ক্লিন বোল্ড হয়ে গেলাম। এর আগে একটা উদাহরণ দিতে হবে। উদাহরণ ছাড়া এই অপমান বুঝানো সম্ভব না।
ক্লাশে তিন বন্ধু দেরী করে ঢুকলো। টিচার বল্লো
- কি রে তোদের দেরী কেন?
এরা তিন জন সমস্বরে বল্লো
- স্যার একজন অন্ধকে রাস্তা পার করে দিলাম, তাই দেরী।
টিচার অবাক হয়ে বল্লো
- এক অন্ধকে পার করতে তিন জন লাগলো!
ছেলেগুলা বল্লো
- স্যার অন্ধ লোকটাতো রাস্তা পার হইতে চায় নাই! জোর কইরা রাস্তা পার কইরা দিলাম তিন জনে মিল্লা।
উদাহরণ শেষ। এবার আমার কাথা বলি। অপরিচিত একটা চা দোকানে বৃষ্টিতে আটকা পড়লাম। চায়ের অর্ডার দিলাম। খেয়াল করলাম, চা দোকানদার খুব গান পাগল মানুষ। মোবাইলে রুনা লায়লার গান শুনছে ফুল ভলিওমে। কিন্ত মোবাইলের স্পিকারের সাউন্ড আর কত হবে!
ভাবলাম, একটা ছোট্ট পানির বোতল দিয়ে একটা যাদু দেখাই। পানির বোতলের ঠিক মাঝ বরাবর কেটে তলার দিক ফেলে দিতে হয়। এরপর বোতলের মুখটা রাখতে হয় মোবাইলের স্পিকারের উপর। ব্যাস্, সাউন্ডটা বোতলের অর্ধেকে একটা হলো ইফেক্ট পায়। এতে সাউন্ডটা লাউড ও ক্লিয়ার হয়।
পকেটে সুইস আর্মি নাইফ (ম্যাগগাইভার ছুড়ি) আমার সব সময়ই থাকে। বল্লাম
- মামা, একটা পানির বোতল দেন। আপনার এই মোবইলের গান দেকবেন মাইকের মত বাজবো।
মামা খুব বিনয়ী একটা হাসি দিলো। বল্লো, পানির বোতল নাই মামা। থাক, চলবো।
প্রথমে ভাবলাম, ব্যাটা কি ভদ্রভাবে অপমান করলো! পরে গোয়ন্দা নজর দিয়ে দেখলাম, সত্যি সত্যি কোন পানির বোতল নাই। কতক্ষণ পর বল্লাম
- মামা কনডেন্সড মিল্কের ঐ খালি কৌটাটা দেন। এইটাতেই চলবো।
ব্যাটা এইবার বিনয়ের হাসিটা আরো বড় করে হাসলো। একটা চওখ টিপও দিলো। বল্লো
- বাদ দেন মামা। এমনিতেই অনেক সাউন্ড।
আগ বাড়ায়ে পিরিত দেখাইতে গেলে এমনই হয়। বৃষ্টি হালকা হালকা তখনো পড়ছে। দোকান থেকে বের হয়ে আসলাম। মনে মনে বল্লাম, অপমান! মামা'র মোবাইলের স্পিকার যেন আজকের মধ্যেই নষ্ট হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


