somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাজেকের প্রথম রাতটা

২৪ শে অক্টোবর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রায় ২ বছর পর সাজেক বেড়াতে গেলাম, ১৪ঘন্টার মারাত্মক জার্নি শেষে পৌছালাম সাজেকে। চাঁদের গাড়ি নামক বস্তুটা যে কি পরিমাণের ভয়াবহ তা বলে বোঝানো যাবেনা। আমিও লিখে বোঝাতে পারবো না। ওখানে যাওয়ার সময় একজনকে বাদে আর কাউকে চিনতাম না, আর যিনি আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তিনি মনে হয় আমার উপর পূর্ণ আস্থা রাখেন, যে, যেকোনো পরিস্থিতিতে আমার নিজেকে মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা আছে। এই বিষয়ে আমার নিজেরও অতটা আস্থা নাই।
যাই হোক ভিড়ে গেলাম আটজন অজানা মানুষের সাথে। টুকটাক হাসি, কথাবার্তায় পথ পাড়ি দিয়ে সাজেক। ২ বছর আগে লংগদুতে এসে সাজেক যাওয়ার কথা উঠেছিল কিন্তু রাস্তা ভালো না হওয়ায় যাওয়া হয়নি। আর এই ২ বছরে অনেককিছুই পাল্টে গেছে। নিজেকে মেইনস্ট্রিমের নায়িকা ভেবে যে জীবনের স্বপ্ন দেখছিলাম, মুহুর্তেই বুঝে গেলাম আমি আসলে পার্শ্ব চরিত্রতেই ছিলাম ও আছি...এটা প্রকৃতির একটা মজার খেলা আমার সাথে। এখন বুঝে গেছি আমার লিড্ ক্যারেক্টারে আর অভিনয় করা হবেনা। এটা অবশ্য আরেকটা গল্প, সাজেকে ফিরে যাই। ওহ্ আরেকটা কথা আমি কখনোই আমার কোনো লেখা পাব্লিশ করিনি এটাই প্রথম, সবার লেখা পড়ার জন্য একাউন্ট খুলতাম।
সাজেকে গিয়েই মোবাইল চার্জে দেয়ার জন্য সবাই অস্থির হয়ে গেল। আমিও বাদ যাই কেন!! কারন ছবি তোলার জন্য মোবাইলটাই ভরসা। কিছুক্ষণ পরে ঢুকলাম গোসলে। সারাদিনের ধকল আর ক্লান্তি মগের পর মগ পানি ঢেলে দুর করার চেস্টা চালালাম। বের হয়ে দেখলাম খিধায় গাছের পাতাও খেয়ে নিতে সমস্যা নাই, যাই হোক ভাত আর মুরগীর মাংস এমন অমৃত আর কোনদিন লাগেনি। এরপর চোখের পাতা আর খুলে রাখতে পারিনি। সবাইকে বললাম সম্ভব না, কিছুক্ষনের জন্যে হলেও কোমায় যেতে হবে। এই সৌন্দর্য পরে উপভোগ করবো।
ঘুমের রাজ্যে এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়িয়ে, উঠে দেখলাম অচেনা জায়গায় শুয়ে আছি, বাইরে ঘুটঘুটে অন্ধকারের ঠিক আগের অবস্থা। ছোট জানালাটা দিয়ে বাইরেটা দেখলাম, অন্ধকার হতে আর কিছুমুহূর্ত মাত্র। কটেজের রুম থেকে বের হয়ে বাইরে আসলাম, রাস্তার অপর পাশের চায়ের দোকানে সঙ্গীরা বসে, দেখেই চিৎকার দিলো যে আমি সন্ধ্যাটা মিস্ করলাম। আমিও একটা লাজুক হাসি দিলাম, অন্যায় হয়ে গেছে এরকম একটা ভাব নিয়ে চা খেতে বসে গেলাম।
এরপর কিছুক্ষন রাস্তায় এদিক সেদিক ঘোরাঘুরি আর আকাশের তারা দেখা। বেশ কিছু তারা খসে পড়তেও দেখলাম, অন্যসময় হলে কিছু চেয়ে বসতাম, এখন আর চাওয়ার কিছু নাই তাই উপভোগ করাটাই ভালো। যেহেতু কাউকে চিনিনা তাই কথা কমই বলছিলাম, এমনিতে কথা আমি একটু বেশিই বলি।
কিছুক্ষনের মধ্যে আমরা সবাই কটেজের বারান্দায় অবস্থান নিলাম, মেঘের আড়ালে ঢাকা চাঁদটা বের হওয়ার জন্য অস্থির হয়ে আছে। কটেজের লাইটগুলো নেভানোর জন্য বললাম। অস্থির একটা সময়, চাঁদটা না বের হওয়া পর্যন্ত কিছুই করা যাচ্ছেনা, পা যেন বারান্দার কাঠের মেঝেতে আটকে গেছে। একদমই হঠাৎ করে চাঁদটা মেঘের আড়াল থেকে পিছলে মুক্ত হয়ে গেল, পাশের মেয়েটি ফটাফট ছবি তুলতে লাগলো। আমারও কেমন উত্তেজনাটা টুপ করে কমে গেল। আমরা পূর্ণিমার তৃতীয়দিন টা পেয়েছিলাম সেদিন। এরপর নেশার বস্তুগুলো তৈরি হতে থাকলো, ট্যুরে আসলে হালকা টালমাটাল না হলে ঠিক জমে না। আর টালমাটাল অবস্থাতেই একেঅপরের সাথে ভালভাবে মিশে যাওয়া যায়।
লোকাল চুয়ানি আর গাঁজার স্টিক গুলো ওইসময় একএক হাত ঘোরা শুরু হলো। ব্যাস্ আরকি, সামনে বিশাল চাঁদ আর জ্যোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছিলাম। গান, কবিতার পারদর্শীরা নিজেদের পারদর্শীতা দেখাচ্ছে। এর মধ্যে আমার পাশের জনের বুকের ভেতর জমা হওয়া সব কষ্টগুলো আর্তনাদ হয়ে ঝরে পড়ছিলো, ওর মাথায় হাত রাখলাম, হঠাৎ মনে হলো ও একটু নিজের মতো থাকুক, তাই হাতটা সরিয়ে নিলাম।
আমারও মনে হচ্ছিলো একটু কাঁদতে পারলে খারাপ হয়না, কিন্তু আসলো না, শুধু বিরাট এক দীর্ঘশ্ব্াস ছেড়ে গান গাওয়া শুরু করলাম, -কথার উপর কেবল কথা সিলিং ছুঁতে চায়/ নিজের মুখের আয়না-আদল লাগছে অসহায়/ তুমি অন্য কারো ছন্দে বেঁধো গান...... অরিন কে ধন্যবাদ ছবিটির জন্য

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে অক্টোবর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:০১
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একান্ত ভাবনা

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪০

একবার রিয়েক্টর ফিজিক্স ক্লাসে আমাদের একজন শিক্ষক বলেছিলেন, "এই দেশে আসলে সবাই সবার সঙ্গে বাটপারি করে।" কথাটা শুনে প্রথমে একটু অবাক হয়েছিলাম। কিন্তু যতদিন গেছে, চারপাশটা যতটুকু দেখেছি, ততই মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×