
--- পাগলা, তুই কোনোদিন মানুষ হবি না...
--- উঃ জানিস না? পাগলাকে সাঁকো নাড়াতে বলতে নেই। ব্যস্ত হয়ে পড়ি আমি।
ও ঘরটায় চোখ বুলায়। এদিক যায়, ওদিক যায়। এক সময় থামে। আমার দিকে না তাকিয়ে বলে-
--- রুমের একি অবস্থা করেছিস? তোর বউ পরের দিনই পালাবে। এত অগোছালো কেন তুই?
--- বউ পালালে আমারই লাভ! আরেকটা বিয়ে করার চান্স থাকবে। একটা কথা- আমার এখানে এসেছিস, আমার নিয়ম অনুযায়ী চলবি। নিয়মগুলো তোকে একে একে বলা হবে। তবে, ফাষ্ট রুলটা সব সময় মনে রাখবি... রুল নাম্বার প্রথম- এটা অগোছালো রাজ্য, এখানে বড়জোর গোছানো রাজ্যের গল্প শুনাতে পারবি। কখনোই, সে রাজ্যে ফিরে যেতে বলবি নট।

ও মনে হলো কিছুটা দুঃখ পেয়েছে। পাবারই কথা। ওরা মানুষ। মানুষরা ছোটখাট ব্যাপার নিয়ে সব সময় মন খারাপ করে। মানুষ নামক আজব জীবটি' যে প্রোগ্রামার বানিয়েছে, তিনি মনে হয় খুব বেশি আবেগী ছিলেন। সব আবেগ তিনি মানুষগুলোকে বিলিয়ে নাকে শস্যতেল দিয়ে ঘুমিয়ে আছেন।

--- তোর গোপালগঞ্জের খবর কিরে?
--- জানিনা।
--- কথা বলবো নাকি আন্টির সাথে? ও চোরা হাসি দেয়। তোর যা অবস্থা, আমার আগেই মনে হয় তোকে কবুল বলতে হবে!
--- রুল নাম্বার ওয়ান ভঙ্গ হয়েছে। তোকে বহিঃস্কার করা হলো। তুই বেরিয়ে যা; বেরিয়ে যা...! বাংলা ছবির ডায়ালগ, অভিনয় করার পর নিজের প্রতীভা টের পেলাম!

ও প্রস্তুত ছিল। তারপরও অভিনয়ের কারুকাজ দেখে না হেসে পারে না। তার হাসিটায় পুষ্টি নেই। মরা হাসি। দেখলে মায়া মায়া লাগে। হাহাকার করে মন। মানুষ হতে ইচ্ছে করে। ওকে রস মাখানো কথাবার্তা বলে আদর আপ্যায়ন করতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে আরও অনেক কিছু করতে। পারিনা। আমিতো মানুষ নই; আমি হচ্ছি অ-মানুষ। এ ধরনের মানুষরা হাহাকার করে নিরবে। তাদের হাহাকার নিরবতা পছন্দ করে।

--( 1 চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ২:৩৭
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৩



জুলাই মিউজিয়ামঃ স্মৃতির বিরুদ্ধে বিস্মৃতির লড়াই....

১৫ আগস্ট আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গিয়েছিলাম জুলাই মিউজিয়ামে। সেখানে গিয়ে মনে হলো- এটি শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের বিরুদ্ধে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

থাক অহমিকায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


তোমার রঙিন আকাশে নেই
যে অমাবস্যার- অন্ধকার
ঝলমল করছে শুধু চাঁদ-
ডুবছ ডুবছ সুখমারী রাত!
উড়ছ শঙ্খচিলের ডানায়;
তোমার আকাশে অমাবস্যা নাই।

আমি মাটি বন্দি হয়েছি
মরার আগেই- মরার আগেই-
স্বপ্ন দেখি শুধু হুতুম পেঁচা হব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০



বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন[

শেখ মুজিব ইতিহাসের খলনায়ক।
জাতীয় বেইমান।
পাকিস্তান ভাঙার অপরাধী।
- এই কথাগুলো আপনি বিশ্বাস করেন?
তাহলে আজ আপনাকে একটা অনুরোধ করব- একবার শুধু থামুন।

রাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×