somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালবাসা এবং বিজ্ঞান ঃ

১০ ই জুন, ২০১১ সকাল ৯:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কখনো কখনো মনে হয় বিজ্ঞান শুধু যান্ত্রিকতা কিংবা তথ্য বা তত্ত্বের নিগড়ে বন্দী নয় । আমরা অজ্ঞতাবসত বিজ্ঞানের সংজ্ঞাকে এর মধ্যে আবদ্ধ করে রেখেছি । মানুষের মন -মায়া – প্রেম-ভালবাসা , , চিন্তা-চেতনা, কিংবা রিপুর তাড়না এসবের মাঝে কি নেই বিজ্ঞানের তত্ত্ব , প্রযুক্তির উৎকর্ষতা, কিংবা দর্শনের যুক্তি ?? আমার কাছে মনে হয় বিজ্ঞান প্রযুক্তি আর দর্শন এদের মাঝে খুব নিবিড় কোন যোগাযোগ আছে । এই তিন জ্ঞানকে শাখা কল্পনা করে তাই একটা জ্ঞান বৃক্ষ তৈরি করা যায় । আমি তা করেছি , আর তা রেখেছি plinth academy একটা কামরায় । আমি এর উপযুক্ত কোন নাম এখনো দিতে পারিনি ।। শুধু মানুষের বেলায় কেন সৃষ্টির সব প্রাণীর মাঝেই কি লুকিয়ে নেই এই গভীর বিজ্ঞান ? আবার যদি প্রকৃতির দিকে থাকাই আরও অবাক হতে হয় । যে উন্নততর বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির সাহায্যে প্রকৃতি নিজে সেজেছে কিংবা স্রষ্টা সাজিয়েছেন তার সামনে পৃথিবীর কোটি বছরের সভ্যতা নিতান্তই অচল অসার । একগাছ সজ্জিত স্বর্ণলতা গাছ কিংবা একটি উড়ন্ত গাংচিলের মাঝে যে রহস্য লুকিয়ে আছে তা কি আছে রক্তাত্ত কোন বন্দুকের বেয়নেট কিংবা তীব্র গতিশীল মহাকাশযানের মাঝে?

ভালবাসা বিহীন জীবন একটা কম্পিউটার প্রোগ্রাম ছাড়া আর কিছু নয় । আমাদের প্রোগ্রামগুলোতে যে জিনিসটি নেই আর কোন দিন হয়ত থাকবেও না তা হল ভালবাসাবোধ –মায়া – মমতা । মহাবিশ্বের এমন কোন বস্তু কিংবা শক্তির অস্তিত্ব নেই , যেখানে ভালবাসা কিংবা মায়া মমতা নেই । তবে একেক সত্ত্বার কাছে ভালবাসার মানে এবং প্রকাশ ভঙ্গি একেক রকম । তাই আপাত দৃষ্টিতে ভালবাসার দিশা পাওয়া খানিকটা কঠিনতর ব্যাপার । সৃষ্টির শুরুতে রয়েছে প্রেম, মানুষের জন্মের প্রারম্ভে রয়েছে প্রেম, জীবনের প্রতিটি স্তরে স্তরে রয়েছে প্রেম । যেখানেই এই পরম জিনিসটি নেই সেখানেই মৃত্যুর ছায়া, অন্ধকারের আবরন এসে ঘিরে ফেলে । যদিও ভালবাসা আর প্রেম কখনও এক জিনিস না । তার পরও আমরা একে অনেক সময় একাকার করে ফেলি । তাতে কোন সমস্যা দেখা যায় না । বরং ভাবতেএবং বলতে ভালই লাগে । কিন্তু আমাদের প্রচলিত জ্ঞান বিজ্ঞানের কোন শাখায় ভালবাসা নিয়ে আলাদা কোন ক্ষেত্র আছে কিনা আমার জানা নেই । কিন্তু এর প্রয়োজন আমরা কেউ অস্বীকার করতে পারি না । তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে যদি তেজস্ক্রিয় বিজ্ঞান, সমাজ নিয়ে যদি সমাজ বিজ্ঞান গড়ে উঠতে পারে , তাহলে ভালবাসা নিয়ে এমন আর একটি বিজ্ঞান ক্ষেত্র গড়ে উঠছে না কেন? আমরা কি পেরেছি আমাদের মন – মস্তিষ্কের যথার্থ অনুসুন্ধান করে আমাদের ভাললাগা- ভালবাসার রহস্য উদঘাটন করতে ? অথচ ভালবাসার চেয়ে বড় কোন অনুভূতি, বিশেষ কোন জ্ঞান ,গুরতর কোন বিজ্ঞান কি কিছু আছে আমাদের এই পরিচিত কিংবা অপরিচিত জগতে ? আমরা কি করে বলি যে আমরা সভ্যতার চরম শিকরে আরোহণ করছি ? যেখানে আজও আমরা আমাদের সবচেয়ে কাছের যে মন তার সন্ধান পেলাম না । সবচেয়ে দূরের যে চিন্তা সে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারি নি । তারপরও আমরা সভ্যতার জয়গান কেন গাই?? আমাদের কি সত্যিই সেই আধিকার আছে ??
তাই ভালবাসা নিয়ে নতুন করে একটি বিজ্ঞান ক্ষেত্র গড়ার তীব্র তাগিদ অনুভব করছি । যেখানে আমরা ভালবাসার- ভাললাগার রহস্য উদ্ঘাটন করবো , ভালবাসার গভীরতা – নিবিরতাকে মানুষের চোখের সামনে এনে আগুল দিয়ে দেখাবো । তাহলে হয়ত আমরা আমাদের সামনে আর কোন বোনকে ভাল্ভাসার জন্য জীবন দিতে হবে না , কোন মাকে লাঞ্ছিত হতে দেখব না , কোন বন্ধুকে খেলার পুতুল করে নাচাতে দেখব না ,কোন বৃদ্ধকে বৃদ্ধাশ্রমে যেতে দেখব না, কোন পতিতাকে নিজের মুখ আড়াল করে চলতে দেখব না, কোন ছেলেকে নেশার দিকে ছুটে যেতে দেখব না, কোন শ্রমিককে কাজ শেষে হাহাকার করতে দেখব না, কোন মানুষকে কাঁদতে শুনব না ।।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×