somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজকুমারী রিয়া – ৩য় পর্ব ঃ

২৩ শে মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :






এখন আমি আর আমাকে আগের মতো করে ভাবতে পাড়ি না । সবসময় মনে হয় কেউ একজন আমাকে ঘিরে রেখেছে , আমার চারপাশে তার বাহু বিস্তার করে রেখেছে ।দিন যায় –রাত যায় রিয়াকে নিয়ে আমার কল্পনা শেষ হয় না, তাকে পাওয়ার বাসনা সামান্যও মলিন হয় না । আমি আমার আজান্তেই রিয়াকে অনেক বেশি ভালবেসি ফেলেছি । অথচ আমি জানি এর কোন যুক্তি হয় না, মাত্রা হয় না । চাতক পাখি আকাশে মেঘ দেখার জন্য যেমন করে আনমনা হয়ে উঠে , তেমনি আমিও মাঝে মাঝে রিয়াকে দেখার জন্য অস্থির হয়ে উঠি । কিন্তু কাউকে বলতে না পারার কষ্টে কিংবা রিয়াকে না পাওয়ার যন্ত্রণায় আমি বিষণ্ণতার চরম অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছি । কিন্তু আমি কি পারি না রিয়া নামের ঐ অদেখা –অচেনা মেয়েটাকে ভুলে যেতে ? নিজের এই প্রশ্নের উত্তর আমি কখনো দিতে পারি না । না পারার পিছনের গল্পটা বার বার মনে আসে ।মনটা কেবলই পালাই পালাই করে কিন্তু আমি অনেকটা জোর করেই তাকে আটকে রাখি । কিন্তু এভাবে আর কতদিন? যে রিয়া আমার সমস্ত চিন্তা- চেতনার মাঝে খুব সহজেই স্থায়ী আসন করে নিয়েছে তার নাম আমি দিয়েছি রাজকুমারী রিয়া । যদিও সে রাজকুমারী নয় , তবুও আমার কাছে মনে হয় রিয়াই সেই রাজকুমারী রিয়া যার সাথে আমার আজন্ম বসবাস, অনবরত পথচলা । মনে মনে আমি যে নারীর কল্পনা করি , যে আমার মাঝে ভাললাগার ভালবাসার উদ্রেক সৃষ্টি করে সেই রাজকুমারী রিয়া । প্রকৃতি তাকে হয়ত তিল তিল করে সৌন্দর্য দিয়ে তিলোত্তমা করে গড়ে তুলেনি । তবে সত্যিকারের পরম মানবী করে গড়ে তুলেছে । বিশুদ্ধতার মুকুট তার মাতায় স্ব-ইচ্ছায় পরিয়ে দিয়েছে ।আর আমিও রাজকুমারী রিয়ার বিশুদ্ধতার সরবোরে অবগাহন করে নিজেকে পরিপূর্ণতার স্বাদ দেওয়ার স্বপ্নে বিভোর । তবে তার নাম রিয়া না হয়ে ঊর্মিলা কিংবা নির্জরা হলেও পারত । তবে তা হয় নি । এই না হওয়ার পিছনের গল্পটা আমি কাউকে বলতে চাই না ,খুব অস্বস্তি বোধ করি । আমাদের সবারই কিছু না কিছু পছন্দের বিষয় থাকে- যা কাউকে বলা যায় না । এই গল্পটাও এমনই একটা বিষয় । তাই তা বলতে অপারগতা প্রকাশ করা ছাড়া আমার কোন উপায় জানা নেই ।

রিয়া বলেছিল তাকে মুক্তি দিতে । উপায়ও বলেছিল, তাকে ভালবাসতে হবে । হ্যাঁ, আমি তো তাকে সত্যিই ভালবাসি । কিন্তু তাতে কি রিয়া সত্যি সত্যিই অদৃষ্টের অসঙ্গায়িত কারাগার ভেদ করে আমার কাছে চলে আসবে ! নিজের কাছে নিজেই প্রশ্ন করি । কিন্তু কোন কিছুই ভেবে উঠতে পারছি না । আগামীকাল পূর্ণিমা । কাল অবশ্যই রিয়া অন্ধকারের জগত থেকে বের হয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়াবে । ভাবতেই ভীষণ আনন্দ হচ্ছে ।

সময় কাটছে না দেখে আজ আগেই চলে আসলাম দিঘির পাড়ে । কিন্তু কোথাও কেউ নেই । চারিদিকে পিনপতন নীরবতা । বাসায় সবাই হয়ত এখনো ঘুমাই নি। তবুও চলে এলাম। কিন্তু আজ খুব ভয় ভয় লাগছে। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে মা বোধ হয় আড়াল থেকে আমাকে দেখছে ।কিন্তু মা তো আমাকে এভাবে ছেড়ে দিত না । এত রাতে দিঘির ধারে কি কাজ করছি, তা না জেনে মা আমাকে কিছুতেই ছেড়ে দিত না । মাকে আমি এমনিতেই ভয় পাই । তবে ভয় বলা ঠিক হচ্ছে না। এখানে অন্য কোন শব্দ ব্যবহার করা দরকার কিন্তু এই মুহূর্তে আমার এমন কোন শব্দ মাথায় আসছে না । আসলে জানাই নেই, আসবে কোথা থেকে? আমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি । রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছি । মাঝ রাত পাড় হয়ে গেছে । আজ দিঘির জলে কোন আলোক জলকানি নেই , ঢেউ এর জলের খেলা নেই । সবকিছুকেই কেন জানি বিষণ্ণ মনে হচ্ছে! আমি হঠাৎ ডেকে উঠলাম রিয়া তোমার কি হয়েছে? তুমি কি আজ আসবে না। আমি তোমার জন্য – তোমাকে দেখার জন্য কত রাত এখানে এসেছি তা কি তুমি জানো না ? দিনের আকাশে তুমি উড়ে বেড়াও । আকাশের কাছে কত বার করে তোমার ঠিকানা চেয়েছি তাও কি তোমার জানা নেই? রিয়া তুমি ফিরে আস , ফিরে আস হৃদয়ে আমার । আমি তো তোমাকেই ভালবাসি। এই ভালোবাসা যে মানুষকে এতোটা আসহায় করে দিতে পাড়ে তা তোমাকে দেখার আগ পর্যন্তও আমার জানা ছিল না । তুমি ফিরে আস রিয়া , তোমাকেযে আসতেই হবে । আমার কথা আস্তে আস্তে শূন্যে মিলিয়ে যায় । কোন উত্তর আসে না।

হঠাৎ শুনতে পেলাম পিছন থেকে মা আমাকে ডাকছে । আস্তে আস্তে আমিত আমিত বলে মা আমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে । তবে মার কণ্ঠটা খুব ভারী মনে হল । শুনে আমার গা শিউরে উঠল । চারদিক থেকে অসংখ্য ভয় আমাকে ঘিরে রেখেছে । এর মধ্যে মার অচেনা গলা আমার ভয়টা কে আরও বাড়িয়ে দিল । মা আমার সামনে এসে দাঁড়াল । মার মুখ দেখে ভয়টা একটু কমে গেল। মা চুপচাপ আমার দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে বলল, “রিয়া আসবে না ।” মার কাছ থেকে এমন কথা শুনার জন্য আমি একদমই প্রস্তুত ছিলাম না । তবুও আমতা আমতা করে বলেই ফেললাম, মা তুমি কি সব জানো?” হ্যাঁ, জানি। জানি বলেইতো বলছি । তুমি রিয়ার কথা কিভাবে জানো মা? আমার এমন সাহস আগে কখনো ছিল না যে মার সাথে কোন বন্ধু তাও আবার মেয়ে বন্ধু নিয়ে কথা বলব । মা আমার দিকে আড়চোখে চেয়ে বলল, “আমি তোমার মা নই, আমি রিয়ার মা ।তবে মানুষ নই । রিয়ার মার আত্মা । তাই তোমার মার চেহারায় এসেছি ।যেন তুমি ভয় না পাও ।

আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম। আমার স্বাভাবিক বোধ হারিয়ে গেল । ভয়ের আনুভুতিটা এতই ভায়ানক ছিল যে একবার মনে হচ্ছিল আমি পানিতে ঝাপ দেই , হঠাৎ অবচেতন মনেই বোধদয় হল যে পানিতে ভূত বেশি থাকে । হয়ত রিয়াও মানুষ নয় । ভূতই হবে । পানিতে গেলে হয়ত আমাকে মেরেই ফেলবে ।আবার জীবনের প্রথম আত্মা দেখছি মানে ভূত দেখছি এটা ভেবে একটু গর্বই হচ্ছিল । কিন্তু আমাকেতো বাঁচতে হবে , না হয় এই কথা গুলো মানুষ জানবে কি করে , এই ভেবে সামনের দিকে দৌড়ে যাবার জন্য যখনই তাকালাম দেখি কোথাও কেউ নেই! মনে হচ্ছে মা মেয়ে আমার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে । এখনি টেনে পানিতে নিয়ে যাবে, আমার রক্ত চুষে খাবে । আমি কোথাও না তাকিয়ে এক দৌড়ে বাড়িতে চলে আসি । ঘরের দরজার সামনে এসে উল্টে পড়ে যাই । শব্দ শুনে বাসার সবাই ছুটে আসে। আমাকে এই অবস্থায় দেখে বাবা ভীষণ অবাক হয় । মা কান্না শুরু করে দেয় । আমকে জড়িয়ে ধরে ঘরে নিয়ে যায় ।মানুষ যাকে বেশি ভালবাসে তাকেই হয়ত বেশি শাসন করতে চায়। আবার তার জন্যই তাকে বেশি কষ্ট সহ্য করতে হয় । এটাই হয়ত প্রকৃতির নিয়ম , নিয়তির খেলা ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×