somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার বউ হইসে মা...

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৪:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মা যে নয় মাস পেটে ধারণ করে তা ই না।
নয় দশে নব্বই বছর যন্ত্রনাও সহ্য করে।

ব্যক্তিগত উদাহরণ দেই। প্রিয়কে আমার কাছে রেখে তার মা গেছে কোন একটা কাজে। হয়ত তার কাঁথা ধুইতে বা খাওয়া তৈরী করতে। প্রায় পনেরো বিশ মিনিট একটানা সে আমার কাছে।

প্রথমে শুরু হইলো, ওরে কোলে নিতে হবে। খিচুনী দিয়ে ই ই ই করা মানে, আমারে কোলে নাও। নিলাম কোলে। কোন দিকে কাত হয়ে পড়ে যাওয়া মানে, আমি এই দিকে যাইতে চাই। গেলাম ডিরেকশন অনুযায়ী। ড্রেসিং টেবিলের দিকে ইশারা করলো, গেলাম। ভাবলাম পোলা দেখি মায়ের মত হইসে, খালি ড্রেসিং টেবিল আর ড্রেসিং টেবিল। ওমা, কাছে নেওয়ার পর দেখা নাহ আয়নার দিকে তাকাচ্ছে না। তার মানে মায়ের মত হয় নাই। এবার ইশারা করলো পাউডারের বক্স। নিলাম পাউডারের বক্সের দিকে। পাউডারের বক্সের মুখটা খুলে এদিক সেদিক উল্টায়ে দেখছে। ভাবলাম, যাক বাপের মত হইছে। খুটায়ে খুটায়ে সব জিনিস বিজ্ঞানীর মত দেখা শিখছে। পরে দেখি এইটা নিয়া দিলো মুখে! এবার আমি পুরা নিশ্চিৎ, পোলা বাপের মতই হইছে। বাপেরও সব জিনিস মুখে দেওয়ার কিঞ্চিৎ স্বভাব আছে।

একটু পর সে আবার ই ই ই শুরু করলো। তার মানে আমারে আবার কোলে নাও। নিলাম কোলে। এবার সে বাইরের দিকে হেলে পড়া শুরু করলো। তার মানে তারে নীচে নিয়ে যাও। সে নীচে গিয়ে ডরিমন কারে উঠবে। বাইরে মহা ঠান্ডা। আট মাসের পুত্ররে উপদেশ দিলাম, ব্যাটা বাইরে অনেক ঠান্ডা, বাইরে যাইতে হয়না। প্রথমে দুই তিন সেকেন্ড সে বুঝলো। মনে মনে খুশি হইলাম, যাক বাপের কথা শুনা শুরু করেছে। এরপর শুরু করলো, কান্না। এমন কান্না! বুঝলাম দুই তিন সেকেন্ড সে সময় দিয়েছিলো - এখনো সময় আছে আমারে নিয়া বাইরে যাও টাই সময়। ওর মা বাইরে থেকে হুঙ্কার দিলো, এইই... কী করছো তুমি! মিজাজটা গরম হয়ে গেলো! আমার পোলারে আমি করবো টা কী!

এমন করে পনেরো বিশ মিনিটের মাথায় সে আমাকে পাগল করে তুল্লো। হিসু করলো, প‌্যান্ট বদলে দিবো, শুরু করলো কান্না। অধৈর্য হয়ে বল্লাম,
- প্রিয়... থামবি!

ব্যাস্, গিন্নি এবার চড়াও হলো আমার উপর।
- তুমি ওরে তুই করে কেন বলতেছো!
- আরে যন্ত্রনা, তুমি তো বলো।
- হ্যাঁ বলি, একমাত্র আমিই তুই করে বলবো, তুমি কোন আন্দাজে বল্লা!

আমি কোন আন্দাজে বল্লাম তার উত্তর খোঁজে পেলাম না। শুধু মনে মনে আওরালাম -

আমার বউ হইসে মা
তার দেমাগ ধরে না
আমিওযে বাপ হইছি
মনেই করে না :(

(বাপরে বাপ পনেরো মিনিট রেখেই আমি অধৈর্য, ওর মা ওরে সামলায় কিভাবে!)
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:২৪

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

হয়তো আজ টেলিফোনও অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মতো স্মার্ট হতো!



একসময় মানুষের দূর-দূরান্তে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল টেলিফোন। মোবাইল ফোনের মতোই টেলিফোন দিয়ে কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×