somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঋণ

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

- ছার (স্যার), আপনে ছার জানেন না আপনেরে আমরা কত পছন্দ করি।
- ভাইরে আমি ঋণ শোধ করি, এর বেশী কিছু না।
- কিসের ঋণ ছার?
- আছেরে ভাই, আছে।

বয়সে বা পদে যারা ছোট তাদেরকে আমি একটু বেশীই আদর করি। যারা একটু আবেগী হয়ে প্রশ্ন করে
- স্যার আপনে এত ভালো কেন?
তাদেরকে আমি এই কমন উত্তরটা দেই।

একবার পড়লাম এক মহাবিপদে। ভদ্রলোক নাছোরবান্দা।
- স্যার সব সময় খালি কন্ ঋণ আছে, ঋণ শোধ করেন। স্যার কাহিনীটা কি আজ কইতে অইবো।
আমি মিটিমিটি হাসছি। ভদ্রলোক আসলেও নাছোরবান্দা
- কন্ স্যার, কন্ না...

পরে যা বল্লাম তা হলো,
আমার জীবনের প্রথম চাকরী হলো ২০০৩ সালে, ১ হাজার টাকা বেতনে। মাসে দুই একবার গিয়ে অফিসের ডাকা ব্যাকআপ নেওয়া হলো কাজ। প্রথম যেদিন অফিস করলাম। এমডি স্যার বল্লেন, কী খাবা? একটু সাহস করে নম্রভাবে বল্লাম, ভাইয়া আইসক্রিম খাবো।

উনি কি যেন ভাবলেন। তারপর বল্লেন, চলো।
তিনি গাড়ী করে আমাকে অনেক দূর নিয়ে গেলেন। বল্লেন, এই জায়গার আইসক্রিমটা বেষ্ট। আমার মত পার্ট টাইম একজন এমপ্লয়ীকে এতটা ভালোবাসা দেখানোর কোন মানে হয়?

পরে ২০০৬ সালে, ফুল টাইম চাকরীতে ঢুকলাম সিএসবি নিউজে। ইন্টারভিউতেই এমডি স্যারকে বল্লাম, স্যার আমার তো থিসিসের কাজ এখনো শেষ হয় নাই। স্যার বল্লেন, সমস্যা কি? সপ্তাহে দুই একদিনের বেশীতো আর ভার্সিটি যাওয়া লাগবে না, যাবেন।

সপ্তাহ খানেক পরেই দেখলাম কাজের বেশ ভালো চাপ। সফ্টওয়্যার বানানোর কাজ। রাতে মনযোগ দিয়ে কাজ করলে বেশ ভালো হয়। এমডি স্যারকে বল্লাম, স্যার কাজের যে অবস্থা আমার তো সারা রাত জেগে কাজ করতে হয়। স্যার বল্লেন, আজ থেকে আপনার ইচ্ছাটাইম অফিস। ই্চ্ছা হয় আসবেন, না হয় না। আমি স্যারকে হাসি দিয়ে বল্লাম, স্যার এইচ. আর তো ঝামেলা করবে। স্যার এইচ আর এর হেড আজিজ ভাইকে হাসি দিয়ে বল্লেন, আজিজ সাহেব অরুণের আজ থেকে ইচ্ছা টাইম অফিস।

এমন করে কত বলবো?
শুধু বর্তমানের অবস্থা বলি। আমার টি শার্ট, পাঞ্জাবী ইত্যাদি কিনতে হয় না। সিনিয়ররা যারা ভালোবাসেন তাদের গিফটেই অনেকটা হয়ে যায়। আমি সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে তাঁদের নাম উল্লেখ করলাম না। কারন যারা এমন করে ভালোবেসে দেন তারা নামের আশায় দেন না। নাম করলে বরং তারা কিছুটা বিব্রত হয়ে যান।

তো এমন করে যে মানুষটা সবসময় বড়দের কাছ থেকে ভালোবাসাটা পেয়ে আসছে। সে মানুষটা কতটা ঋণী? আমি শুধু পেয়ে আসা ভালোবাসাটা এমন করে দিয়ে যাচ্ছি। আর ভালোবাসার ঋণ বড় শক্ত ঋণ, সারা জীবন শোধ করেও তা থেকে মুক্তি মিলে না।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সৌদি আরবে বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৫৮


দিন দিন সরকারপ্রধানের ফ্যান হয়ে যাচ্ছি। তাঁর চলাফেরা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশা দেখে মানুষ বলতে শুরু করেছে, এ যেন আরেক জিয়া। আর “I have a plan” কথাটার অর্থ এত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব রাজনীতি, ক্ষমতা ও অর্থনীতির কেন্দ্রে এখন ভারত

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১২


ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Dr S. Jaishankar কথা বলছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ অন্য বিশাল ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের মন্ত্রীরা একাগ্রচিত্তে শুনছেন।

হ্যাঁ, অস্বীকার করার উপায় নেই। বর্তমানে বিশ্বে ভারতের অবস্থান এমনই। সামরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

এইচ এস সি রেজাল্ট ২০২৬ -ঢাকা বোর্ড

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৯

খুব অদ্ভুত ব্যাপার। আমাদের সময়ে চলে এলো নাকি? সেই চার দশক আগের মতন !
যা তথ্য পেলামঃ

In the 2026 HSC examinations, a total of 297,621 candidates appeared... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×