
নজরুল সঙ্গীত শিল্পী খালিদ হোসাইন। কয়দিন আগে দেখি অফিসে বসে আছেন। সরাসরি তাঁকে দেখে একটু ধাক্কার মত লাগলো। তার কারন হইলো, ছাত্র অবস্থায় ৩০ টাকা ম্যানেজ করে একটা গানের ক্যাসেট কিনা সত্যিই টাফ ছিলো। এরপরেও খালিদ হাসানের প্রায় সব ক্যাসেটই তখন আমার সংগ্রহে ছিলো।
খবর নিয়ে জানতে পারলাম, স্যুটিং এর আরো ঘন্টাখানেক বাকি। সাহস করে সামনে গেলাম। বল্লাম
- স্যার এক কাফ কফি খাবেন?
তিনি খুব বিনয়ের সাথেই বল্লেন, অত একটা ইচ্ছা নাই। আমি এর আগেও দেখেছি, মানুষ যত বড়, ততই তার বিনয়। আমি বল্লাম
- স্যার আপনি আমার রুমে এসে একটু বসেন। কফি দিই। দরকার হইলে এক চুমুক দিয়ে না হয় আর দিলেন না।
তিনি সুন্দর করে হাসলেন। আমার রুমে এসে বসলেন। আমি পা ছুঁয়ে সালাম করলাম। এ আমার পরম সৌভাগ্য।
গান নিয়ে, নজরুলকে নিয়ে অনেক কথা হলো। একটা পর্যায়ে বল্লাম, স্যার এই গানটা নজরুল মনে হয় আপনার কণ্ঠের জন্যই লেখেছিলেন। তিনি সুন্দর করে হাসলেন। বল্লেন কোন গানটা? আমি গানটা ছাড়লাম
যেদিন রোজ হাসরে করতে বিচার তুমি হবে কাজী
সেদিন তোমার দিদার আমি পাবো কি আল্লাহ জি।
এক দিক দিয়ে গান বাজছে। আরেক দিক দিয়ে খালিদ হোসাইনের দুই চোখ দিয়ে অঝর ধারায় পানি পড়ছে। তিনি পাঞ্জাবীর পকেট থেকে রোমাল বের করে চোখের পানি মুছেন। সেই চোখ আবার ঝাপসা হয়ে ওঠে। আবার তিনি রোমাল দিয়ে চোখ মুছেন।
আমার চোখ দিয়ে সহজে পানি পড়ে না। "আমি তোমায় দেখে হাজার বার দোযখ যেতে রাজি" লাইনটা শুনার পর প্রথমে কণ্ঠটা ভার হয়ে আসলো। এর পর দেখি চোখও ঝাপসা হয়ে আসছে।
আল্লাহ, কবি নজরুলের মত আমিও তোমায় দেখে হাজার বার দোযখ যেতে রাজি। আর এত সুন্দর করে যিনি এই গানটা গাইলেন। এই খালিদ হোসাইনকে আল্লাহ তুমি দেখা দিয়ে বেহেস্ত নসিব করো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

