কখনো কখনো মনে হয় বিজ্ঞান শুধু যান্ত্রিকতা কিংবা তথ্য বা তত্ত্বের নিগড়ে বন্দী নয় । আমরা অজ্ঞতাবসত বিজ্ঞানের সংজ্ঞাকে এর মধ্যে আবদ্ধ করে রেখেছি । মানুষের মন -মায়া – প্রেম-ভালবাসা , , চিন্তা-চেতনা, কিংবা রিপুর তাড়না এসবের মাঝে কি নেই বিজ্ঞানের তত্ত্ব , প্রযুক্তির উৎকর্ষতা, কিংবা দর্শনের যুক্তি ?? আমার কাছে মনে হয় বিজ্ঞান প্রযুক্তি আর দর্শন এদের মাঝে খুব নিবিড় কোন যোগাযোগ আছে । এই তিন জ্ঞানকে শাখা কল্পনা করে তাই একটা জ্ঞান বৃক্ষ তৈরি করা যায় । আমি তা করেছি , আর তা রেখেছি plinth academy একটা কামরায় । আমি এর উপযুক্ত কোন নাম এখনো দিতে পারিনি ।। শুধু মানুষের বেলায় কেন সৃষ্টির সব প্রাণীর মাঝেই কি লুকিয়ে নেই এই গভীর বিজ্ঞান ? আবার যদি প্রকৃতির দিকে থাকাই আরও অবাক হতে হয় । যে উন্নততর বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির সাহায্যে প্রকৃতি নিজে সেজেছে কিংবা স্রষ্টা সাজিয়েছেন তার সামনে পৃথিবীর কোটি বছরের সভ্যতা নিতান্তই অচল অসার । একগাছ সজ্জিত স্বর্ণলতা গাছ কিংবা একটি উড়ন্ত গাংচিলের মাঝে যে রহস্য লুকিয়ে আছে তা কি আছে রক্তাত্ত কোন বন্দুকের বেয়নেট কিংবা তীব্র গতিশীল মহাকাশযানের মাঝে?
ভালবাসা বিহীন জীবন একটা কম্পিউটার প্রোগ্রাম ছাড়া আর কিছু নয় । আমাদের প্রোগ্রামগুলোতে যে জিনিসটি নেই আর কোন দিন হয়ত থাকবেও না তা হল ভালবাসাবোধ –মায়া – মমতা । মহাবিশ্বের এমন কোন বস্তু কিংবা শক্তির অস্তিত্ব নেই , যেখানে ভালবাসা কিংবা মায়া মমতা নেই । তবে একেক সত্ত্বার কাছে ভালবাসার মানে এবং প্রকাশ ভঙ্গি একেক রকম । তাই আপাত দৃষ্টিতে ভালবাসার দিশা পাওয়া খানিকটা কঠিনতর ব্যাপার । সৃষ্টির শুরুতে রয়েছে প্রেম, মানুষের জন্মের প্রারম্ভে রয়েছে প্রেম, জীবনের প্রতিটি স্তরে স্তরে রয়েছে প্রেম । যেখানেই এই পরম জিনিসটি নেই সেখানেই মৃত্যুর ছায়া, অন্ধকারের আবরন এসে ঘিরে ফেলে । যদিও ভালবাসা আর প্রেম কখনও এক জিনিস না । তার পরও আমরা একে অনেক সময় একাকার করে ফেলি । তাতে কোন সমস্যা দেখা যায় না । বরং ভাবতেএবং বলতে ভালই লাগে । কিন্তু আমাদের প্রচলিত জ্ঞান বিজ্ঞানের কোন শাখায় ভালবাসা নিয়ে আলাদা কোন ক্ষেত্র আছে কিনা আমার জানা নেই । কিন্তু এর প্রয়োজন আমরা কেউ অস্বীকার করতে পারি না । তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে যদি তেজস্ক্রিয় বিজ্ঞান, সমাজ নিয়ে যদি সমাজ বিজ্ঞান গড়ে উঠতে পারে , তাহলে ভালবাসা নিয়ে এমন আর একটি বিজ্ঞান ক্ষেত্র গড়ে উঠছে না কেন? আমরা কি পেরেছি আমাদের মন – মস্তিষ্কের যথার্থ অনুসুন্ধান করে আমাদের ভাললাগা- ভালবাসার রহস্য উদঘাটন করতে ? অথচ ভালবাসার চেয়ে বড় কোন অনুভূতি, বিশেষ কোন জ্ঞান ,গুরতর কোন বিজ্ঞান কি কিছু আছে আমাদের এই পরিচিত কিংবা অপরিচিত জগতে ? আমরা কি করে বলি যে আমরা সভ্যতার চরম শিকরে আরোহণ করছি ? যেখানে আজও আমরা আমাদের সবচেয়ে কাছের যে মন তার সন্ধান পেলাম না । সবচেয়ে দূরের যে চিন্তা সে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারি নি । তারপরও আমরা সভ্যতার জয়গান কেন গাই?? আমাদের কি সত্যিই সেই আধিকার আছে ??
তাই ভালবাসা নিয়ে নতুন করে একটি বিজ্ঞান ক্ষেত্র গড়ার তীব্র তাগিদ অনুভব করছি । যেখানে আমরা ভালবাসার- ভাললাগার রহস্য উদ্ঘাটন করবো , ভালবাসার গভীরতা – নিবিরতাকে মানুষের চোখের সামনে এনে আগুল দিয়ে দেখাবো । তাহলে হয়ত আমরা আমাদের সামনে আর কোন বোনকে ভাল্ভাসার জন্য জীবন দিতে হবে না , কোন মাকে লাঞ্ছিত হতে দেখব না , কোন বন্ধুকে খেলার পুতুল করে নাচাতে দেখব না ,কোন বৃদ্ধকে বৃদ্ধাশ্রমে যেতে দেখব না, কোন পতিতাকে নিজের মুখ আড়াল করে চলতে দেখব না, কোন ছেলেকে নেশার দিকে ছুটে যেতে দেখব না, কোন শ্রমিককে কাজ শেষে হাহাকার করতে দেখব না, কোন মানুষকে কাঁদতে শুনব না ।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


