তিনি লেখলেন, মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই / যেন গোর থেকেও মোয়াজ্জিনের আযান শোনতে পাই।
তিনি লেখলেন, শোনো শোনো ইয়া এলাহী আমার মুনাজাত। তোমারি নাম জপে যেন হৃদয় দিবস- রাত...
এমন কত শত ইসলামী গান! যে মুসলিম সমাজ ছিলো গানের বিরুদ্ধে। তারাও আব্বাসউদ্দীনের কণ্ঠে এইসব গান শোনে কেঁদে বুক ভিজালেন। আজ পর্যন্ত নজরুলের মত এমন হৃদয় কাড়া ইসলামী গান আর কেউ লেখতে পারেন নাই এই বাংলায়।
মুসলমানরা মনে করলেন কাজী নজরুল ইসলাম বুঝি ইসলামের কবি।
কিন্তু তিনি হিন্দুদের জন্যও লেখলেন, সখী সে হরি কেমন বল / নাম শোনে যার এত প্রেম জাগে, চোখে আসে এত জল...
তিনি কালী'কে নিয়ে লেখলেন, আমার কালো মেয়ের পায়ের তলায় / দেখে যা আলোর নাচন
কালী মা'কে নিয়ে লেখলেন, জগৎ জুড়ে জাল ফেলেছিস / শ্যামা তুই কি জেলের মেয়ে / (তোর) মায়ার জালে মহামায়া / বিশ্বভুবন আছে ছেয়ে।
হিন্দুরা মনে করলেন হিন্দু প্রমিলা দেবীকে বিয়ে করে নজরুল আসলে মনেমনে হিন্দু ছিলেন।
ওমা! এই নজরুলই লেখলেন, মিথ্যা শুনিনি ভাই / এই হৃদয়ের চেয়ে বড় মন্দির, কাবা নাই।
হিন্দু, মুসলিম কেউই তখন নজরুলকে নিজেদের আর দাবী করেনা। বলে, ও নাস্তিক।
কবি নাস্তিক, আস্তিক কী ছিলেন তা তিনিই ভালো জানতেন। তবে তার বিশ্বাসের কথা বলে গেছেন এই বলে
"সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই"
অর্থের হিসাব কোনদিনই ঠিকঠাক মত করে কবি জীবনে চলতে পারেন নাই। দুই হাতে কামিয়েছেন। ঘরে এনে টাকা দিতেন। আর তার শাশুড়ী চার হাতে খরচ করতেন। ঋণের দায়ে জর্জরিত কবি'র শেষ কালটা কেটেছে বড় কষ্টে। পাগল হয়ে গিয়েছিলেন। খাবার দাবার ফ্লোরে ফেলে তা চটকে মাথায় মাখতেন। শিকল দিয়ে বেঁধে ঘরে তালা দিয়ে পর্যন্ত রাখা হতো। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সসম্মানে এই কবিকে বাংলাদেশে নিয়ে আসলেন। সেবা দিলেন। চির শান্তিতে ঘুমিয়ে আছেন কবি এই বাংলাদেশেই।
যে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে গুরু বলে মানতেন। যার সামান্য দুই লাইনের চিঠিতে নজরুল জেলে বসে অনশন পর্যন্ত ভাঙ্গলেন। এই নজরুল কি জানতেন তার নিজের ছবি বাঙ্গালী এই রবীন্দ্রনাথের পাশেই স্থান দিবে? সবই সম্ভব হয়েছে ঐ ভালোবাসাটাও বেহিসাবীর মত তিনি বিলিয়েছেন জীবনভর, মানবতা'র প্রতি ভালোবাসা। এমন মানুষের মৃত্যু হয়? আজকের দিনে শুধু তিনি দেহ থেকেই বিদায় নিয়েছিলেন। বাঙ্গালীদের কাথ থেকে না। তিনি আছেন, থাকবেন। কবি কাজী নজরুল ইসলাম "জনম জনম তব তরে কাঁদিবো..."

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

