somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রান্তিক উপক্রমণিকা

০১ লা মে, ২০১১ রাত ১০:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিছু কথা ! যাকে ভাষায় প্রকাশ করাটা একটু দুরুহ । তবুও লিখতে কিংবা বলতে ইচ্ছা হয় তবে এর ফলাফল সবসময় ভাল হয় না । আজ খুব ইচ্ছে করছে আমার কিছু অসংগায়িত ভাবনার ভূমিকা বা উপক্রমণিকার উল্টো পিটে কি আছে বলার জন্য । তাই এই প্রবন্ধের নাম দিলাম প্রান্তিক উপক্রমনিকা। অপরাধ হলে অপারাধ দ্রষ্টার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি । ক্ষমা করো ।

কথায় বলে বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না । ইতিহাস বলে তা সত্যি । কিন্তু বই – পুস্তক –কিতাব এগুলো আসলে কি? কি এমন গোপন শক্তি লুকিয়ে আছে এর মাঝে -যার সংস্পর্শে মানুষ শিহরিত হয়, আনন্দিত হয় , বিস্মিত হয়, মনের অজান্তে অশ্রু ঝরে , অন্তরে কাঁপন উঠে, নিউরনে অনুরনন ঘটে , জ্ঞানে- গর্বে ভরে উঠে মন ও মনন !! এই খোলা প্রশ্নটা রইল সবার কাছে ।

আমি যখন বই পড়ি তখন মনে হয় এই বইয়ের যে কর্ণধার অর্থাৎ লেখক আমি তার সাথে কথা বলছি , তর্ক করছি, তথ্য এবং তত্ত্বের আদান প্রদান করছি । অর্থাৎ তার সাথে (আসলে তার দেহহীন আত্মা কিংবা মনের সাথে , যার একটা চমৎকার ক্ষমতা রয়েছে তাকে আমার সামনে কিংবা আমাকে তার সামনে নিয়ে যাওয়ার ) একটা গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠে ।তাই বইয়ের ফাঁক ফোকরে লিখে দেই আমার মনে জন্ম নেওয়া স্পষ্ট কিংবা অস্পষ্ট কথা গুলো ।

মাঝে মাঝে মনে হয় মানুষ কল্পপনায় যখন কোন গল্প কিংবা কাহিনী সাজায় তখন তার নিজেকে কল্পনার রাজ্যের অদৃষ্টদাতা বলে ভেবে নেই । নাহয় কোন ভাবেই তো গল্পকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয় । আবার কখনো নিজেই উপস্তিত হয় অতীত -বর্তমান কিংবা ভবিষ্যতের কোন ঘটনায় । কখনও আশ্রয় নেই অন্য কোন আঁধারে কিংবা কালে । আপাতদৃষ্টিতে এই বিষয়টা বুঝে উঠা কঠিন । তবে বুঝলে অবাক হতেই হবে মানুষের মন কিংবা মস্তিষ্কের ব্যাপকতার কথা ভেবে । মানুষের কল্পনার রাজ্যে সে নিজেই রাজা, নিজেই প্রজা , নিজেই সমস্ত ভুবনের অধিকারী । তাই যখন কোন কিছু লিখতে যাই তখন নিজেকে অনেক বেশি শক্তিশালী বলে মনে হয় । আমার কল্পনার জগতে আমি ইচ্ছা মতো বিচরণ করতে পাড়ি । জানি না বিশ্ববিধাতা এর উপর হস্তক্ষেপ করেন কিনা । তবে আপাত তা মনে হওয়ার কোন কারন নেই । তাই ভাল আছি, বেঁচে আছি, সুখে আছি ।

আমি ভাল বই পড়ার কথা বলছিলাম –যাকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ নিজেই বলেছেন “ ভাল বই হল এমন বই যা পড়ার সময় মনেই হবে না যে আমি বই পড়ছি ।” রবীন্দ্রনাথ নিঃসন্দেহে ভাল কথা বলেছেন । তবে এতেই তৃপ্ত থাকা যায় না । আমাদের আরও কিছু জানার আছে, বুঝার আছে বলে মনে হয় । কেন বই পড়ি? কেন একটা বই ভাল লাগে অন্য একটা খারাপ লাগে ? কি লাভ বই পড়ে? কি আছে বইয়ের মাঝে? বইয়ের যে লেখক সে কি সত্যি তা বিশ্বাস করে যা সে লিখেছে ? কিংবা লেখক কি নিজেই বুঝে সে কি লিখছে ? না কি বই লেখাকে জীবিকার প্রধান ভিত্তি করে অধিক লাভের আশায় মনগড়া এবং আকর্ষণীয় লেখা লিখে যাচ্ছে ? আর আমরা কি অমৃত ভেবে তা পান করে যাচ্ছি ? এমনও প্রশ্ন আসে আমার চিন্তায় । বিশেষ করে যখন কোন অর্থহীন বই পড়ে শেষ করি তখন বেশি করে অস্থিরতা জন্মে আমার শরীরে আমার মস্তিষ্কে । প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায় হুমায়ূন আহমেদ এর কতক বইয়ের কথা । বলে নেওয়া জররী যে আমি নিজেও তার অন্ধ ভক্তদের একজন । তবুও মনে হয় তার কিছু বই আর সিনেমার সিডি একই মানের । কিন্তু তা জেনেও আমি এবং আমরা অনেকেই সিনেমা সিডির চেয়ে কয়েক গুণ দামে তার বই কিনছি ,পরছি ,এবং ফেলে দিচ্ছি ।

মনে পড়ে গেল ২০১০ সালের বই মেলার কথা । অন্য প্রকাশনীর সামনে বিশাল ভিড় জমে আছে । স্বাভাবিক ভাবেই জাতের টানে আমিও সেই ভিড়ে যোগ দিলাম । জানতে পারলাম, খুব ভাল একটা বই বের হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের ‘মাতাল হাওয়া’ । বিপুল উৎসাহ নিয়ে আমিও বই কিনব বলে স্থির করলাম । আমার সামনে এর মাত্র একজন মধ্য বয়স্ক লোক খুব তারাহুড়ো করে বই কিনছে । বইয়ের নাম ‘মাতাল হাওয়া’, মূল্য ২৩০ টাকা । আমি বিশ্বাস করতে পারলাম না । কিন্তু দেখলাম তিনি ঠিকই ২৩০ টাকা দিয়ে ‘মাতাল হাওয়া’ কিনে নিয়েছেন । আমি খুব হতাশ হলাম । কোন বিজ্ঞানের বইয়েরও দামও কারন ছাড়া এত হই না । অন্তত বইমেলা ঘুরে এমনটাই দেখা গেল । ভাবলাম হুমায়ূন আহমেদ হয়ত বিরাট কোন উপন্যাস লিখে ফেলেছেন । এর তাই হয়ত সব সচেতন মানুষেরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছে তা লুফে নেয়াওর জন্য । আমার বইটা আর কিনা হল না । কারন আমার কাছে এত টাকা ছিল না । ভাবলাম একবার গিয়ে দর কষাকষি করে দেখি দামটা একটু কমানো যায় কি না । কিন্তু লাইন ছেড়ে আসার সময় মনে হল দোকানের লোকজন বিরক্ত হয়েছে । বাড়তি ঝামেলা মনে করেছে হয়ত। তাই আবার যেতে সাহস পাচ্ছিলাম না । অনেকদিন পড়ে আমার এক বই পাগল বন্ধু কামাল(হিমু টাইপের , তবে ভাবের হিমু নয় আসল হিমু ) আমার বাসায় হাজির হল ‘মাতাল হাওয়া’ নিয়ে । বলল বইটা অনেক দামী, অনেক পৃষ্টা আছে কিন্তু পড়তে মাত্র কয়েক ঘণ্টা লাগলো মাত্র । ভাল লাগে নাই । এর চেয়ে এই টাকাগুলা দিয়ে অনেক গুলা সিনেমা দেখতে পারতাম । শুনে আমার ভালই লাগল । তবুও বইটা নিয়ে পড়লাম । পড়ে মনে হল বইটা না কিনে ভালই করেছি । আমার কাছে যে টাকা ছিল তা দিয়ে সেদিন কোয়ান্টাম ফিজিক্সের একটা বই কিনেছিলাম । যে বইটা আমার সামনে সম্ভাবনার একটা নতুন দুয়ার খুলে দিল । আমি হুমায়ূন আহমেদ এর নিন্দা করছি না ।তাকে ছাড়া আমার দিন কাটে না । ভীষণ ভাল লাগে এই আধাপাগল মানুষটাকে ।এইজন্যই তার সংকীর্ণতা আমার ভাল লাগে না ।

তেমনি ভাল লাগে না পৃথিবী এবং জীবনের সংকীর্ণতা । অথচ কি প্রবলভাবে আমরা ভালবাসি আমাদের পৃথিবীকে আমাদের জীবনকে । কিন্তু এই রহস্যময় পৃথিবী কিংবা জীবন তাদের রসহ্য হয়ত কোনদিন আমাদের কাছে উন্মোচন করবে না । তবুও থেমে নেই মানুষের অগ্রযাত্রা । মানুষ পাড়ি দিচ্ছে আকাশ মহাকাশ , সৃষ্টি করছে জিন, ক্লোন । হাজার বছরের চেষ্টায় হয়ত মানুষ খুঁজে পেত জীবন এবং পৃথিবীর সঠিক ঠিকানা । কিন্তু তা হবে বলে মনে হয় না । কেননা মানুষ একদিকে যেমন সভ্যতা গড়ে তুলছে অন্য দিকে তা ধ্বংস করার নীল নকশা আঁকছে । আমরা তা টের পাই না । হয়ত এটা বিশ্ববিধাতার ইচ্ছায় হয় । যেন মানুষ কোনদিন তার অতীত –বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ না জানতে পাড়ে । আমাদের তাই আক্ষেপ করে হয়ত লাভ নেই । তবে মেনে নিতে পারি না । খুব রাগ হয় নিজের অসহায়ত্ব দেখে । কিন্তু কিছুই করার থাকে না । আসহায় দৃষ্টি পড়ে আকাশের দিকে , বিশ্ববিধাতার আনুগ্রহের আশায় । দৃষ্টি ফিরে আসে । ঈশ্বর বর দেন না । আমি অস্থির হই কিন্তু পরক্ষনে চেতনা ফিরে আসে কঠিন বাস্তবতার । আমি সব ভুলে যেতে চেষ্টা করি । ভুলে থাকার অভিনয় করি । কিন্তু আসলে ভুলতে পেরেছি কি ? আমার অতীত- বর্তমান এবং ভবিষ্যতের চিন্তা আমাকে ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছে কি অনবরত ? আমার নিজের কাছে করা এই প্রশ্নের উত্তর আসে না । আমি তাতে আরও অস্থির হয়ে উঠি । কিন্তু কাউকে বলতে পারি না । এই ভাবেই চলছে আমার জীবন , হয়ত আপনার জীবন কিংবা আমাদের সবার জীবন ।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×