somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাল বইমেলা, আর সেখানে আমার লেখা কিছু এলোমেলো অনুভূতির ছাপা অক্ষরে আত্মপ্রকাশ

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কাল ফেব্রুয়ারী মাস শুরু, বইমেলা শুরু। বরাবরই বইমেলায় ঘোরার জন্য আমি পাগল। অনেক আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করি বছরের শুরু থেকেই, যে কখন বইমেলা শুরু হবে, কখন আমি অনেক অনেক বই কিনব !! এবারও অপেক্ষা করেছি, অনেক আগে থেকে। কিন্তু এবারের অপেক্ষাটা একটু ভিন্ন। কারণ এবারের বইমেলায় অনেক অনেক বড় লেখকদের বই এর মাঝে একটা সাধারণ ছোট গল্পের বই এ আমারও একটা লেখা ছাপা হবে। এবার আমার কাঁচা হাতে লেখা কিছু আবোল-তাবোল শব্দ কিছু মানুষ বইমেলা থেকে কিনে পড়বে! অদ্ভুত এক অনুভূতি এনে দিচ্ছে এই চিন্তাটা!

লেখালেখি কাজটার সাথে আমার কখনোই কোন যোগাযোগ ছিল না। কয়েক মাস আগে এক বন্ধুর কথায় ব্লগে লেখা শুরু করি। আর তখন লেখালেখির একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল মনের কথাগুলো শব্দমালায় প্রকাশ করে নিজের ভেতরের জমাট বাঁধা অনুভূতিগুলোকে কিছুটা হালকা করার চেষ্টা করা। এভাবেই লিখতে লিখতে ওই বন্ধুরই উৎসাহে বইমেলায় বের হতে যাওয়া ছোটগল্পের একটা বই এর জন্য কিছু লেখার চেষ্টা করি। লেখা হয়ও। কিন্তু সেটা আর ছোটগল্প থাকে না তখন। অনেকটা স্মৃতিকথন হয়ে যায়, প্রিয় কোন মানুষের উদ্দেশ্যে লেখা একটা ঠিকানাবিহীন চিঠির মত। লেখাটা শেষ হবার পর তাই আর পাঠানোর সাহস পাচ্ছিলাম না। কারণ ওরকম একটা বইয়ের জন্য নিশ্চয়ই অনেক ভাল ভাল লেখক লেখা পাঠাবেন। তাঁদের মাঝে আমার লেখা বাছাই হবার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। নিশ্চিত এটা বাদ পরে যাবে। এভাবে ভাবতে থাকলেও, কিভাবে কিভাবে যেন শেষ পর্যন্ত পাঠানো হয়ে গেল লেখাটা, যার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব আমার খুব প্রিয় দুজন মানুষের। কিন্তু পাঠানোর কিছুদিন পর ভুলেও গেলাম লেখাটার কথা। কারণ?? ওই যে, "ওরকম একটা বইয়ের জন্য নিশ্চয়ই অনেক ভাল ভাল লেখক লেখা পাঠাবেন। তাঁদের মাঝে আমার লেখা বাছাই হবার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। নিশ্চিত এটা বাদ পরে যাবে।" কিছুদিন কেটে গেল এভাবে। হঠাৎ একদিন একটা ফোন এলো আমার কাছে। সেই ভাইয়ার ফোন ছিল সেটা যার উদ্যোগে বইটা বের করার পরিকল্পনা হয়েছিল। ভাইয়া যখন আমাকে বললেন যে আমার লেখা ভাল হয়েছে, আর তাঁরা সেটা select করেছেন বই এ ছাপানোর জন্য, আমিতো পুরোই অবাক। কেমন যেন একটা অনুভূতি হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, "এসব কি সত্যি?? নাকি আমি ভুল শুনছি??" আমার আত্মবিশ্বাস বরাবরই অনেক কম। তাই নিজের এই হঠাৎ প্রাপ্তিতে রীতিমত ধাক্কা খেয়েছিলাম বলা যায় !!

আজকে sure হলাম যে অবশেষে বের হচ্ছে আমার লেখা এবার বইমেলায়। অনেক আনন্দের একটা ঘটনা। কিন্তু আমার দূর্ভাগ্য যে আনন্দটা ওভাবে অনুভব করতে পারছি না আমি। আনন্দেরতো তখনই পুর্ণতা মেলে, যখন তা সবার সাথে ভাগ করে নেয়া যায়। কিন্তু ওই যে বললাম, আমার লেখাটা মূলতঃ আমার এলোমেলো মনের কিছু অগোছালো অনুভূতির প্রকাশ। যা আমার বাবা-মা কে অনেক কষ্ট দেবে। জীবনে সবসময়ই সব সাফল্য সবার আগে আব্বু-আম্মুর সাথে ভাগাভাগি করেছি। আজ প্রথম নিজের কোন সাফল্যকে তাঁদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখছি, লুকিয়ে রাখছি। নাহলে যে তাঁরাই কষ্ট পাবেন নিজের মেয়ের মনের ভেতর জমানো কষ্টের রূপটা দেখলে। আগে এমন হবে জানলে এরকম কোন লেখা পাঠাতামই না, অন্য কিছু লিখতাম, নয়তো কিছুই লিখতাম না। কিন্তু তখনতো ভেবেছিলাম আমার লেখা কখনোই কেউ ছাপাবেনা। তাই চিন্তাভাবনা করে লিখিনি কিছু। যা মাথায় এসেছিল, তাই শুধু টাইপ করে গিয়েছিলাম। ঠিক যেমনটা ব্লগে লেখার সময় করি। এখন তাই কষ্ট হচ্ছে খুব।

এতদিনে একটা কথা খুব ভালভাবে বুঝে গেছি যে জীবন অনেক বিচিত্র। ক্ষণে ক্ষণে সে তার রঙ বদলায়। এটা ভেবেই তাই শান্তনা পাচ্ছি এখন যে হয়তো একদিন আসবে যখন আর এসব বাধা থাকবেনা আমার সামনে। হয়তো একটা সময় আসবে যখন আব্বু-আম্মু আমার লেখাটা পড়বে, খুশিতে আমাকে জড়িয়ে ধরবে। অবাক হয়ে ভাববে, "আমার পিচ্চি মেয়েটা আবার লেখালেখি করে কবে থেকে?? কখনোতো ২লাইন চিঠিও লিখতে দেখিনি ওকে !!"

অনেক আজব অনুভূতি হচ্ছে আমার এখন। মিশ্র একটা অনুভূতি। উত্তেজনা, আনন্দ, কষ্টের মিশেলে একদম অন্যরকম একটা অনুভূতি। অপেক্ষা করছি কালকের জন্য। কখন নিজে প্রথম একটা বই কিনে আব্বু-আম্মুর জন্য ড্রয়ারে লুকিয়ে রেখে দিব, সেই সময়ের অপেক্ষায়, যেদিন আর কোন বাধা থাকবেনা।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুন, ২০১১ রাত ১:০৩
২৪টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×