somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শরীফ বিন ঈসমাইল
পৃথিবীটা আজ বড়ই অদ্ভূত মনে হয়, ভাতের অভাবে যখন মৃত্যুময় জীবন, চাঁদের আলোয় তবু বেঁচে থাকা! ব্যার্থ প্রেমে জীবননাশ যেখানে, আবার সিগারেটের ধোঁয়ায় জীবনের ছবি আঁকা ।

মাই লাভ, তুমিও একদিন ইতিহাস হবে....!

০২ রা জানুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




বাবা যেদিন সাংঘাতিক চড় মেরে বলেছিলেন-
ঘর থেকে বের হয়ে যা অপদার্থ!
তার পিছনের কারণে মূলত কারন তুমি ছিলে মাধবী...!

কৈশোরে শেষ শরৎ-এ যদি তোমার প্রেমে না পরতাম,
তাহলে হয়তো এই জীবন না বেছে নিয়ে,
বেছে নিতাম ৯ফুট বাই ৭ফুট শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কোন চেম্বার!

চল্লিশ হাজার মাইনের চাকরী, অপ্সরী স্ত্রী, দুটি দেব কন্যা নিয়ে সংসার হতে পারতো!
উইক এন্ডে স্ত্রীসহিত সিনেমা দেখে; নামি রেস্তোরায় ডিনার সেরে বাড়ি ফেরার পথে-
দুটি প্রগাঢ় চুমু খেতে পারতাম!
রাতে মিলনে সে নিজেকে সম্পূর্ণ খুলে দিতো আমাকে দেবতা ভেবে।
আমিও তার দেহ চেটেপুটে খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে ডাকতাম কুম্ভকর্ণকে!

বন্ধু হৃদয় এর বাবার মতো
আমার বাবাও হয়তো গর্ব করে বলতেন- আমার ছেলে সরকারী চাকরি করে!
চল্লিশ হাজার মাইনে পায়! চল্লিশশশশ হাজার......!

যখন স্বপ্নের চৌকাঠে দাঁড়িয়ে কৈশোর, দুটি চোখে এলোমেলো চুল,
আর কাঁধে এক বস্তা বিদ্যা!
তখন হুট করে এক প্রভাতে বুঝতে পারলাম- জীবন কোন তিন ঘন্টার পরীক্ষা নয়!
একটি কাগজের টুকরো আমাকে বন্দী করতে পারবে না কখনো!
পৃথিবীর উত্তর থেকে দক্ষিণে শুধু ক্ষুর্ধাত মুখ!
একজন খাদ্য তো অপরজন খাদক!
কে কাকে গিলে খাবে দুজনের কেউ জানে না!
জেনে উঠতে পারে না মৃত্যুর আগ পর্যন্ত!
শুধু দৌঁড়াতে হয় ভয়ে, স্বার্থে, হিংসায়, কিংবা ঘৃণায় অখবা প্রতিশোধের নেশায়...!
কোথাও ভালোবাসা নেই....!
ভালবাসার নামটাও সেই, কোথাও এক ছটাক মুক্ত আকাশ নেই....!

একসময় কলেজ ছাড়ার সাথে-সাথে বাবার সাথে সম্পর্ক ছিঁড়ে গেল!
আর তার জন্যও তুমি দায়ী..!

আমার দুটা ময়লা জিন্স, চারটে রং যাওয়া শার্ট,
আর দেশের বাইরে পড়ার ভিসা হাতে না পাওয়ার কষ্টের চাইতেও,
অধিক কষ্ট হয়েছিলো, যখন বাবা তোমার সৃতি সম্বলিত ডাইরী পুড়িয়ে ছিলেন!
প্রতিটি বাবার মতো তিনিও অপদার্থ বলে ভৎসনা করলেন!
কিন্তু একবারও অপদার্থের চোখ দেখলেন না!
দেখলে হয়তো দেখতে পেতেন- চোখ দুটি কি চায়!
মেঘহীন আকাশে উড়তে চায় ঘুড়ির মতো....!
তোমার আকাশে বিচরন করতে চায়...!
মুক্ত মন চায়, ভালবাসা পেতে চায়, ভালবাসতে চায়....!!

ডাইরী জ্বলবার সাথে সাথে তুমিও ছেড়ে চলে গেলো-
বিশ্বাস করুন, অনেক আটকানো চেষ্টা করছি,
আমি আটকাতে পারিনি...!

ভেবেছিলাম ঘুমের বড়ি খাবো-সাহস হয়নি!
ভেবেছিলাম ফাসি নিবো মোয়ের মূখ সামনে চলে আসলো;
ভেবেছিলাম বিষ খাবো কিন্ত জীবনের সমীকরন মিলাতে পারিনি....!

পরেদিন সকালে বাবা ডেকে বললেন-
তুই আমার ছেলে না; ঘর থেকে বেড়িয়ে যা, আর মনে রাখিস তুই আজ থেকে মৃত...!!

বিশ্বাস করুন,
আমার মাত্র দুটা ময়লা জিন্স,
রং যাওয়া চারটে শার্ট, মাধরীর ছেড়ে যাওয়া;
আর দেশের বাইরে পড়তে না পারার ব্যর্থতা, যতটুকু কষ্ট দিতে পারেনি,
তার চেয়েও অধিক কষ্ট বাবা আমাকে দিয়েছিলেন।

পরিবারে গর্দভ এই অপদার্থ ছেলেকে-
প্রেমিক হিসাবে মেনে না নিতে পেরে....!

বাবারা কখনো চায় না তার ছেলে প্রেমিক হোক!
শব্দের পাহাড়ে হাতুরি চালিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করুক হৃৎপিন্ড...!

আজ থেকে কয়েক শতাব্দী পর,
কোন একদিন হয়তো বাবা আমার এই ডায়রী টা হাতে নিয়ে,
৩২, ৫৩, ১০৭ কিংবা ২৫৫ নম্বর পৃষ্ঠাগুলি ভিজিয়ে দিবেন চোখের জলে....!
সেদিন সেই ভেজা পৃষ্ঠাগুলি বুকে নিয়ে আমিও চোখ বুজবো।

আচ্ছা? কবে বাবা হাত রাখবেন আমার পিঠে....?
কবে সেই হাত আমাকে আবার বুকে টেনে নিবে....?
জানি না......!!

প্রেম মানুষকে যা দেয় তার চাইতে অধিক কেড়ে নেয়,
দুমড়ে মুচড়ে নিংড়ে নিয়ে নেয়......!

আমার এখন আর কোন ছাদ নেই, মাথার উপর আকাশ নেই।
পকেটে টাকা নেই, পরিবার নেই, প্রেমিকা নেই।
শুধু আছে এক জগত দারিদ্র্যতা, স্বপ্ন আর এক রাজ্যের ক্ষুধা.....!

আমি চাইলেই মাতাল হতে পারতাম,
লম্পট হতে পারতাম, ঘুষখোর অফিসার কিংবা টেররিস্ট হতে পারতাম!
কিন্তু তা না হয়ে আমি শুধু প্রেমিক হতে চাইছিলাম।

১৫ টাকার রং চা আর গোল্ডলিফ নিয়ে মনের ক্ষুধা মিটাতে মিটাতে নিজেকে বললাম-
“জীবন কোন পরীক্ষা নয়, মাই লাভ, তুমিও একদিন ইতিহাস হবে”
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০৭
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মানবতা, সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে জাতীয় কবি নজরুলের চিরন্তন আহ্বান

লিখেছেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০৪

বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম এমন এক বিরল ব্যক্তিত্ব, যিনি একই সঙ্গে কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংগীতজ্ঞ, দার্শনিক ও সমাজসংস্কারক। তাঁকে শুধু “বিদ্রোহী কবি” বললে তাঁর পরিচয় সম্পূর্ণ হয় না;... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth- তবে কি আমরা মহাবিশ্বের ভৃত্য?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

Humans are not from Earth: A Scientific Evaluation of the Evidence বইটির লেখক ডক্টর এলিস সিলভার (Dr. Ellis Silver)-এর ব্যক্তিগত ও একাডেমিক জীবন নিয়ে মূলধারার তথ্যমাধ্যমে এক ধরনের রহস্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:০১


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/30393976|প্রথম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:০৩



আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

২০১০, এক-এগারোর পর থেকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত- যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে দাঁড়িয়েছিল, যারা গুম, নির্যাতন, কারাবাস, মামলা, চাকরি হারানো, পরিবার ভেঙে যাওয়া- সবকিছুর মূল্য দিয়েছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×