যে আত্মজৈবনিক এবার সামু স্মরনিকায় পোষ্ট হয়েছে। আমি আসলে বুজিনি এত এত মানুষের লেখার মাঝে আমার লেখা যাবে। তবে কিভাবে কিভাবে যেন গেছে এটাই মুল ব্যাপার।

ভয়াবহ ব্যাপারই আমার কাছে। কোথাও কোন উদ্দেশ্য নিয়ে লিখতে গেলে আমার আঙ্গুল আর চলে না। নিজে হলাম এলেবেলে টাইপের কী বোর্ড টাইপিষ্ট। ব্লগার বলতে যা বোজায় তা আমি কোন কালেই ছিলাম না। নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা আছে। লিখতে না জানলে কি হবে পড়তে আমার কোন কালেই আগ্রহের ঘাটতি ছিল না। এই পড়ার কারনে এখান থেকে দু লাইন ওখান থেকে তিন লাইন যোগ করে কোন রকমে একটা জোড়াতালি দিয়ে ব্লগে পোষ্ট দেই। নিজের আনন্দেই দেই। কেউ যদি পড়ে কৃতজ্ঞ থাকি।
সামহোয়্যারইন ব্লগে এভাবেই চলে আসছিলো। ইচ্ছামত যা পেতাম যখন যেখান থেকে যা ভালো লাগত কয়েক জায়গা থেকে ধার কর্জ করে নিজের মন মত কিছু যোগ বিয়োগ করে পোষ্ট দিয়েই খালাস হতাম। ভয়ে ভয়ে থাকতাম যত কম মানুষ লেখা পড়বে তত কম মনোযোগ পাব। এত সব জ্ঞানী গুনী লেখকদের মাঝে কে কোন খান দিয়ে কি বেমাক্কা প্রশ্ন করে বসে সেই ভয়েই মুলতঃ সিটিয়ে থাকি।
আমার লেখালেখির হাতে খড়ি আমার নানা বাড়ীতে। হয়ত এই সময় বললে এই জেনারেশানের কেউ বিশ্বাস করবে না, আমার আমার শিশু বয়সে গ্রামে আমার প্রথম যখন হাতেখড়ি হয়েছিল তখন আমরা শুকনো তালপাতার ওপর দশ পয়সা দামের কালি গুলিয়ে বাঁশের কঞ্চির মাথা কেটে ওই গুলানো কালিতে কঞ্চির মাথা চুবিয়ে শুকনো তালপাতার ফালির ওপর অ, আ, ই, ঈ লিখে যেতাম।
লেখালেখির উদ্ভব কোথা থেকে হয়েছিল সে নিয়া নানা মুনীর নানা মত। প্রাচীন লিপির একটা পাওয়া গেছে প্রাচীন শহর “উরুক” শহরে। বাইবেলে যাকে এরেক নামে অভিহিত করা হয়েছে, এই উরুক বা এরেক ছিল প্রাচীন সুমের এলাকার একটা শহর। ৫৪০০ বছর টাইগ্রীস এবং ইউফেট্রিস নদীর অববাহিকায় এই সুমেরুয় সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল। মেসোপটমিয়া বললে অনেকেরই পরিচিত লাগবে সুমেরীয় লিপি উদ্ভব হয়েছিল এই সভ্যতার বিকাশের তিনশত বছর পর মানে ৫১০০ বছর আগে।
আসলে কোথাও যদি প্ল্যান কইরা লিখতে বসি তাইলে আমি নার্ভাস হইয়া পরি, কি লিখতে কি লিখি নিজেই জানি না, যার কারনে কোন জায়গায় শুরু করছিলাম এক্কেরে চইলা গেছি সুমেরীয় সভ্যতায়। স্কুলে থাকতে আলাউদ্দিন স্যার কইছিলেন, “তুই একটা পাডা হবি বড় হইলে।” উনারা সত্য যুগের শিক্ষক ছিলেন ( আজ থেকে ৪২ বৎসর আগে)দূর্বাস মূনির মত, মুখ দিয়া যা কইতেন তাই হইত। পরওয়ারদিগারের আসীম করুনা আমার বুদ্ধিশুদ্ধি একটু পাডার মত হইলেও দেখতে আমি মানুষের মত মানে আমার ২ ডা শিং আর ৪ ডা পা হয় নাই। তাই পাডার মত এত মানুষের সামনে ২/৪ লাইন লেইক্কা যদি ৭০/৮০ টা ( ১০০ টার মধ্যে) ভুল করি কিছু মনে নেবেন না। মনে রাকবেন ওইডা স্যারগো বদমেজাজের জীবন্ত স্বাক্ষর।
ইচ্ছা আছিল হমু দ্রোনের শ্রেষ্ট শিষ্য একলব্যের মত, কিন্ত দ্রোনের পক্ষপাতিত্ব যে তৃতীয় পান্ডবের প্রতি, গুরু দক্ষিনা দিতে যাইয়া একলব্যর বুড়া আঙ্গুল দিতে হইল দ্রোনরে আর আমনেরা জানেন সব থেকে বড় ধর্নুবিদ হইল ওই ব্যাডা অর্জুন। আমার অবস্থা এট্টু ভিন্ন আঙ্গুল আমার কাডতে হয় নাই তয় দ্রোন আর বাশিষ্টর চাপে আমার অবস্থা খারাপ।
আলাউদ্দিন স্যার যখন কইছিলো বড় পাডা অমু খারাপ লাগে নাই হুনতে, কারন এই দেশে বড় পাডাগো চাহিদা আছে, আবার মিশ্র স্যার কইলেন বাবা জীবনে যাই হও অন্যায় করিস না মিশ্র স্যার ছিলেন সাক্ষাৎ ঋষি বশিষ্ট, তার কথাও ফেলনা না। তো কি হইল? যখন দেখলাম আমার কয়েক দোস্ত বড় নেতা হইয়া গেছে, পাডা হইয়াও আমার ও হইতে শখ লাগল, কিছু দুর যে যাই নাই তাও কমুনা কিন্ত সমস্যা হইল যখন আসল সময় আইল কিছু আকাম করতে হইব। বড় পাডা হিসাবে ব্যাপারটা সোজাই ছিল কিন্ত ওই মিশ্র স্যারের অভিশাপ এবার খাইট্টা গেল। “খারাপ কিছু করিস না”। পারলাম না কিছু হইতে। মানে না পারলাম ঘোড়া হইতে না পারলাম গাধা হইতে, তাইলে কি হইলাম? জানি না দু/চার লাইন লেইক্কা আলাউদ্দিন স্যারের অভিশাপ কাটাইয়া মানুষ হইতে পারুম কিনা তয় চেষ্টা তো থাকবে। একটা কথা কিন্ত মনে রাইখেন মিশ্র স্যারের অভিশাপে অন্যায় কিছু কিন্ত সজ্ঞানে করুমনা অজ্ঞানে কিছু করলে ক্ষমা ঘেন্না কইরা দিয়েন।
সেই খ্রীষ্টপূর্ব ৮০০০ অব্দে ছোট ছোট গ্রামের কৃষকরা ফসলের হিসাব রাখার জন্য পোড়ামাটির নিদর্শন রাখত, সেই আমলের নিদর্শনগুলোর আকৃতি ছিল সরল জ্যামিতিক, কিন্তু ধারগুলো ছিল সমতল, মুলত ওই সময় থেকেই আমার মত মানুষ যারা লেখালেখিকে মারাত্মক ভয় পায় তাদের অভিশপ্ত জীবন শুরু হল। ওইগুলো কৃষিজাত বস্তুকে বোজাত। এই জন্যই বোধ হয় আমাদের সময় স্কুলে পড়া না পারলে স্যারেরা বলত “হাল চইয়াও তো খাইতে পারবি না”। এরপর খ্রীষ্টপূর্ব ৪৪০০ অব্দে মাটির গোলাকার বস্তু দেখতে পাওয়া যায় যার ভেতর দড়ি ঢুকিয়ে গননার হিসাব রাখা যেত।
আসলে আমি ভয়াবহ নার্ভাস হয়ে গেছি, লেখালেখি সব ভুলে গেছিলাম। আবার কবে যেন কাল্পনিক ভালোবাসার সাথে দেখা হয়ে বাস্তবিক ভালোবাসায় পরে গেছি গোলাগাল ভোলাভালা ভাইটার, আবার লিখতে ইচ্ছা হল আসলে কি লিখব ভেবে পাচ্ছি না, সবে ভোলা জিলা স্কুল এ ক্লাশ ৪ ভর্তি হইছি, সময় ১৯৮০। ক্লাশের বংবাজ পোলা মিঠু কেন যেন আমরে সহ্য হইলনা ( মনে কয় এক পাডা আর এক পাডারে সহ্য হয় না)
সরাসরি আমরে জিগায় আমি কোন পাটি’ করি “আওয়ামীলীগ না বিএনপি?” বুজছিলাম আমার কপালে মাইর টানছে। নির্ধিদ্ধায় উত্তর দিলাম “কোনডা না।” মনে মনে ভাবলাম বাইচা গেছি। কিন্ত ওইডা ছিল “বাংলাদেশের রাজনৈতিক সিন্ড্রোম” হেই বয়সে কেমনে বুজি? “কোনডা করসনা ক্যা?” কইয়াই মিঠু তরাম কইরা আমারে থাপ্পড়। আমি কানতে কানতে বাসায়।
হেই সময় কেডা যেন আমারে কইল “সামহোয়্যার ইন” ব্লগ এর স্লোগান “WE NEVER FORGET, WE NEVER FORGIVE, WE WILL NEVER GIVE UP, WE NEVER SLEEP-----WE ARE SOMWIB (somewhereinblog)
হ ভাই ফরগেত ও করি নাই ফরগিভ করি নাই, হালারে ক্লাশ ৯ এ উইডা কইশা পিডাইছিলাম। ঘটনা কিন্ত হাছা। তাই কইছিলাম কি অহেতুক ঝৈ জামেলার দরকার কি WE NEVER FORGET, WE NEVER FORGIVE, WE WILL NEVER GIVE UP, WE NEVER SLEEP, WE ARE SOMWIB
দ্যাশটারে প্রানের মত ভালোবাসি, যেই এই দ্যাশ নিয়া ঝামেলা করবা, আমরা কিন্তু নিশ্চুপে সব দেইক্কা যাব, কখনো সহ্য করবো নিরুপায় হয়ে। কিন্তু কিছুই ফরগেত হবে না, কিছুই ফরগীভ হবে না। দেশের বিভিন্ন দুঃখ দুর্দশায় এই সামহোয়ার ইন ব্লগ বিভিন্ন সময় অবদান রাখছে, সেই শাহবাগ জমায়েত থেকে, রানা প্লাজা ধ্বসে পড়ায় উদ্ধার কার্যে সহ অনেক কিছুতে, আবার সময়ের মারপ্যাচে এই সামুকেও অনেক কিছু সইতে হয়েছে, কিন্তু অন্যায় করলে এই ব্লগাররা ক্ষমা কিন্তু করবে না।
আসলে একটা লেখা জমা দিতে হবে ম্যাগাজিনের জন্য। লিখতে বসছিলাম, লেখা আর হয়ে উঠল না। উঠবে কিভাবে ওই যে শুরুতে বলছিলাম আমি লিখতে জানি না। লেখা লেখির কম্ম আমারে দিয়া হবে না। কী বোর্ড টাইপ রাইটার দিয়ে যদি লেখক ব্লগার হওয়া যেত তবে ছাগল দিয়ে হালচাষ ও করা যেত। তবে শান্তির ব্যাপার এইটা যে আমার লেখা না থাকলে কিছু আসবে যাবে না। হলনা এবার ও লেখা দেয়া হল না।
খ্রীষ্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে চিত্রলিপির যুগ আসে, এই যুগেই প্রথম চিত্রের বদলে বিভিন্ন সরলরেখা দিয়ে তৈরী নানা ধরনের আকৃতি দেখা যায়। এই আকৃতিগুলোই লিপি বা সংখ্যার আদি রূপ। আমার এলেবেলে টাইপের লেখা দেখে কারো মেঝাজ গরম হলে সে আমার না ওই ৫০০০ বছর আগের পূর্ব পুরুষের আবিস্কারের ফল। না এই সব লেখা দেয়া যাবে। লেখা আর হল না। খুব ইচ্ছা ছিল সবার সাথে আমার লেখা যাক, কিন্তু হবার না, সবার সব ইচ্ছা পূরন হয় না। আমারও এটা না হয় না হল।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ২:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



