আমার ছিল বসবাস
চারিদিকে পাখিরদের উচ্ছ্বাস ;
কাছে দূরে মন জুড়ানো শিশির সিক্ত ঘাস
ঝিলের জলে ভেসে যেত রাজহংসী পাতিহাঁস ।
আমার এখন হাঁসফাঁস
বন্ধ হয়ে আসে নিঃশ্বাস
নেই খোলা বাতাসের আকাশ
আকাশ ছোঁয়া ইমারতে
মরে গেছে আকাশে উড়ার স্বাধ ।
এখানে বসন্ত বাতাসে ভাসে না
মুকুলের ঘ্রাণ
হাওড় ভাসিয়ে উঠে না পূর্ণ চাঁদ
বাজে না বাঁশি ,
উচাটন মন বন্দি বাতায়ন।
টলমল জলে ভাসে না নৌকা
শুনি না মাঝি গান ।
মন ফিরে যায় সেথা
বসন্ত আগমনে গাছেতে আদুরে পাতা
উঠোনে মাদুর পাতা
গোল হয়ে মুখোমুখি বসে
মা-চাচীদের কথকতা
জীবনের সুখ দুঃখ গাঁথা ।
পুকুর পাড়ে হিজল বকুল
বনফুলে অলিদের আসা যাওয়া
এখন আর দেখিনা বৃক্ষে সবুজ পাতা
দেখি না সর্ষে ফুলে ভোমরার মাদকতা ।
মনে আসে সেই বাঁশির টানে আমি বনলতা
নদীর চরে কেটে গেছে সেই দুরন্ত ছেলা বেলা ।
আজ-কাল আমি ব্যস্ত ভীষণ
২৫ হয়েছি শহর বাসি
ইট পাথরের কংক্রিটে
বন্দি খাঁচার পাখি ।
তবু ও আমি অবোধ
গ্রাম্য রয়ে গেছি ।
তাই আজি নস্টালজিয়ায় ভুগি ;
নির্জনে তাই একলা বসে ভাবি ,
সোনার শৈশব ফিরে পাবার
আছে কি কোনো পদ্ধতি ?
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



