আজকেই প্রথম, আজকেই শেষ। আর না! বাপরে বাপ, রাইডেও মানুষ উঠে! রোলার কোষ্টারটা দেখতে আমার বেশ লাগতো। ভাগ্নির সাথে উঠলাম। ভালোই ভয় পাইলাম, হালকা একটু বুক ব্যথাও হইলো। আমার হার্টে কী যেন একটা সমস্যা আছে, ডাক্তারী ভাষায় এরে ST Elevation বলে। মনেমনে বললাম, রাইডে আর না। কতক্ষণ পর ভাগ্নি মহা উত্তেজিত সে ম্যাজিক কার্পেটে উঠবে। কিন্তু একজন সঙ্গী ছাড়া উঠা যায় না। কেবল মাত্র তার সখের দিকে তাকায়ে উঠলাম।
ম্যাজিক কার্পেট যখন চলা শুরু করলো, আমি নিশ্চিৎ আমার হার্ট এটাক হয়েছে, এবং আমি মারা যাবো। চুড়ায় উঠার পর যখন কিছুক্ষণের জন্য থামলো। আমার মনে হইলো, আমার সমস্ত শক্তি দিয়ে আমি বলি, আর না, আমারে নামান, আমি মরে যাচ্ছি। কিন্তু নিমিষের মধ্যেই আবার শুরু হইলো আপ/ডাউন।
রাইড থেকে নেমে বুক ব্যথায় বসে পড়লাম। বসা থেকে উঠার কিছুক্ষণ পর বমি করলাম। এমন বমি! ভিতরে আঁত, ওজুড়ি গুলা ছাড়া বাকী সব বের হয়ে গেলো। কিন্তু বুক ব্যতা কমে না। ধীরে ধীরে ব্যথা কিছুটা কমছে। এমন মৃত্যুঝুকিওয়ালা আনন্দের কোন মানে হয়! এরপরেও এমন রাইড ফাইডগুলা দুনিয়াজুড়া বিখ্যাত। কে জানে হয়ত লাইফে একবারের বেশী কেউ এইগুলায় উঠে না!
বমি করার সময় প্রিয়'র কাছ থেকে দূরে সরে গিয়েছিলাম, ও ভয় পাবে তাই। আমাদের প্রোগ্রামের লেলিন ছেলেটা এত মমতা নিয়ে সেবা করলো! মাথায় পানি ঢাললো, পকেট থেকে রোমাল বের করে ঘাড় মুছে দিলো। আমি আশাবাদী মানুষ। লেলিনের মত মমতাওয়ালা মানুষে ভরে উঠবে এই দেশ। নির্বাচণী সংঘাত করার মত, তনুকে ধর্ষণ, খুন করার মত একটিও মানুষও অবশিষ্ঠ না থাকুক।
তনু হত্যা নিয়ে আমি জাতির জন্য কোন আশার বাণী শোনাইতে পারি নাই। আমি ঐ দায়িত্বের বা ক্ষমতার লোক না। মনের কষ্টে কয়েক লাইন লেখতাম। এতেই আমার নিয়মতি লাইক দেওয়া কয়েকজন মানুষ ঝড়ে গেছে। শুধু বিপদে পড়লেই মানুষ চেনা যায়, বিষয়টা ঠিক না।
যাই হোক, নিতান্তই ব্যক্তগত ঘোরাঘুির কথাবার্তাকে বড় ইস্যুতে না নেই। খুব কাছের কিছু মানুষের জীবন থেকে দেখা অভিজ্ঞতা নিয়ে একটা কথা বলতে পারি-
পুরুষ মানুষ প্রেম করে হেন তেন কত ওয়াদা করে ভালোবাসার মানুষটিক ঘরে তোলে। ঘরে তোলে যে ঠিক বন্দী করে রাখতে চায় তা না। ঘরে এনে পুরুষেরা গৃহী হইতে চায়। আর নারী তার নিজের সংসার শুরু করার পর শুরু করতে চান ঘুরাঘুরি। পুরুষ মানুষ তখন বন্ধের দিন একঘন্টা বাসায় ঘুমাইলেও নারীরা মনে করেন, দুনিয়ায় সবচেয়ে খারাপ কপাল তার, সবচেয়ে ননরোমান্টিক মানুষটাকে বিয়ে করে সে এখন দুনিয়ার সবচেয়ে কষ্টে থাকা রমনী।
দুনিয়ার সমস্ত রমনীরা সুখে থাকুক।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১২:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


