১।
সোহানের চাকরি হয়েছে মাত্র দু’,মাস আগে। ওর সকল সহকর্মীর সাথে একটা আন্তরিক সম্পর্ক তখনও গড়ে ওঠেনি। আগামীকাল ওর বসের জন্মদিন। প্রতিবছরই তিনি এ অনুষ্ঠানটি পালন করেন বেশ ঘটা করেই। তবে এটা একটু ব্যতিক্রমি ভাবে। তা হলো – তিনি কোন অতিথির কাছ থেকে কোন উপহার গ্রহন করেন না বরং সামান্য কিছু হলেও অতিথিদের হাতে তুলে দিতে চেষ্টা করেন, যা সোহানের অজানা ছিল।
নির্দিষ্ট দিনে তাই তার বসের জন্য তার পছন্দ মত একটা উপহার কিনে নিয়ে দরজার সামনে হাজির হল। দরজায় পা রাখতেই তার চোখে পড়লো একজন বয়স্ক লোক একটা চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছেন। তার চেহারায় নিখাদ একটা ভদ্রতার ছাপ স্পষ্ট। দরজায় ঢুকেই তিনি সোহান কে বললেন-
বাবা, তুমি বুঝি নতুন এসেছ- না?
সোহান বুঝতে পারলো না এত লোকের মধ্যে তাকে নতুন বলে কীভাবে শনাক্ত করলেন। তাকে ভাবতে দেখে ভদ্রলোক বললেন-
তোমার হাতের ব্যাগটাই প্রমান করে যে তুমি এ বাড়ীতে নতুন এসেছ। তুমি হয়ত জানোনা যে, আজ তুমি যার জন্মদিন উপলক্ষে এসেছ তিনি কারো কাছ থেকে কোনো উপহার নেন না। তুমি ওটা কোথাও রেখে এসো অথবা যাবার সময় নিয়ে যেও।
ভদ্রলোকের কথা মত সে রাস্তার পাশে এক দোকানে ব্যাগটা রেখে এলো।
যথারীতি অনুষ্ঠান শেষে শুরু হল সৌজন্যমূলক উপহার বিতরণী পর্ব। যার মধ্যে ছিল কলম, প্যাড, চিরুনি, তসবিহ ইত্যাদি। সোহানের হাতে যেই প্যাকেট টি পড়লো সেটা বেশ বড় একটা কিছু বলে মনে হল। যে মেয়েটি উপহার গুলো বিতরন করছিল সোহান তার দিকে একবার তাকিয়েই চোখ ফিরিয়ে নিল এবং ভাবতে লাগলো ওর নিজের হাতের প্যাকেট টার কথা। ওকে ভাবতে দেখে তার পাশের একজন বললেন, ‘ভাববেন না। আপনি নতুন মেহমান বলেই আপনার জন্য স্পেশাল গিফট।’ সোহান কিছুটা যেন স্বস্তি পেল। অনুষ্ঠান শেষে সবাই চলে গেল যার যার আপন ঠিকানায়। বাড়ী গিয়ে সোহান ব্যস্ত হয়ে পড়লো; লাবন্যময় এক কিশোরীর নিজ হাতে তুলে দেয়া উপহারের প্যাকেটটা খুলে দেখার জন্য।
(চলবে...)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



