somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খালিদ হোসাইন

০৬ ই আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৫:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


নজরুল সঙ্গীত শিল্পী খালিদ হোসাইন। কয়দিন আগে দেখি অফিসে বসে আছেন। সরাসরি তাঁকে দেখে একটু ধাক্কার মত লাগলো। তার কারন হইলো, ছাত্র অবস্থায় ৩০ টাকা ম্যানেজ করে একটা গানের ক্যাসেট কিনা সত্যিই টাফ ছিলো। এরপরেও খালিদ হাসানের প্রায় সব ক্যাসেটই তখন আমার সংগ্রহে ছিলো।

খবর নিয়ে জানতে পারলাম, স্যুটিং এর আরো ঘন্টাখানেক বাকি। সাহস করে সামনে গেলাম। বল্লাম
- স্যার এক কাফ কফি খাবেন?

তিনি খুব বিনয়ের সাথেই বল্লেন, অত একটা ইচ্ছা নাই। আমি এর আগেও দেখেছি, মানুষ যত বড়, ততই তার বিনয়। আমি বল্লাম
- স্যার আপনি আমার রুমে এসে একটু বসেন। কফি দিই। দরকার হইলে এক চুমুক দিয়ে না হয় আর দিলেন না।

তিনি সুন্দর করে হাসলেন। আমার রুমে এসে বসলেন। আমি পা ছুঁয়ে সালাম করলাম। এ আমার পরম সৌভাগ্য।

গান নিয়ে, নজরুলকে নিয়ে অনেক কথা হলো। একটা পর্যায়ে বল্লাম, স্যার এই গানটা নজরুল মনে হয় আপনার কণ্ঠের জন্যই লেখেছিলেন। তিনি সুন্দর করে হাসলেন। বল্লেন কোন গানটা? আমি গানটা ছাড়লাম

যেদিন রোজ হাসরে করতে বিচার তুমি হবে কাজী
সেদিন তোমার দিদার আমি পাবো কি আল্লাহ জি।

এক দিক দিয়ে গান বাজছে। আরেক দিক দিয়ে খালিদ হোসাইনের দুই চোখ দিয়ে অঝর ধারায় পানি পড়ছে। তিনি পাঞ্জাবীর পকেট থেকে রোমাল বের করে চোখের পানি মুছেন। সেই চোখ আবার ঝাপসা হয়ে ওঠে। আবার তিনি রোমাল দিয়ে চোখ মুছেন।

আমার চোখ দিয়ে সহজে পানি পড়ে না। "আমি তোমায় দেখে হাজার বার দোযখ যেতে রাজি" লাইনটা শুনার পর প্রথমে কণ্ঠটা ভার হয়ে আসলো। এর পর দেখি চোখও ঝাপসা হয়ে আসছে।

আল্লাহ, কবি নজরুলের মত আমিও তোমায় দেখে হাজার বার দোযখ যেতে রাজি। আর এত সুন্দর করে যিনি এই গানটা গাইলেন। এই খালিদ হোসাইনকে আল্লাহ তুমি দেখা দিয়ে বেহেস্ত নসিব করো।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৫:৪০
৭টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি মুমূর্ষু কবিতা

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১১



আমি আর কবিতা লিখব না বলেও
লিখে ফেলি একটি মুমূর্ষু কবিতা–
জন্ম নেয়ার আগেই যারা অবিরাম
মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, লাথি মারছে
পদ্যের চিরায়ত চোয়ালে !
পঙক্তিতে পঙক্তিতে পথ হেঁটে
প্রচণ্ড পিপাসায় আমি পান করি
কবিতার স্নিগ্ধ জল; আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ এসেছে শরৎ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



শরৎ-প্রাতে শিউলি ঝরা ক্ষণে
দিবাকর ছড়ায় হাসি।
দিঘির জলে রক্তিম পদ্ম
ফুটেছে রাশি রাশি।

ছাতিম গাছের নিভৃত নির্জনে
সবুজ পাতার ঘ্রাণ।
সুখ আহ্লাদে ডাকছে নিসর্গ
উচাটন মন প্রাণ। 

স্নিগ্ধ  বাতাস দোলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইনকা চিপা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬


এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×