
হেমন্ত যেন
এক সোনালী ডানার কবিতা
মায়ের মুখখানি ভেসে ওঠা
মিঠে সুরের ডাক আয়
তোর জন্য ধনেপাতা কাঁচামরিচ
মিশেল করে ছোটমাছের ঝোল রেঁধেছি ।
হেমন্ত যেন মাঠের ডাক
ছড়ানো সবুজ ধনেপাতা
হলুদ সর্ষে ফুলের কাঁচা কাঁচা ঘ্রাণ
হৃদয় পাগল করা ।
টলমল শিশির সোনারোদে বসে
সবুজ গালিচা বিছিয়ে লিখে চিঠি ;
ছুঁয়ে দিবি বলে চেয়ে আছি পথে ।
হেমন্ত যেন দুষ্ট ছেলের দল
ডাকে চুপিসারে -
ক্ষেতের আলে ঘাসের বুকে
গড়িয়ে আসি সোনারোদে
পায়ে পায়ে তৃণলতায় ভাব করেছি
আয় জড়িয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে ভালবাসি ।
পদ্ম ফুলে শিশির ফোঁটায়
মনের গহন ভিজিয়ে আসি
ভ্রমর-ফুলের প্রেম জড়ানো
মধুর হাসি দেখে হাসি ।
হৈমন্তী-আকাশ প্রাণের আগল
খুলে দিয়ে হাসে মধুর হাসি ।
সোনার ফসল ঘরে তোলে
রিক্ত চাষি সিক্ত হয়ে
হাসেন দিবানিশি ।

হেমন্ত যেন
গোধূলি-লগ্নে আগামী ঊষার
মৃন্ময়ী প্রতিশ্রুতি
যেন সাঁঝবেলার মায়াবী পরশ
কুয়াশার আবছায়া আলিঙ্গন
উদিত সূর্যের উর্বশী সুখ
যেন অনন্ত সুখের ভাড়ার ।
সবুজের বন্যায় ভেসে আসা
পাখিদের ডানামেলা ঘ্রাণ ।
হেমন্ত যেন
শেষ বরষার টলমল নদীর পানি
রুপালী প্রাণের ঢেউ
সূর্যের সুখের আরশি,
যেন ঝিলিমিলি রূপের পালকি
কূলে কূলে ধবল বকের উড়াউড়ি
কী অপরূপ রূপ লাবণী
বাঁশঝাড়ে নাচে আলোর জোনাকি !
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



