somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এশারের পরাবাস্তব জগৎ এ আপনাকে স্বাগতম।

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১২ ভোর ৬:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমার এক বন্ধু আছে যে মনে প্রানে বিশ্বাস করে এ জগতে নাকি বাস্তব অবাস্তব বলে কিছু নাই। স্থান কাল পাত্র ভেদে বাস্তব হতে পারে অবাস্তব। অবাস্তব হতে পারে বাস্তব। কি ওর কথা বিশ্বাস হয় না? আচ্ছা চলুন তা হলে ডাচ শিল্পী মরিটাস কনে’লিয়াস এশার চিত্রকমে'র জগৎ এ।

এশার এর জন্ম (১৭ জুন ১৮৯৮ – ২৭ মাচ’ ১৯৭২) নেদারল্যান্ড এর লিউনওয়াডে’ন এ। ছোটোবেলা থেকেই ছবির দিকে টান। ভতি' হন হালে'ম স্কুল আভ আকি’টেকচার অ্যান্ড ডেকোরেটিভ আট'স এ। পড়া শেষ করে ১৯২৩ থেকে ১৯৩৫ পয’ন্ত ইতালিতে থাকেন। ভীষন ভাবে অনুপ্রানিত হন ইতালীয় গ্রাম্য জীবন দ্বারা। ইতালী থেকে চলে যান সুইযারল্যান্ড, সেখানে কবছর কাটিয়ে চলে আসেন স্বদেশে। ওখানেই থাকেন আমৃত্যু।এই সময় বাস্তব জীবন থেকে ছবির ঊপাদান সংগ্রহের জোক চলে যায় এশার এর, শুরু হয় বল্গাহীন কল্পনা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পরাবাস্তব ছবি আকা। গনিত আর জ্যামিতি কাজে লাগিয়ে হয়ে ওঠেন পরাবাস্তব এর শিল্পী।

ছবির ফিগার আর গ্রাউন্ড সন্মধ্যে একটু জেনে নিন। যখন কোন কিছু আকা বা লেখা হয় তখন সেটা হয় ফিগার আর চারপাশের ফাকা জায়গা হয় গ্রাঊন্ড। সাধারনত আমরা গ্রাউন্ড নিয়ে ভাবি না ফিগারটাই দেখি।

কিন্ত এশার অসামান্য বৈশিষ্ট হল ফিগার আর গ্রাউন্ড এক করে ফেলা। এখানেই এশার শুধু এক নিপুন শিল্পী নন দক্ষ এক গানিতবিদ, দাশ’নিক এবং সবো’পরি অবাস্তব কে বাস্তব এ রুপ দেয়ার কাজে দক্ষ অদ্বিতীয় এক শিল্পী

চলুন দেখি এশার এর কিছু ছবি

ডে অ্যান্ড নাইট ১৯৩৮


উডকাটের এই ছবির দিকে তাকালে মনে হবে কেউ যেন উপর থেকে নীচের দিকে তাকিয়ে দেখছে, নীছে দেখা যাচ্ছে চাষের জমি, কিন্ত সেই জমি গুলো সাদা কালো অবিশ্বাস্য মিশেলে পরিনত হয়েছে সাদা কালো পাথি।

ফিশ অ্যান্ড ওয়েভ ১৯৬৩


জলের ঢেউ গুলো কি অবিশ্বাস্য নিপুনতায় কখনো সাদা আর কখনও কালো মাছ এ রুপান্তরিত হয়েছে

গ্যালারি ১৯৪৬



কাল্পনিক এক জগৎ এ ভারী আজব এক কাজ এই গ্যালারি। নিজেই দেখুন না।

রিলেটিভিটি ১৯৫৩

এই ছবি তিনটি ভিন্নপ্রেক্ষিতে আকা হয়। প্রেক্ষিত তিনটি ভাগ করার সহজ উপায় হল ছবির ষোলটি মানুষ কে তিন ভাগে ভাগ করা। সোজা হয়ে দাড়ানো মানুষ, বাঁদিকে হেলানো মানুষ, ডান দিকে হেলানো মানুষ। যেমন একদম নীচের সোজা দাঁড়ানো মানুষটির প্রেক্ষিতে ছবিটি বাস্তব জগৎ এর কিন্ত একটু সিড়ি ভেংগে উপরে উঠে গেলেই সে পৌছে যাচ্ছে অবাস্তব জগতে। খেয়াল করলে দেখা যাবে নীচের তিন শ্রেনীর জন্যই নিজের জগৎ সত্যি বাকী দুদলের জগত তার জন্য অবাস্তব। মন দিয়ে খেয়াল করুন।

ড্রাগন ১৯৫২

ড্রাগন শরীর এর শেষ কোথায়, শুরু কোথায়? চোখে দেখেও জবাব নেই।

ড্রইং হ্যান্ডস ১৯৪৮

দুটি হাত যারা একই সময় একে অন্যাকে আকছে। বলুনতো কে কাকে আকছে? আমি পারিনি বলতে।

ওয়াটার ফল ১৯৬১

একটু মন দিয়ে দেখলেই দেখা যাবে ঝরনার পানি মধ্যাকষ'ন কে উপেক্ষা করে নীচ থেকে ঊপরে উঠছে, আবার নামছে, উঠছে নামছে, উঠছে নামছে।

রেপ্টাইলস ১৯৪৩

দ্বিমাত্রিক ছবিকে কি ভাবে ত্রিমাত্রিক রুপান্তরিত করতে হয় এশার ভাল ভাবেই জানতেন। কি বন’না দিতে হবে এই ছবির, না দিলাম না। নিজেই ভাবুন না হয় আমার মত।

সিমেট্রি


দেবদুত না শয়তান দেখছেন

এশারের আরো ছবি দেখতে ইচ্ছে করে? আরে আপনার ইন্টারনেট আছে না? দিন না সাচ'। ওহহ এশারের ইংরেজী বানান টাই তো বলালম না। নিন লিখুন Maurits Cornelis Escher. এশারের পরাবাস্তব জগৎ এ আপনাকে স্বাগতম।
আচ্ছা ওয়েব সাইটাই দিয়ে দিলাম
http://www.tumblr.com/tagged/mc escher


বত'মান অবস্থানঃ দক্ষিন চীন সাগর
রিগঃ ENSCO-53

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৩:২৭
১৬টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সৌদি আরবে বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৫৮


দিন দিন সরকারপ্রধানের ফ্যান হয়ে যাচ্ছি। তাঁর চলাফেরা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশা দেখে মানুষ বলতে শুরু করেছে, এ যেন আরেক জিয়া। আর “I have a plan” কথাটার অর্থ এত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব রাজনীতি, ক্ষমতা ও অর্থনীতির কেন্দ্রে এখন ভারত

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১২


ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Dr S. Jaishankar কথা বলছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ অন্য বিশাল ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের মন্ত্রীরা একাগ্রচিত্তে শুনছেন।

হ্যাঁ, অস্বীকার করার উপায় নেই। বর্তমানে বিশ্বে ভারতের অবস্থান এমনই। সামরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

এইচ এস সি রেজাল্ট ২০২৬ -ঢাকা বোর্ড

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৯

খুব অদ্ভুত ব্যাপার। আমাদের সময়ে চলে এলো নাকি? সেই চার দশক আগের মতন !
যা তথ্য পেলামঃ

In the 2026 HSC examinations, a total of 297,621 candidates appeared... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×