somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুক্তি...

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৫:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


''পৃথিবীতে কাউকেই ছোট করতে নেই। যে যার যার কপাল নিয়ে আসে এ পৃথিবীতে। অভিযোগ অনুযোগ এসব চলে একমাএ নিজের মা আর সৃষ্টিকতর্ারই কাছে । অন্যের কাছে তা জানাতে গেলে নিজেকেই ছোট করা হয় । কি দরকার.........! ''


আমাকে বলা হয়েছে, আমার লেখায় যুক্তি কম সেই তুলনায় অন্ধবিশ্বাস আর আবেগ অনেক বেশি । ঠিক আছে আমি মেনে নিলাম । আমি ধরে নিচ্ছি যারা এ ধরণের কথা লিখেছেন, তারা আবেগ বা অন্ধ বিশ্বাসে বিশ্বাসী নন । তারা নিজের ঐতিহ্য বা সংস্কৃতিকে সম্মান করতে যানেন । যা বলেন যুক্তি দিয়েই বলেন । অথর্াৎ আপনারা যুক্তিবাদী । সেই সাথে অন্ধ অনূকরণ করতেও তাদের ভালো লাগে । যাই হোক, দেখি যুক্তি দিয়ে কিছু লেখা যায় কিনা । হয়তো আপনাদের মত এতটা যুক্তি দেখাবার মত কৌশল আমার জানা নেই, কিন্তু চেষ্টা করতে দোষ কি???

বিয়ে থেকেই শুরু করা যাক । বাঙ্গালীর ঐতিহ্য আর রীতিনীতির অনেকটাই তাদের বিয়েতে ফুটে ওঠে । তো নিজেদের বাঙ্গালীত্ব নিয়ে অনেকেই তো অনেক কিছু বলেছেন । তবে কেন আজ ও আপনাদেরই মত সমাজ সচেতন, সম্মানিত বাঙ্গালীরা তাদের বিয়ের কার্ড বাংলায় ছাপাতে এত লজ্জাবোধ করে? এরকম তো ভুরিভুরি দেখা যায় যে নিজের বা ছেলে মেয়ের বিয়ের কার্ড বাংলায় ছাপালে নিজেদের প্রেস্টিজ থাকে না বলে মনে করা হয় । তাই নিজের মাতৃভাষা বাংলাকেই অবজ্ঞা করে ইংরেজীকে প্রাধান্য দেয়া হয় ( প্রেষ্টিজ বাড়ানোর উপায়) এবং বাঙ্গালীর বিয়েতে বাংলাকেই অবহেলা ! বাংলা ভাষার অপমানতো বাঙ্গালীদেরই অপমান । তো এটা কি আপনাদের মত বাঙ্গালীদের দ্্বারাই কৃত হচ্ছে না? এটা কি বাঙ্গালীদের বাঙ্গালীত্বকে খুব সম্মানিত করছে???

তারপর বলা হয়েছে, গায়ে হলুদ বাঙ্গালীর প্রচলিত জনপ্রিয় সংস্কৃতি এবং সবাই এটা খুব উপভোগ করেন । সবাই তাদের প্রিয় এ অনুষ্ঠানে বাঙ্গালী সাজে (?) সজ্জিত হয়ে অনেক মজা করেন । তো গায়ে হলুদের রমরমা অনুষ্ঠানে যখন ধুমধারাক্কা কোন হিন্দী বা ইংরেজী গান ছেড়ে হৈ-চৈ, চিৎকার, চ্যাচামিচি করা হয়, তখন সেই হিন্দী বা ইংরেজী গানগুলো কি বাঙ্গালীত্বকে সমৃদ্ধশালী করার জন্যই ব্যবহার করা হয়?এটা কি বাঙ্গালীর সংস্কৃতিকে অপমান করা নয়? অনেকটা এরকম ডেকে এনে লজ্জা দেয়া । নাকি নিজে বাঙ্গালী এটা বোঝাতে গিয়েএকই সাথে বাঙ্গালী অনুষ্ঠান পালন এবং সেই সাথে বাঙ্গালীত্বকেই অপমান? বাঙ্গালীর গায়ে হলুদই যদি করবেন তবে বাংলা গান ব্যবহার করতে সমস্যা কোথায়? তো আপনাদের মত যারা এধরণের কাজ করছেন তারা কি এটা ভেবেই এসব করছেন যে বাঙ্গালীর বৈশিষ্টও বজায় থাকলো আবার সেই সাথে অন্যের সংস্কৃতিকেও নিজের মাঝে নিয়ে আসা হলো । এটা কি আরো বেশি গ্লাণিকর নয়? আরো বেশি লজ্জার নয়? যদি নাই পারেন নিজের ঐতিহ্য বা সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে পালন করতে তবে কে বলেছে অযথা তা নিয়ে এত বাড়াবাড়ি করতে? আমার তো ধারণাএখানে যারা এত গর্ব নিয়ে নিজেকে বাঙ্গালী প্রমাণ করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন, তারা অনেকেই নিজের অথবা আত্মীয়দের বিয়েতে ধুমধারাক্কা স্টেজ শো করেন, কোন শিল্পীকে ধরে আনেন ( যে বাংলার চেয়ে হিন্দী গান ভালো গাইতে পারে! )এবং জনপ্রিয় হিন্দী বা ইংরেজী গানগুলো গাইয়ে নিজেদেরকে হাই সোসাইটির মানুষ হিসেবে প্রমাণ করতে যান । এটা কি বাঙ্গালী জাতিকে সমৃদ্ধশালী করার জন্য নাকি তাদেরকে অপমান করার জন্য?

বছরে দু'একদিন ইলিশ- পান্তা খেয়ে বা খাইয়ে, ধূতি পানজাবী পড়েই যদি বাঙ্গালীত্বকে ধরে রাখা যায়, তবে রাখুন না । কে মানা করেছে? যারা সত্যিই বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ভালোবাসে তারা কখনোই একটি-দুটি দিনের মাঝে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখবে না এবং বাঙ্গালীত্বকে ধরে রাখার জন্য অন্যের সংস্কৃতির কাছে হাত পাতবে না । অন্যের অন্ধঅনূকরণ না করে বরং চেষ্টা করবে বহু বছরের ঐতিহ্যের যদি কোন ভল থাকে তবে তা শুধরে নিয়ে তাকে নিজের মাঝে লালন করতে । অন্যের কাছ থেকে ধার করে না এনে নিজের বুদ্ধি ও বিবেচনাবোধ দিয়ে চেষ্টা করবে নিজের জাতিকে সমৃদ্ধশালী করতে, শত বছরের হারানো ঐতিহ্যকে আবার ফিরিয়ে আনতে । কেননা অন্যের অনূকরণ করতে করতে একসময় ঠিকই আপনাকে তার ঝাঁটা পেটা খেতে হবে । তার চাইতে নিজেদেরকে আগে থেকেই সচেতন করে গড়ে তোলা ভালো নয়?

নিজের যা আছে তা অস্বীকার করতে চাওয়া মূর্খতা । আমি জানি বাঙ্গালীরা অনূকরণ করতে ভালোবাসে । কিন্তু আমরা কেন তা করতে যাব? আমরা তো কারো চেয়ে কম নই । তবে কেন ধার করতে হয়?

মনের দরজাটা সব সময় বন্ধ করে রাখলে তাতে আলো বাতাস ঢুকবে কেমন করে? নিজের যা আছে তাকে আরো সমৃদ্ধশালী করার ইচ্ছে যদি কারো না থাকে, তবে জাতির উন্নতি নিশ্চয়ই অন্ন কেউ এসে ঘটাবে না । অন্যের অন্ধঅনূকরণ করেই, কোন কিছু বিবেচনা না করেই যদি নিজের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে সব্র্বোচ্চ চূড়াঁয় পৌঁছানো যেত তবে তো ভালোই হতো । চেষ্টা করে দেখুন, আপনাদের মত বাঙ্গালীদের দ্্বারা হয়তো সবই সম্ভব ।।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৫:০৬
২২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে হেরে যাচ্ছি ০২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪


কাহিনীটা ৯০ এর দশকের শুরুতে। বুশ তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট- মার্কিনিদের আগ্রাসন চলছে তখন ইরাক জুড়ে। হাটে মাঠে ঘাটে আড্ডায় গল্প আলোচনা মিডিয়ায় এমনকি বাসর ঘরেও তখন নব পরিণীতার সাথে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটা ছিলো সোনার কণ‍্যা, মেঘ বরন কেশ!!!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ ভোর ৬:১৩



শাওন প্রশ্ন করেছিলে ৭৮ বছর বয়স্ক একজন মহিলার। অন্তর্বাস উচিয়ে যখন অন্তর্জালে দাঁত মুখ খিচিয়ে উল্লসিত বহু পোস্টে ভেসে যায় ।কিংবা দেয়ালে সরাসরি দি লিখে প্রচার করছিলো তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘ছুটি’র স্মৃতি

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০

(প্রায় দু’মাস আগে লেখা। তখন গ্রীষ্মকাল হলেও ঢাকায় কয়েকদিন পরপর বৃষ্টি হতো। এখনকার মত “ঘাম ঝরে দরদর” ধরণের গরম ছিল না। রাতগুলো তুলনামূলকভাবে বেশ ঠাণ্ডা থাকতো।)

আজ খুব ভোরে (শেষরাতে)... ...বাকিটুকু পড়ুন

×