somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশ ভ্রমণ – কক্সবাজার - পর্ব ২

০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সাগরে চলা সাম্পান জাতীয় নৌকা - এগুলোতে করে জেলেরা মাছ ধরে সাগরে
এর বেশ কয়েক বছর পর কক্সবাজারে যাই। ঢাকা থেকে এ সি নাইট কোচে চট্টগ্রাম। সকাল বেলা বাসের কাউন্টারে পৌঁছাই। সেখানে ফ্রেস হয়ে কাছের রেস্টুরেন্টে নাস্তা খেয়ে ফ্রেস হয়ে নেই। একই পরিবহনের অন্য বাসে করে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করি কিছুক্ষণ পর। শহর ছাড়িয়ে কর্ণফুলী নদীর উপরের কালুরঘাট সেতু পার হয়ে কক্সবাজারের পথে। সে সময় নতুন ব্রিজটি হয়নি এবং কক্সবাজারের রাস্তা তেমন প্রশস্ত ছিল না। ড্রাইভিং বেশ বিপদজনক ছিল। তবে এই লাইনের বাস ড্রাইভাররা বেশ অভিজ্ঞ হওয়ায় দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। দিনের বেলা দুপাশের জনপদ দেখতে দেখতে চলছি। মাঝে মাঝে রাস্তার পাশে বিশাল খোলা প্রান্তর, মৌসুমে সেখানে চাষ হয়। বাজার এলাকা চিরাচরিত নিয়মে বেশ ব্যস্ত ও জনবহুল। বাসের গতি এসব জায়গায় কমে আসে। কক্সবাজারের কাছাকাছি লবন চাষের জমি দেখলাম। সেখানে সাগরের পানি আটকে রেখে লবন তৈরি করা হয়। এটা এলাকার একটা গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উদ্যোগ। সাগরের পানি জমতে ঢুকে যাওয়ার ফলে মাটি লোনা হয়ে যায় ও সাধারণ চাষাবাদ হয় না। সেসব জমিতে লবন উৎপাদন একটা ভাল উদ্যোগ। প্রায় সারাদিন কেটে গেল বাস ভ্রমনে। সন্ধ্যা ৭ টার পর কক্সবাজার বাস স্ট্যান্ডে নামলাম। মালপত্র নিয়ে রিক্সায় করে আমাদের গেস্ট হাউজে এলাম। ফ্রেস হয়ে রিক্সা নিয়ে সাগরের পাড়ে গেলাম। এবার কক্সবাজারের চিত্র আগের চেয়ে আলাদা। অনেক উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের সমাগম আগের চেয়ে বেশী। আমরা বিচের কাছেই পর্যটনের রেস্টুরেন্টে ডিনারের জন্য গেলাম। সে সময় পর্যটনের রেস্টুরেন্টে বেশ ভাল মানের খাবার পরিবেশন করত। পরিচ্ছন্নতা ও চাকচিক্যও ছিল। পরের বার যখন আসি তখন অনেক লাক্সারি হোটেলের ভিড়ে এর জৌলুস ম্লান হয়ে গেছে। ডিনার শেষে বাজার সাগর পারের লাবনী পয়েন্টের বাজারে কিছুক্ষণ ঘুরে রেস্ট হাউজে ফিরে আসি। মেরিন ড্রাইভ রাস্তার কাজ তখন চলছিল। সেই রাস্তা ধরে ইনানি বীচ ঘুরে আসি। কক্সবাজারে আমার এক সিনিয়র কলিগের বাসায় বেড়াতে গেলাম এক বিকেলে। তারা মেরিন ড্রাইভের কাজ করছিলেন। সে সময় থেকে সাগর পাড়ের রিসোর্ট বানানোর চিন্তা ভাবনা চলছিল। এবার ও হিমছড়িতে ঘুরতে গেলাম শুকনা মৌসুম থাকায় পানির ধারা ছোট হয়ে গেছে, তবে অনেক মানুষ এখানে ঘুরতে এসেছে। রাস্তার পাশে এসে একজন কৃষকের দেখা পেলাম। তাঁর গাছের কলা নিয়ে এসেছে। গাছ পাকা কলা, অপূর্ব স্বাদ। এই কলা খাবার আশায় আমি কক্সবাজার গেলেই হিমছড়ির পাশে দাঁড়াই, তবে আর সেই স্বাদের কলা পাইনি।


সাগরের বুকে সূর্যোদয়
কক্সবাজার তার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, সমুদ্রের মিলন আর বৈচিত্র্যময় প্রকৃতির সৌন্দর্যে ভ্রমণকারীদের এক বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। এখানে প্রতিটি স্থানের অনুভূতি আলাদা, কোথাও উত্তাল ঢেউ, কোথাও পাহাড়ের শান্ত সবুজ পরিবেশ। কিছু জায়গায় প্রানচঞ্চল পরিস্থিতি অনেক মানুষের আনাগোনা আবার অনেক নির্জন ও শান্ত জায়গা। কক্সবাজারের মূল আকর্ষণ হলো তার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত এর বিশালতা মানুষের মনকে উদার করে। একবার কক্সবাজারে গিয়ে খুব ভোরে বীচে হাঁটতে ইচ্ছা হল।


বীচে সাগর দেখার সুন্দর আয়োজন
আস্তে আস্তে মানুষের কোলাহল দূরে ফেলে ঘণ্টা খানেক হেঁটে চললাম। সব জায়গায় বীচ একরকম না, মাঝে মাঝে পানির ধারা নেমে ছোট ছোট নালাও তৈরি হয়েছে কিছু জায়গায়। চলার পথে দুই একজন স্থানীয় লোকজনের সাথে দেখা হল, তারা কেউ কলাতলি বা লাবনী পয়েন্টের দিকে যাচ্ছে, কয়েকজন সাগরে মাছ ধরার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। সূর্যের তাপ বাড়ছে তাই ফেরার জন্য ঘুরলাম, তাছাড়া একা এতদুরে ভাল লাগছিল না। লাবনী পয়েন্টে যখন ফিরে এলাম তখন অনেক পর্যটক সেখানে সাগরে সূর্যোদয় দেখতে চলে এসেছে। সাগরে সাঁতার ও কাটছে অনেকে।
এরপর কক্সবাজারে যখন আসলাম তখন মেরিন ড্রাইভ হয়ে গেছে। সেই রাস্তায় মাইক্রোবাসে করে টেকনাফ ঘুরতে গেলাম। সেখানে বি জি বি ব্যাটালিয়নে গেলাম। তারা নাফ নদীতেও টহল দেয়। টেকনাফ নদী বন্দরে ঘুরতে গেলাম, এই বন্দর দিয়ে মিয়ানমারের সাথে বাণিজ্য চলে। দূরে মিয়ানমারের মংডু শহর ও বন্দর দেখা যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এক দিনের অনুমতি নিয়ে মংডু দিয়ে আবার বিকেলে ফিরে আসতে পারে। দোভাষীর কাজ করার জন্য অনেক রোহিঙ্গাকে পাওয়া যায় দুপাশেই। টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার জাহাজ ছাড়ে। দুই থেকে তিন ঘণ্টা লাগে সাগরের বুক চিরে এই জাহাজ ভ্রমণ। বেশ কয়েকবার এই ভ্রমণের সুযোগ হয়েছিল। জাহাজ দ্বীপের জেটিতে থামে। সেখান থেকে হেঁটে বা রিক্সায় দ্বীপ ঘুরে বেড়ানো যায়।
কক্সবাজার থেকে মিয়ানমার সীমান্তের ঘুনধুম বি ও পি’র পাশ দিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ মিয়ানমার ফ্রেন্ডশিপ রোডে ভ্রমণের সুযোগ হয়েছিল। রাস্তাটি সীমান্তের কাঁটা তারের বেড়ার পাশের একটা ছোট সেতুর পাশে থেমে গেছে। এই রাস্তাটা চালু হলে সড়ক পথে মিয়ানমারের সাথে বাণিজ্য ও পর্যটন বহুগুনে বেড়ে যেত। এটা চালু হলে হয়ত ২০১৭ সালের রোহিঙ্গা সংকট না ও হতে পারত যদি ও তা ছিল মিয়ানমারের বহুদিনের পরিকল্পনা। এরপরও কক্সবাজারে গিয়েছি অনেক বদলে গেছে, অজস্র হোটেল হয়েছে সাগর পাড়ে। খোলামেলা পরিবেশ কিছুটা কমে গেলেও দেশের মানুষ এখানে এসে কিছুটা সময় আনন্দ খুজে নেয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×