কী হতে পারে এটা?
তার এই অদম্য কৌতূহল নিবৃত্ত করতে না পেরে সে প্যাকেটটা খুলতেই দেখে একটা সুন্দর অ্যালবাম। সে অ্যালবাম এর পাতা উল্টাতেই যে দৃশ্য দেখতে পেলো তাতে তার সমস্ত অনুভূতি যেন থমকে দাঁড়াল।
সে ঘামতে শুরু করল। কিছুক্ষনের জন্য তার চোখের সামনে সবই কেমন অন্ধকার-অন্ধকার বলে মনে হল। সে এক হাতে চোখ ঘষতে ঘষতে পাশ ফিরে শুতেই তার হাতে থেকে অ্যালবামটা মাটিতে পরে গেলো। ইস, ভাগ্যটাই মন্দ!-বলতে বলতে অ্যালবামটা তুলতে গেলো সোহান। কিন্তু কোথায় অ্যালবাম? সে দু হাতে দুতো জুতা আঁকড়ে ধরে আছে। সোহানের স্বপ্ন ভাঙ্গানোর জন্য ভোরের সূর্য জানালার ফাঁক দিয়ে কড়া নজরে ওর দিকে তাকিয়ে আছে।
চরম অস্বস্তি নিয়ে ঘুম থেকে উঠল সোহান। গোসল, খাওয়া-দাওয়া শেষে রওনা হল অফিসের দিকে। কিছুদুর যেতেই রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটা মেয়েকে দেখতে পায় সোহান, বার বার হাত তুলছিল মেয়েটা। সম্ভবত রিক্সা ডাকছে। কিন্তু রিক্সা চলে যাচ্ছে একের পর এক।
ততক্ষনে সোহান মেয়েটির কাছে চলে এসেছে। সে পিছন দিক থেকে সহানুভূতির সুরে বলল- , “ম্যডাম, আমি কি রিক্সা ডেকে সাহায্য করতে পারি?” সাথে সাথে মেয়েটি পিছন দিক ফিরে তাকাতেই সোহান চমকে ওঠে। সে ভুলে গেলো রিক্সা ডাকার কথা। সে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল মেয়েটির মুখের দিকে। আর ভাবতে লাগলো, এ মুখ তো সেই মুখ, যে মুখটি অ্যালবাম এর পাতার আড়ালে আমার জন্য নীরবে প্রতিক্ষা করছিলো। এ কী করে সম্ভব! আমার স্বপ্নের বুকে এমন ঝলমলে বাস্তবতা কে তুমি কেমন করে লুকিয়ে রেখেছিলে?
সে আর ভাবতে পারেনা।
সেই মুহূর্তে মেয়েটি বলে উঠলো- প্লিজ দিন না একটা রিক্সা ডেকে।
(শেষ...)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



