

বর্তমানের আদালতের রায় বাস্তবায়নের নামে, আদালতের রায়ের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে নদীর দুই পাড়ে যে ওয়াকওয়ে নির্মান ও সীমানা পিলার নির্মান করা হচ্ছে তা বুড়িগঙ্গার দুই পাড়ের অবৈধ দখলদারদের বৈধতাই দিবে। পাশাপাশি বুড়িগঙ্গা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে দুই পাড়ে বিস্তৃণ সবুজের সমারহ থেকে। এই বিচ্ছিন্ন হওয়া যতটা না বুড়িগঙ্গার জন্য দুসংবাদ তারচেয়ে বেশি খারাপ সংবাদ ঢাকাবাসীর জন্য। বুড়িগঙ্গার ইতি নামেই ঢাকা নামক একটি নগর সভ্যতা ইতিহাসের বইয়ের পাতায় স্থান পাওয়ার পথে চরম ধাপে এগিয়ে যাওয়া।
বুড়িগঙ্গা রক্ষায় কার দায়িত্ব ?
এই প্রশ্নের উত্তরে কোন কর্তৃপক্ষ আছে বলে মনে করার কোন কারণ নেই। কোন কর্তৃপক্ষই দায় নিতে রাজী নয়। তবে সবাই মাখন খায়। যেমন দখলদাররা যখন বালু ভর্তি বড় বড় নৌকা দিয়ে নদী ভরাট করছে তাতে যে রশিদ আদায় হচ্ছে তা বিআইডাব্লিউটি’র নাম খচিত রশিদ। পুলিশ আছে নদীর মাঝে ভাসমান থানা নিয়ে প্রতিটি বালু ভর্তি নৌযান থেকে টাকা আদায় হয়। এই ভাসমান থানার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করার যৌক্তিকতা আমরা নগরিকরা হারিয়ে ফেলেছি বহুদিন হল।
পরিবেশ অধিদপ্তর আমি বুড়িগঙ্গার তীর বহু লাল কারখানার হিসেব দিতে পারি যারা কোনদিন পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতির তোয়াক্কা করেনি। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া কারখানাগুলো হল কি করে?
ভূমি অফিস এর নাম মুখে আনা পাপ।
জেলা প্রশাসকদের অফিসের কাজ ছিল সীমানা পিলার নিধারনের। কিন্তু মন্ত্রী এমপি আর স্থানীয় প্রভাবশালীদের ঠেলায় তারা নিজেরাই দিশা হারা। নদীর সীমানা যেখানে দিয়েছেন তা যদি জেলা প্রশাসক দেখেন বর্ষায়। তবে নিজেই লজ্জা পাবেন।
বুড়িগঙ্গা রক্ষায় নিয়োজিত কয়েক ডজন প্রতিষ্ঠানের কর্মকান্ড নিয়ে না লিখে। আইন প্রণেতাদের কথা বলি এবার জাতীয় সংসদে বর্তমান সংসদ সদস্য বেশ কয়েকজন দখলে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। তারা নদী দখলের মাধ্যমে নৈতিকতা কিংবা শপথ ভঙ্গ করেছেন কিনা এই প্রশ্ন করা সমীচীন হবে না। যদি প্রমাণ চায় তবে জনে জনে পৌছে দেয়া হবে।
এত সবের মাঝেও ভাল খবর বৈশাখে বুড়িগঙ্গার পানির মান উন্নতির পথে, ট্যানারী সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে নিচের ছবিগুলো আপনাকে আমার মত হতাশ করবে। বুড়িগঙ্গার তীর ঘেষে উঠা মন্ত্রীর চেলা এই হাউজিং কোম্পানী বেচে দিচ্ছে বুড়িগঙ্গা। আর আইন প্রণেতা তো বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নামে বুড়িগঙ্গা সবচেয়ে বড় শাখা নদীটি গিলে ফেললেন বিনা বাক্যে।
এতকিছুর পর রাষ্ট্রের আইনের প্রতি আস্থা হারানো যাবে না। পাশাপাশি আস্থার রাখতে হবে আল্লাহর গজবের উপর। একটা গজবই হয়ত পাল্টে দিতে পারে ঢাকার মানচিত্র। আইনের পাশাপাশি আমি আল্লাহর গজবের প্রতীক্ষায়।
সর্বশেষে বলি বুড়িগঙ্গা নিয়ে হতাশ হবার কিছু নেই। গজব কিংবা আইন এই দুইয়ে এক আমাদের জয় নিশ্চিত করবেই। কারণ প্রকৃতি সবসময় ভারসাম্য তৈরি করে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


