দুঃস্বপ্নের দিনে নাকি সবাইকে কাছে পাওয়া যায় না। কথাটা ভুল। আমি বস্তুতঃ এ বিষয়টা নিয়ে বরাবর গবেষণা করে যাচ্ছি। ফলাফল পজিটিভ। পাওয়া যায়। যাদের পাওয়া যায়, তারা শীতের বৃষ্টির মত। ফসলের জন্য যা তিকর। এদের কাছে নিজেকে সঁপে দেয়া মানে, সর্দি কাশির দখলে নিজেকে বলি দেয়া। তবে; আমার এই স্বপ্ন-মানব শীতের বৃষ্টি নয়- বর্ষার সবুজ বৃষ্টি হয়ে আসলো। ওদের আগমন বরাবরই সবুজ। ওরা আসে, বর্ষা নামায়। আমাকে টেনে নিয়ে যায় শৈশবে। চোখটায় সুখের দীপ্তি জ্বালায়। মানুষ খুশিতে বর্ষা নামাতে জানে; আমি পুরোপুরি জানিনা। কারন আমি মানুষ নই। আমি হচ্ছি- অ-মানুষ।
সহজ সরল তার চলনবলন। কোনো ভূমিকা নেই। যারা চলনে-বলনে ভূমিকা করে তারা হচ্ছে দশ প্যাঁচের জিলেপীর মত। প্রতিটি প্যাঁচে ফন্দি-ফিকির। আমার ফন্দি ফিকিরহীন বন্ধুটি আসলো ভিজে ভিজে। কি আজব! ব্যাটা মনে হয় কিছুটা আমার স্বভাবের। পুরোপুরি ভেজা এক লোক আমাকে জড়িয়ে ধরেছে, অনেকেই অবাক হতো। আমি হলাম না। কিছুটা আধ-ভেজা হলাম, মনে মনে। সে হালুম মামার মত ঘরে প্রবেশ করে আমারই একটা শার্ট পড়লো; লুঙ্গি পড়লো। আমি মুগ্ধ হয়ে দেখলাম। অবশেষে মুখ খুললো, আমার দিকে তাকিয়ে, ঠোঁটে কিছুটা লাজুক হাসি টেনে বললো-
--- তোর পায়ের কি অবস্থা?
--- এইতো। তুই দেখি পা না ভাঙ্গলে আসিস না? ব্যাপারটা কিরে? তোর জন্য দেখি বার বার পা ভাঙ্গতে হবে!
ও প্যাঁচটা ধরতে পারে না। মুখটা গম্ভির করে বলে-
--- সময় থাকে না। চাকরী করি, একদিন এ্যাবসেন্ট করলে বেতন কমে যায়। তুইওতো আমার ওখানে কোনোদিন গেলি না। কথায় তার আপে ধরা দেয়।
--- কি করবো সময় থাকে না। পড়ালেখা করি, একদিন এ্যাবসেন্ট করলে বেতন বেড়ে যায়! আমি উদাসী হবার ভান করি।
ও মুচকি হাসে। অন্যদিকে চোখ সরিয়ে বলে-
--- পাগলা, তুই কোনোদিন মানুষ হবি না...
--- উঃ জানিস না? পাগলাকে সাঁকো নাড়াতে বলতে নেই। ব্যস্ত হয়ে পড়ি আমি।
ও ঘরটায় চোখ বুলায়। এদিক যায়, ওদিক যায়। এক সময় থামে। আমার দিকে না তাকিয়ে বলে-
--- রুমের একি অবস্থা করেছিস? তোর বউ পরের দিনই পালাবে। এত অগোছালো কেন তুই?
--- বউ পালালে আমারই লাভ! আরেকটা বিয়ে করার চান্স থাকবে। একটা কথা- আমার এখানে এসেছিস, আমার নিয়ম অনুযায়ী চলবি। নিয়মগুলো তোকে একে একে বলা হবে। তবে, ফাষ্ট রুলটা সব সময় মনে রাখবি... রুল নাম্বার প্রথম- এটা অগোছালো রাজ্য, এখানে বড়জোর গোছানো রাজ্যের গল্প শুনাতে পারবি। কখনোই, সে রাজ্যে ফিরে যেতে বলবি নট।
ও মনে হলো কিছুটা দুঃখ পেয়েছে। পাবারই কথা। ওরা মানুষ। মানুষরা ছোটখাট ব্যাপার নিয়ে সব সময় মন খারাপ করে। মানুষ নামক আজব জীবটি' যে প্রোগ্রামার বানিয়েছে, তিনি মনে হয় খুব বেশি আবেগী ছিলেন। সব আবেগ তিনি মানুষগুলোকে বিলিয়ে নাকে শস্যতেল দিয়ে ঘুমিয়ে আছেন।
--- তোর গোপালগঞ্জের খবর কিরে?
--- জানিনা।
--- কথা বলবো নাকি আন্টির সাথে? ও চোরা হাসি দেয়। তোর যা অবস্থা, আমার আগেই মনে হয় তোকে কবুল বলতে হবে!
--- রুল নাম্বার ওয়ান ভঙ্গ হয়েছে। তোকে বহিঃস্কার করা হলো। তুই বেরিয়ে যা; বেরিয়ে যা...! বাংলা ছবির ডায়ালগ, অভিনয় করার পর নিজের প্রতীভা টের পেলাম!
ও প্রস্তুত ছিল। তারপরও অভিনয়ের কারুকাজ দেখে না হেসে পারে না। তার হাসিটায় পুষ্টি নেই। মরা হাসি। দেখলে মায়া মায়া লাগে। হাহাকার করে মন। মানুষ হতে ইচ্ছে করে। ওকে রস মাখানো কথাবার্তা বলে আদর আপ্যায়ন করতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে আরও অনেক কিছু করতে। পারিনা। আমিতো মানুষ নই; আমি হচ্ছি অ-মানুষ। এ ধরনের মানুষরা হাহাকার করে নিরবে। তাদের হাহাকার নিরবতা পছন্দ করে।
--( 1 চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

